পরিবহন ধর্মঘটে অচল চট্টগ্রাম বন্দর

0
30

নতুন সড়ক পরিবহন আইন স্থগিত রাখাসহ নয় দফা দাবিতে ডাকা অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের কবলে পড়ে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে। গতকাল বুধবার ভোর থেকে পণ্যবাহী কনটেইনার পরিবহন বন্ধ থাকায় চট্টগ্রাম বন্দরেও পণ্য খালাসে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। তাছাড়া ধর্মঘট ডাকা শ্রমিকদের বাধার মুখে মহাসড়কে চলাচল করতে পারেনি যাত্রীবাহি বাসও। এতে ফাঁকা হয়ে পড়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। চট্টগ্রাম বাস পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠন নেতারা জানান, আমরা পরিবহন ধর্মঘট ডাকিনি। পণ্য পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো ধর্মঘট ডেকেছে। কিন্তু তাদের বাধার মুখে মহাসড়কে বাস চলাচল করতে পারেনি। ফলে দুর্ভোগে পড়েছে যাত্রীরা।

যাত্রীরা জানান, চট্টগ্রাম মহানগরে বাস চলাচল করলেও ঢাকা-চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বাস চলাচল তেমন করেনি। এমনকি চট্টগ্রাম-রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম-কাপ্তাই ও চট্টগ্রাম বান্দরবান সড়কেও বাস চলাচল তেমন হয়নি। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম জানান, ধর্মঘটের কারণে বন্দরের ফটকগুলোতে ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান ও প্রাইম মুভার দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। কোনো রকম আমদানিপণ্য ডিপো থেকে পরিবহন করা হয়নি। রপ্তানিপণ্য পরিবহনও বন্ধ রয়েছে। ফলে বন্দরে জাহাজ থেকে নামানো কনটেইনার রাখার জায়গা ধীরে ধীরে কমে আসছে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজে পণ্য ওঠানামার কাজ চললেও আমদানি পণ্য পরিবহন না হওয়ায় বন্দরে কনটেইনার জট বাড়ছে। এতে খুব অল্প সময়ে বন্দরে পণ্য খালাসেও অচলাবস্থা সৃষ্টি হবে। এমনকি ডিপোগুলো থেকে পণ্য পরিবহন না হাওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক প্রায় ফাঁকা হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, বন্দরে রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার নেয়া হয় কনটেইনার ডিপো থেকে প্রাইম মুভার ট্রেইলারে করে। কিন্তু গতকাল বুধবার সকালে ডিপো থেকে রপ্তানি পণ্যবাহী গাড়ি বের হয়নি। যেসব জাহাজ বন্দর জেটি ছেড়ে যাওয়ার কথা, সেগুলোতে রাতেই রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার বোঝাই হয়েছে। আগামীকাল যেসব জাহাজ বন্দর জেটি ছেড়ে যাবে, সেগুলো রপ্তানি পণ্য বোঝাই করার জন্য বুধবার রাতেই ডিপো থেকে বন্দরে পাঠাতে হবে। না হলে রপ্তানি পণ্য পরিবহনও বন্ধ হয়ে পড়বে। কিন্তু প্রাইম মুভার ট্রেইলার শ্রমিকরাও ধর্মঘট পালন করছে।
প্রাইম মুভার ট্রেইলার শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সমপাদক আবু বকর সিদ্দিকী বলেন, কনটেইনার পরিবহনকারী গাড়ি প্রাইম মুভার ট্রেইলার চলছে না। শ্রমিকেরাও পরিবহন ধর্মঘট পালন করছেন। ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কোনোরকম পণ্য পরিবহন হচ্ছে না। এতে মহাসড়ক ফাঁকা হয়ে পড়েছে। যাত্রীবাহী বাস চলাচলে বাঁধা দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। তিনি জানান, নতুন সড়ক পরিবহন আইন স্থগিত রাখাসহ নয় দফা দাবিতে বুধবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘট ডেকেছে বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। এতে বাস মালিক-শ্রমিক সংগঠগুলোর সম্মতিও আছে। পরে এ ধর্মঘটে তারাও যোগ দেবেন। তিনি বলেন, নতুন সড়ক পরিবহন আইন সংস্কারের দাবিতে এর আগে সংবাদ সম্মেলন করে সরকারকে ৭ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছিল পরিবহন সংগঠনগুলো। কিন্তু তাতে সরকারের কোন সাড়া মেলেনি।

পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সমপাদক চৌধুরী জাফর আহমেদ বলেন, ধর্মঘটের কারণে বুধবার সকাল থেকে পণ্যবাহী কোনো ট্রাক বা কাভার্ড ভ্যান চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বের হয়নি। আবার বন্দরে যেসব গাড়ি রাতে ঢুকেছে, সেগুলো বন্দরেই রয়ে গেছে। চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব ওমর ফারুক বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে সমুদ্রপথে দেশের ৯৩ শতাংশ পণ্য পরিবহন হয়। আর কনটেইনার পরিবহন হয় ৯৮ শতাংশ। পরিবহন ধর্মঘটে এই বন্দরেই বেশি প্রভাব পড়ে। এই বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকা শক্তি। এই বন্দরের যে কোনো প্রভাব আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যসহ পুরো দেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করবেই।