৮০ শতাংশ কাজ বাকি অক্সিজেন-হাটহাজারী সড়কের

0
72

হাটcad-1গত ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো ৮০ শতাংশ কাজ বাকি রয়ে গেছে অক্সিজেন-হাটহাজারী সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ। ১২৯ কোটি ৫১ লাখ ৮৭ হাজার টাকা ব্যয়ে অক্সিজেন মোড় থেকে হাটহাজারী পর্যন্ত ১২ দশমিক ৫ কিলোমিটার সড়কটি ৫০ ফুট চওড়া করার কথা ছিল।এই প্রকল্পে তিন বছরে টাকা এসেছে মাত্র ২১ কোটি টাকা অর্থাৎ ১৬ দশমিক ২৮ শতাংশ। নকি সড়কের দুই পাশ থেকে বৈদ্যুতিক পোল পর্যন্ত সরানো হয়নি। উল্লেখ্য প্রস্তাবিত সড়কের প্রশস্থতা ৮৫ ফুট থেকে সংকুচিত করে ৫০ ফুট করা হয় । এর পরও অর্থাভাবে কাজও চলছে শম্ভুক গতিতে।

চট্টগ্রাম শহর থেকে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় যাওয়ার একমাত্র সড়কটি ব্রিটিশ আমলের। এরপরে পাকিস্তানের ২৩ বছর ও স্বাধীন বাংলাদেশের ৪২ বছর ধরে সড়কটি ২৪ ফুট চওড়াই রয়ে গেছে। যার ফলে পাশাপাশি দুটি বড় গাড়ি আসা-যাওয়া করাটাই বেশ কঠিন। দিনদিন এই সড়কের গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে, বৃদ্ধি পেয়েছে যানবাহন চলাচল। কিন্তু বাড়েনি এই সড়কের প্রস্থ।পর্যটন জেলা রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি ছাড়াও রাউজান, হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই সড়ক দিয়ে চলাচল করেন।
তাই এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল ও চলাচলকারী জনসাধারণের দীর্ঘদিনের দাবি এই সড়ক প্রশস্ত করে চার লেনবিশিষ্ট করার। অবশেষে বর্তমান সরকারের প্রথমদিকে এই সড়ক প্রশস্ত করে চার লেনে উত্তীর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে এর জন্য একটি প্রকল্পও গ্রহণ করা হয়। কিন্তু সময়মত অর্থের যোগান না হওয়ায় এর কাজ মাঝপথে থেমে যায়। জানা গেছে, গত তিন বছরে এই প্রকল্পের জন্য টাকা পাওয়া গেছে মাত্র ২১ কোটি টাকা। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়া ও স্থানে স্থানে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কারণে দীর্ঘ তিন বছর ধরে এই সড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এর মধ্যে বেশ কয়বার বর্তমান যোগাযোগমন্ত্রী এই প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু যথাযথ অগ্রগতি হয়েছে বলে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে না।

শুধু এই সড়ক নয়, বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগরীর বেশ কিছু সড়ক মেরামত ও উন্নয়নের নামে বছরের পর বছর রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির ফলে নগরজীবনে পোহাতে হচ্ছে দীর্ঘ যানজট ও ধুলোবালির বিড়ম্বনা।

আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না একসাথে এত বেশি কাজে হাত দিয়ে পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থায় হ-য-ব-র-ল অবস্থা সৃষ্টি করা হলো কেন। বহদ্দারহাট মোড় থেকে কর্ণফুলী সেতু, চকবাজার, গণি বেকারি থেকে মুরাদপুর বলতে গেলে শহরের কোথাও না কোথাও সড়ক মেরামতের কাজ চলছে। কিন্তু কাজের ধীরগতির কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীদের পোহাতে হচ্ছে চরম বিড়ম্বনা।

অতীতে দেখেছি চট্টগ্রাম উন্নয়ন নিয়ে কোথায় যেন একটি শৈথিল্য কাজ করে প্রশাসন ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে। এরজন্যে দায়ী সরকারের ভেতরে চট্টগ্রাম বিদ্বেষী একটি মহল। আমরা জানি না চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এই গাফিলতির জন্য দায়ী কারা। তবে যারাই হোক এ ব্যাপারে এ অঞ্চলের জনপ্রতিনিধিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকা জরুরি।