অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স করেও ঢাবিতে মাস্টার্স করতে চাইলে

0
87

চাকরির পাশাপাশি স্নাতকোত্তর করতে চান অনেকেই। এই চাহিদার কথা মাথায় রেখে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ধ্যায় বা ছুটির দিনে স্নাতকোত্তরের ক্লাস চালু আছে। কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে, কী কী বিষয়ে স্নাতকোত্তর করা যায়? ভর্তির যোগ্যতা কী কী? খরচ কেমন হয়? যাঁরা এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন, এই প্রতিবেদন তাঁদের জন্য

পছন্দের শীর্ষে আইবিএ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) স্নাতকোত্তরসহ অন্য কোর্সগুলো চাকরিজীবীদের পছন্দের শীর্ষে। ব্যবসায় শিক্ষা, প্রকৌশল, কৃষি বা মেডিসিন বিষয়ে স্নাতক করা যে কেউ ন্যূনতম যোগ্যতা পূরণ করে এমবিএতে ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারেন।

এক বছরের ‘এক্সিকিউটিভ এমবিএ’ শুধু চাকরিজীবীদের জন্যই। সর্বনিম্ন তিন বছর চাকরির অভিজ্ঞতা থাকলে এই কোর্সে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়া যাবে। আইবিএতে চাকরিজীবীদের জন্য চার বছরব্যাপী ডক্টর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিবিএ) প্রোগ্রাম রয়েছে। এতে ভর্তি হতে হলে পাঁচ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা দরকার, এর মধ্যে দুই বছর জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করতে হবে।
ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সব কটি বিভাগেই দুই বছর মেয়াদি সান্ধ্যকালীন এমবিএ করার সুযোগ রয়েছে। চাকরির ফাঁকে এখানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিতে পারেন। অনুষদের অধীনে একযোগে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে এসব কোর্সে ভর্তি হওয়া যায়।

তবে এর বাইরেও চাকরিজীবীদের জন্য আলাদাভাবে কয়েকটি বিভাগ পেশাগত স্নাতকোত্তর কোর্স করায়। এর মধ্যে অ্যাকাউন্টিং ও ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ ‘অ্যাকাউন্ট্যান্সি ইন ট্যাক্সেশন’ ও ‘প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টিং’, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধীন ‘প্রফেশনাল হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট’, ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগে ‘ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যান্ড বিজনেস’ কোর্স করানো হয়। এ ছাড়া ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স, ফিন্যান্স ও মার্কেটিং বিভাগে প্রফেশনাল কোর্স আছে।
আরও যেসব বিভাগে পড়তে পারেন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধীন মাস্টার্স ইন গভর্নেন্স স্টাডিজ বিষয়ে স্নাতকোত্তর করানো হয়। এই স্নাতকোত্তর কোর্সের ক্লাস হয় শুধু শুক্র ও শনিবার। বছরে দুবার এই কোর্সে ভর্তি করা হয়।

চাকরিজীবীদের জন্য তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগেও সান্ধ্যকালীন স্নাতকোত্তর করার সুযোগ রয়েছে। উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত স্নাতকোত্তর কোর্সের ভর্তির আবেদন করা যাবে। ভর্তি পরীক্ষা হবে আগামী ৬ এপ্রিল। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধীন এক বছর মেয়াদি ‘সোসিওলজি অ্যান্ড সোশ্যাল পলিসি’ নামে স্নাতকোত্তর কোর্স রয়েছে।

অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড ক্রিমিনাল জাস্টিস বিষয়ে স্নাতকোত্তর করা যাবে। এ ছাড়া টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি, পপুলেশন সায়েন্স, দুর্যোগবিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ বৈকল্য, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, লোকপ্রশাসন, ইসলামিক স্টাডিজ, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট, ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজ ইনস্টিটিউট ও আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টিচিংসহ কয়েকটি কোর্সে সান্ধ্যকালীন স্নাতকোত্তর করতে পারেন।
বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়েও আছে পড়ার সুযোগ
ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধীনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর করানো হয়। দুই বছর মেয়াদি এই কোর্সে ভর্তির ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয়। শুক্র ও শনিবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ক্লাস হয়।

তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটে বছরে দুবার সান্ধ্যকোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। ছুটির দিনগুলোতে এখানে ক্লাস হয়। কম্পিউটার বিজ্ঞান, কম্পিউটার প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি, ইইই, ইসিই, ইটিই বিষয়ে স্নাতকধারীরা এখানে ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারেন। যাঁরা প্রকৌশল বা বিজ্ঞানের কোনো বিষয় থেকে স্নাতক করেছেন, তাঁরা ভর্তি হতে পারেন শক্তি ইনস্টিটিউটের দেড় বছরের স্নাতকোত্তর কোর্সে। এ ছাড়া, অণুজীববিজ্ঞান, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি, সমুদ্রবিজ্ঞান, নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং, থিউরিটিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটেশনাল কেমিস্ট্রি বিভাগে নিয়মিত স্নাতকোত্তর করার সুযোগ আছে।

ভর্তির প্রাথমিক যোগ্যতা
দেশি-বিদেশি, সরকার স্বীকৃত যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পর্যায়ের পড়াশোনায় দ্বিতীয় শ্রেণি বা ন্যূনতম সিজিপিএ-২.৫০ গ্রেড থাকলে এসব কোর্সে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারেন। বিভাগ অনুসারে এই ন্যূনতম সিজিপিএতে কমবেশি দেখা যায়। তবে ভর্তি পরীক্ষায় একটি ন্যূনতম নম্বর পেতে হবে। বিশেষায়িত ও কারিগরি বিভাগে পড়াশোনায় নির্দিষ্ট বিভাগের স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি থাকলে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন।
ভর্তির প্রক্রিয়া
এক বা দেড় বছর মেয়াদি কোর্সগুলোতে সাধারণত বছরে দুইবার, আর দুই বছর মেয়াদি কোর্সগুলোতে বছরে একবার ভর্তির আবেদন নেওয়া হয়। এ জন্য বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। পাশাপাশি যেসব বিভাগের নিজস্ব ওয়েবসাইট আছে, তাতে চোখ রাখতে পারেন।
ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট ইনস্টিটিউট বা ব্যাংক থেকে ফি জমা দিয়ে ভর্তির ফরম সংগ্রহ করেন। সাধারণত প্রতি সেশনে বিভাগভেদে ২০ থেকে ১০০ জন শিক্ষার্থী নেওয়া হয়। ভর্তি পরীক্ষায় নির্ধারিত বিষয়সহ ইংরেজি, বাংলা ও সাধারণ জ্ঞানের ওপর প্রশ্ন থাকে। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ছাত্রছাত্রীদের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত করা হয়।
পড়াশোনার খরচ
বিভাগভেদে স্নাতকোত্তরে ভর্তির জন্য খরচে ভিন্নতা দেখা যায়। ভিন্ন ভিন্ন কোর্সে, বিভিন্ন বিভাগ অনুসারে সর্বনিম্ন এক লাখ টাকা থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।

বিস্তারিত জানতে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইট ও বিভিন্ন বিভাগ বা ইনস্টিটিউটের নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে ভর্তির যোগ্যতা, নিয়মাবলি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।