‘অপারেশন ম্যাক্সিমাস’ শনিবার সকাল পর্যন্ত স্থগিত

0
3

শনিবার সকাল পর্যন্ত মৌলভীবাজারে বড়হাটের জঙ্গি আস্তানায় অভিযান স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘অভিযান চলমান আছে। তবে অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় আগামীকাল সকাল পর্যন্ত অভিযান স্থগিত করা হয়েছে। সকালে আবহাওয়া ভাল থাকা সাপেক্ষে অভিযান শুরু করা হবে।’

শুক্রবার সন্ধ্যায় মৌলভীবাজারে ‘অপারেশন ম্যাক্সিমাস’ বিষয়ে সাংবাদিকদের তিনি এই তথ্য জানান।

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আপনারা জানেন, অভিযানটি সকাল থেকে চলমান ছিল। অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় অভিযান স্থগিত করা হয়েছে। অভিযান আগামীকাল সকালে শুরু হবে।’

তিনি বলেন, ‘জঙ্গিরা ভেতর থেকে কিছু বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। আমাদের সোয়াট দলটি যখনই ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেছে, তখনই জঙ্গিরা ভেতর থেকে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। আমরা ধারণা করছি প্রচুর পরিমাণ বিস্ফোরক রয়েছে তাদের কাছে। অপারেশনটি অপেক্ষাকৃত একটু জটিল। যে বাড়িটিতে তারা অবস্থান নিয়েছে, সেই বাড়িতে অনেক কক্ষ রয়েছে এবং একটি নির্মাণাধীন ভবন রয়েছে। এ কারণে এই অভিযান শেষ হতে সময় লাগবে। বাড়িটি ঘিরে রাখা হয়েছে।’

এর আগে মৌলভীবাজারের বড়হাট এলাকার জঙ্গি আস্তানায় ‘অপারেশন ম্যাক্সিমাস’ চালায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সোয়াত টিম। এই অভিযানে তারা ড্রোন ব্যবহার করে দেখেছেন, বাড়িটির ভেতরে প্রচুর বিস্ফোরক ছড়ানো-ছিটানো রয়েছে। একাধিক জঙ্গির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

দিনভর গুলাগুলি ও বিস্ফোরণ: বড়হাটের জঙ্গি আস্তানায় শুক্রবার সকাল ৯টা ৫৬ মিনিটে অভিযান শুরু করে সোয়াত সদস্যরা। অভিযান শুরু পর ওই এলাকায় বোমার শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। দুপুর সাড়ে ১২টার পর গুলি টানা গুলির শব্দ পাওয়া যায়। দুপুর পৌনে ১টার দিকে ১০ মিনিট ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে বিকট শব্দে দুবার বিস্ফোরণ ঘটে। সাড়ে ৪টা থেকে ফের ৫ মিনিট গুলাগুলি শুনা যায় এবং ৪টা ৩৩ মিনিট এবং ৫টা ৭ মিনিটে ফের বিকট আকারে দুটি বিস্ফোরণ ঘটে।

কৌতুহলি জনতার ভির, পুলিশের তাড়া: বড়হাট আস্তানায় সোয়াতের অভিযান চলছে শুনে সকাল থেকেই উৎসুক জনতা ভিড় জমাতে থাকেন। সিলেটের আতিয়া মহলের মতো অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে উৎসুক জনতাকে ভিড় করতে দেয়া হয়নি। আইনশৃঙ্খলাকারী বাহিনী উৎসুক জনতাকে তাড়িয়ে দেয়।

শহরজুড়ে তল্লাশি: মৌলভীবাজার শহরের প্রবেশের প্রতিটি রাস্তায় বসানো হয়েছে তল্লাশি। এছাড়া শহরজুড়ে রয়েছে ভ্রাম্যমাণ তল্লাসি টিম। কাউকে সন্দেহ হলেই তল্লাশি করছে তারা। তল্লাশি ছাড়া শহরে কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না।