অ্যাপে কলিংয়ের আরও ৬ অনুমোদন

0
82

মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর ব্যাপক আপত্তির পরও অ্যাপভিত্তিক ভয়েস কলিং সেবা চালুর অনুমোদন পেয়েছে ছয় দেশি কোম্পানি।

এর আগে আরো ছয়টি লাইসেন্স দিয়েছে বিটিআরসি। ফলে সব মিলে এখন অ্যাপভিত্তিক কলিং সেবা দেওয়ার অনুমোদন পেল ১২ কোম্পানি।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সর্বশেষ কমিশন বৈঠকে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি) লাইসেন্স আছে এমন ছয় কোম্পানিকে এ সেবা চালুর অনুমোদন দেয়।

কোম্পানিগুলো হলো-বিটিএস কমিউনিকেশন, রেইস অনলাইন, সিস্টেমস সল্যুশন অ্যান্ড টেকনোলোজি, এডিএন টেলিকম, অগ্নি সিস্টেমস এবং সরকারি কোম্পানি বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)।

আরো দুটি কোম্পানির আবেদন থাকলেও এইচএন টেলিকমের কোনো সেবা বর্তমানে চালু না থাকায় এবং ফিউশন নেট জোনাল আইএসপি হওয়ায় তাদেরকে নতুন সেবার জন্য বিবেচনা করা হয়নি বলে সূত্র জানায়।

কোম্পানিগুলো চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে আবেদন করলেও মূলত মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর আপত্তির কারণে এ বিষয়ে বিটিআরসি খুব একটা এগুচ্ছিল না।

এ ধরনের সেবা দিতে ২০১৭ সালে সবার আগে আবেদন করে নভোকমের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইন্টারক্লাউড লিমিটেড। গত বছরের শেষ দিকে ইন্টারক্লাউড তাদের ব্রিলিয়ান্ট অ্যাপ চালু করে এবং বেশ সাড়া পায়।

তারা ভালো করায় আরও পাঁচ কোম্পানি লাইসেন্স পায়।হোয়াটসঅ্যাপ-ভাইবারের মতো অ্যাপগুলোতে ইন্টারনেট ব্যবহার করে শুধু অ্যাপ হতে অ্যাপে কথা বলা যায়।

সেবাটির জন্যে অনুমোদন পাওয়া অন্য কোম্পানগুলো হল- আম্বার আইটি, বিডিকম অনলাইন, মেট্টোনেট বাংলাদেশ ও লিংক থ্রি টেকনোলজি এবং আইসিসি কমিউনিকেশন্স।

এই কোম্পানিগুলো সেবাটি চালুর অনুমোদন পেলেও একমাত্র ইন্টারক্লাউড ছাড়া আর কেউ সেবাটি চালু করেনি।

এক্ষেত্রে উদ্যোক্তারা মোবাইল অপারেটরদের আপত্তির কারণে বিটিআরসি’র কাছ থেকে চূড়ান্ত ছাড়পত্র না পাওয়াকে বিলম্বের কারণ বলে ব্যাখ্যা দেয়।

শুরুতে বিটিআরসি’র দিক থেকে বলা হয়েছিল, আবেদনপ্রাপ্তি সাপেক্ষে দেশের সব আইপি টেলিফোনি সেবাদাতাদের অ্যাপভিত্তিক কলিং সেবা চালুর অনুমোদন দেওয়া হবে। দেশে এখন আইপিটিএসপি সেবার জন্য ৪১ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইপিটিএসপিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাপে ভয়েস কল সেবা দিতে শুরু করলে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর আয়ে প্রভাব পড়বে। সে কারণে তারা এর বিরোধীতা করছে।

এ অ্যাপ চালুর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় শর্ত হিসেবে কোনো বিদেশি কল- ইনকামিং বা আউট গোয়িং পরিচালনা করা যাবে না। তাছাড়া সেবাটি অবশ্যই বিটিআরসির আইনগত ইন্টারসেপশন মেনে চলতে হবে।

একই সঙ্গে তাদেরকে প্রতিটি গ্রাহকের তথ্য সংগ্রহে রাখতে হবে এবং পাঁচ কোটি টাকা ব্যাংকে জামানত রেখে সেবা পরিচালনা করতে হবে।