অল্প খরচে কোয়ারেন্টিন সেন্টারের নকশা ২ প্রকৌশলীর

0
84

পৃথিবীজুড়ে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে বাংলাদেশে সরকারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের সাধ্যমতো কাজ করছে। আমাদের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশনের ব্যবস্থা করা। এই সমস্যা সমাধানে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের ২কে১৩ ব্যাচের মাহফুজ-বিন-মঈন স্বপ্নীল ও বিল্ডিং ইঞ্জিয়ারিং ও কনস্ট্রাকশন ম্যানেজমেন্ট বিভাগের তানবিবুর রহমান তুনান মিলে গত ৩ দিন ধরে তাদের প্রকৌশলী জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে অভিনব পদ্ধতিতে ডিজাইন করেছেন কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা।

সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে তরুণ এই প্রকৌশলীরা বলেন, চিকিৎসা শাস্ত্রে কোনো ধরনের জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকতে পারে এমন আশঙ্কায় থাকা কোনো ব্যক্তিকে অন্যদের কাছ থেকে আলাদা রাখার যে পদ্ধতি, তাকেই বলা হয় কোয়ারেন্টিন। আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন মানুষের জন্য বাংলাদেশে এখন যে পরিমান কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা আছে তা যথেষ্ট না। ভবিষ্যতের কথা ভেবে এবং এই মহামারির জন্য আগের থেকে প্রস্তুতি স্বরূপ আমাদের এখন প্রয়োজন অল্প জায়গায়, স্বল্প খরচে মানুষের জন্য কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা করা।

তারা জানান, বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ ৩টি। ১. অধিক ঘনবসতি ২. স্বল্প জায়গা ও অল্প খরচে কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা করা।

তারা যে নকশা তৈরি করেছেন তা একটি সার্কুলার সেপে তৈরি আইসোলেটেড রুম, যার প্রধান ম্যাটেরিয়াল প্লাইউড অথবা প্রয়োজনে খরচ কমাতে বিকল্প হিসেবে পিভিসি ক্যানভাস। একটি সেটাপে ১৫ জনকে রাখা যাবে এবং যার জন্য যায়গা লাগবে দেড় কাঠা। এটা এমনভাবেই বানানো হবে যাতে কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তিকে বের হতে না হয়। সব রুমের ভেতরের দিকেই থাকবে টয়লেট এবং গোসলের ব্যবস্হা। সম্পূর্ণ ব্যবস্থা তৈরিতে খরচ হবে মাত্র ৩ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ মাথাপিছু খরচ হবে ২০ হাজার টাকা।

তারা জানান, আমাদের লক্ষ্য একই সাথে ২৫০ জনের জন্য ব্যবস্হা করা যাতে সম্পূর্ণ প্রজেক্ট নামাতে খরচ হবে পঞ্চাশ লক্ষ টাকা। আর এই কাজটি সম্পন্ন করতে সময় লাগবে মাত্র ১০-১৫ দিন।

ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আমাদের উচিৎ এখনই সতর্ক হওয়া, এই স্বল্প আয়ের অধিক বসতি পূর্ণ দেশের জন্য। তাই সহজে এবং স্বপ্ল খরচে নির্মাণযোগ্য এই মডেলটি হতে পারে করোনা রোধে দেশের অন্যতম বড় হাতিয়ার।

প্রকৌশলী দুই জন বলেন, আমরা আমাদের এই নকশাসহ পরিকল্পনাটি আজ কালকের মধ্যে বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও খুলনা সিভিল সার্জনের কাছে উপস্থাপন করবো।

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ-উজ-জামান বলেন, তরুণদের আবিষ্কার বদলে দিচ্ছে বিশ্ব। তরুণ প্রকৌশলীরা সর্বদাই নিমগ্ন থাকেন নতুন কিছু আবিষ্কারের জন্য, নতুন কিছু একটা পৃথিবীর সামনে নিয়ে আসবার জন্য। যেখানে পিছিয়ে নেই আমাদের দেশের তরুণ প্রকৌশলীরাও। এর ধারাবাহিকতায় কুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী মাহফুজ-বিন-মঈন স্বপ্নীল ও তানবিবুর রহমান তুনান অল্প জায়গায়, স্বল্প খরচে মানুষের জন্য কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনা দিয়েছেন। এটা একটি ভালো পরিকল্পনা। সরকারের উচিত সম্ভাবনাময় নতুন এই দুই প্রকৌশলীর পরিকল্পনা যাচাই বাছাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।