অদৃশ্য এক ভাইরাসের সঙ্গে লড়াইয়ে একাট্টা বাংলাদেশ

0
64

নতুন এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি দেশ। বিশ্বব্যাপী অদৃশ্য এক ভাইরাসের সঙ্গে চলমান লড়াইয়ে বৃহস্পতিবার থেকে একাট্টা বাংলাদেশ। অঘোষিত লকডাউন চলছে দেশজুড়ে। চলবে আগামী ৪ঠা এপ্রিল পর্যন্ত। এই সময়ে সবাইকে ঘরে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সরকারের তরফে। মানুষের ঘরে থাকা নিশ্চিতে সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দোকানপাট-বিপণি বিতান, গণপরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে।

কেবল জরুরি সেবাসমূহ এই বিধি-নিষেধের বাইরে।

বিদেশ ফেরতদের ঘরে থাকা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে দেশজুড়ে কাজ শুরু করেছেন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। এলাকায় এলাকায় চলছে সচেতনতামূলক প্রচারণা। কভিড-১৯ নামের অদৃশ্য ঘাতকের ভয় আর আতঙ্কে গুটিয়ে গেছে জনজীবন। রাজধানী থেকে গ্রামের মেঠোপথ সর্বত্র জনশূন্য অবস্থা। সরকারের নির্দেশনা মেনে পারতপক্ষে ঘর থেকে বের হচ্ছে না কেউ। জরুরি প্রয়োজনে যারা বের হচ্ছে তারাও আবার ঘরে ফিরে যাচ্ছেন দ্রুততম সময়ে।

গতকাল সকাল থেকে ভিন্ন এক চিত্র রাজধানীতে। বুধবার রাত থেকে অনেকটা আঁচ করা যাচ্ছিলো যে অঘোষিত লকডাউনে যাচ্ছে ব্যস্ত এই নগরী। বিকাল থেকে ছিল মানুষের ঘরে ফেরার তাড়া। সকালে যারা প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হন তাদের চোখে নতুন এক দৃশ্য ধরা দেয়। ঈদ বা সাধারণ ছুটিতেও এমন ফাঁকা দেখা যায় না নগরীর সড়ক। অনেকটা জনশূন্য। যানবাহন নেই। হাতে গোনা দুই একটা রিকশা এদিক সেদিক যাচ্ছে। চালকদের সতর্ক দৃষ্টি। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোন সদস্যকে দেখামাত্র নিজেদের আড়াল করে নিচ্ছেন। অতি জরুরি প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়া মানুষদের ত্রাতা এই রিকশাচালকরা পৌঁছে দিচ্ছেন গন্তব্যে। তবে গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। বাড়তি ভাড়া নিলেও যাত্রী না থাকায় ঘর থেকে বের হওয়া এই রিকশা চালকদেরও ঝিমুতে দেখা যায় সড়কের মোড়ে মোড়ে। নগরীর প্রধান সড়কগুলোর এমন ফাঁকা চিত্র শেষ কবে দেখা গেছে তা অনেকের জানা নেই। দুই পাশের সব দোকান বন্ধ। মাঝে মাঝে নিত্যপণ্যের দোকান বা ফার্মেসি খোলা থাকলেও মানুষজন নেই। মাঝে মাঝে পুলিশ, সেনা বাহিনীসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার গাড়ির টহল দেখা যায় কোথাও কোথাও। এছাড়া এম্বুলেন্স ও পন্যবাহী দুই একটি পিকাপ ছাড়া সড়কে আর কোন যানবাহন দেখা যায়নি দু’একটা।

হরতাল বা অবরোধের মতো পরিস্থিতিতে সড়কে গণমাধ্যমের অনেক গাড়ি দেখা গেলেও করোনা মোকাবিলার এ ‘যুদ্ধ’ পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমেরও গাড়িও চোখে পড়েনি খুব একটা। যে কোন সঙ্কটে সব বন্ধ হয়ে গেলেও গণমাধ্যমের ওপর ভরসা রাখে মানুষ। খবর জানতে ছাপা পত্রিকা ও টেলিভিশনে চোখ রাখেন সবাই।