অন্যায় কাজের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করবো না

0
48

অন্যায় কাজের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করবো না, পাড়ায়-মহল্লায় যারা মাদক ও জুয়ার কারবারে জড়িত তাদের খুঁজে বের করে পুলিশে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন, আমরা জ্ঞাতসারে কোনো অন্যায় কাজের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করবো না। কোনোভাবেই সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ, মাদক এবং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হবো না। এসবের বিরুদ্ধে এখন যে অভিযান চলছে সেটাকে শতভাগ সমর্থন করবো।

শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৩তম জন্মদিন উপলক্ষে নগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত দোয়া, মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভায় মেয়র এসব কথা বলেন।

আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করার পর স্পষ্টভাষায় বলেছিলেন- তিনি সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ, মাদক এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চান। এসব অপকর্ম যারাই করুক, তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। যার প্রতিফলন ও প্রয়োগ আমরা এখন বাস্তবে দেখতে পাচ্ছি।

তিনি বলেন, কয়েকদিন আগেও এমন অবস্থা ছিল- জুয়াড়িদেরকে পরিবার পরিজন চোখে দেখত না। সারাদিন জুয়ার আড্ডায় কাটত তাদের বিভৎস জীবন। আজ শুদ্ধি অভিযানের কারণে বন্ধ হয়েছে জুয়ার স্পট। স্ত্রীরা ফিরে পেয়েছে তাদের স্বামী। সন্তানরা ফিরে পেয়েছে তার বাবা। তারা আজ সাধুবাদ জানাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীকে। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছে প্রধানমন্ত্রীর জন্য।

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে মেয়র বলেন, এখানে আমরা যারা আছি সবাই নগরের কোথাও না, কোথাও বাস করি। আমাদের এলাকায় কারা অপরাধমূলক কাজ করে বেড়াচ্ছে তাদের আমরা চিনি। না চিনলে তাদের খুঁজে বের করুন। অপরাধী যে দলেরই হোক তাকে খুঁজে বের করে পুলিশের হাতে তুলে দিন।

তিনি বলেন, আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক বিভিন্ন সময়ে দলের হাইব্রিড নেতাদের নিয়ে কথা বলেছেন। আজকে তার ভয়াবহ প্রভাব সমাজে আমরা পরিলক্ষিত করছি। কিন্তু এসব হাইব্রিড নেতাদের কুকর্মের লাগাম টানতে প্রধানমন্ত্রী শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করছেন। এ অভিযান থেকে কেউ রেহাই পাবেন না।

প্রধানমন্ত্রী যা বলেন, তা বাস্তবায়ন করেন

আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, প্রধানমন্ত্রী অন্তরে যা ধারণ করেন, সেই ধারনা মুখ দিয়ে প্রকাশ করেন। তিনি মুখ দিয়ে যা প্রকাশ করেন তা জীবন দিয়ে বাস্তবায়ন করেন। তার সাহসী নেতৃত্বেই বাংলাদেশ অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলছে।

মেয়র বলেন, মাত্র ১০ বছরে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে যে অবস্থানে নিয়ে গেছেন, সেখানে যাওয়াটা সহজ ছিলো না। এর আগেও অনেকে ক্ষমতায় ছিলেন। তারা পারেননি। কারণ তারা দেশকে শাসন করেননি। শোষণ করেছেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করছেন। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দিকে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, যার কারণে সারা বিশ্ব এখন অবাক হয়ে শেখ হাসিনার দিকে তাকিয়ে আছে। তাকে বিশ্বনেত্রী হিসেবে সম্মান করছে। এতো এতো উন্নয়ন, এতো এতো সাফল্য তিনি বাবার পরিচয়ে কিংবা সরকার প্রধান পরিচয়ে পাননি। পেয়েছেন নিজ যোগ্যতায়।

মেয়র বলেন, আজ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ৭৩তম জন্মদিন উদযাপন করছি আমরা। এইদিনে আমরা যারা আওয়ামী লীগ করি, আমরা যারা আওয়ামী পরিবারের সদস্য আছি, আমরা যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে অনুসরণ করি, আমাদের সৎ হওয়ার শপথ নিতে হবে।

‘আমাদের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে- আমরা মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করবো। দেশ বিরোধী সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে সোনার বাংলা বিনির্মাণে শেখ হাসিনার পাশে থাকবো। দেশকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক এবং দুর্নীতিমুক্ত করবো।’

নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সহ-সভাপতি ও সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ, নঈম উদ্দিন আহমদ, খোরশেদ আলম সুজন, অ্যাডভোকেট ইব্রাহীম হোসেন চৌধুরী বাবুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরী, এমএ রশিদ প্রমুখ।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উদযাপন :
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি চট্টগ্রাম জেলা শাখার উদ্যোগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ৭৩ তম জন্মদিন উপলক্ষে আজ শনিবার সন্ধ্যায় আন্দরকিল্লাস্থ সমিতির কার্যালয়ে কেক কাটা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। এ সময় সমিতির সভাপতি সালেহ আহমদ সোলায়মান, সহ সভাপতি মো. সাহাবুদ্দিন, আলহাজ্ব আবুল হাসেম, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ খোরশেদ আলম ও সমিতির নেতৃবৃন্দ আলহাজ্ব সগির, মো. নুরুল আবছার চৌধুরী, মো. ইলিয়াছ চৌধুরী, মো. সামসুদ্দিন, মো. লোকমান, মো. আকবর, এস এম কুতুব উদ্দিন, আনিসুর রহমান চৌধুরী, মো. সামসুদ্দিন আহমেদ, আবদুল খালেক ও ইলেকট্রনিক মার্কেট সমিতির সভাপতি মো. মধুসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।