আজ বড়দিন

0
91

আজ শুভ বড়দিন। ২০১৯ বছর আগে বেথলেহেম নগরীর এক গোয়ালঘরে এই দিনে জন্ম নিয়েছিলেন খ্রিষ্টধর্মের প্রবর্তক যিশু। বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীর খ্রিষ্টান সম্প্রদায় আজ মহান যিশুখ্রিষ্টের পবিত্র জন্মদিন উদ্‌যাপন করছে। তবে দিনটি শুধু খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের জন্য নয়, সব মানুষের জন্যই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

ভ্রাতৃত্ব, সেবা, ভালোবাসা, সহমর্মিতা, উদারতা, কৃতজ্ঞতাবোধ—এসব মানবিক গুণ অর্জনের জন্য মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে গেছেন ঈশ্বরের এই প্রেরিত পুরুষ। যিশু এসেছিলেন সমগ্র মানবজাতির ত্রাণকর্তা হিসেবে। তিনি হিংসা, বিদ্বেষ, পঙ্কিলতার পথ থেকে মানুষকে উদ্ধার করেছেন।

যিশু যে মানবিক আদর্শের বাণী প্রচার করে গেছেন, তা সর্বকালে জাতি-ধর্মনির্বিশেষে সবার জন্য প্রযোজ্য ও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর আহ্বান ও আত্মত্যাগ ছিল সব অশুভ ও অসুন্দরের বিরুদ্ধে। তাঁর সাধনা ও জীবনাদর্শ ছিল শুভ ও সুন্দরের পক্ষে। যিশু পিপাসার্তকে পানি পান করিয়েছেন, ক্ষুধার্ত মানুষকে খাবার দিয়েছেন, আর আর্তপীড়িতকে সেবা দিয়ে সুস্থ করে তুলেছেন। আমরা স্মরণ করতে পারি, ধর্মের বাণী প্রচারের সময় অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন যিশু। তা সত্ত্বেও তিনি নিপীড়কের বিরুদ্ধে পাল্টা আঘাতের কথা বলেননি, ক্ষমা করে দিয়েছেন। মানুষকে ভালোবাসা ও মানবতাকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দিতে গিয়ে তিনি ক্রুশবিদ্ধ হয়ে আত্মত্যাগের নজির স্থাপন করেছেন। ক্ষমাই ছিল যিশুর জীবনাদর্শ।

যিশু যে শান্তি ও কল্যাণের কথা বলেছেন, তা থেকে আজকের পৃথিবী অনেক দূরে। দেশে দেশে, জাতিতে জাতিতে হানাহানি, অশান্তি ও সংঘাত। এ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে তাঁর শান্তির বাণী ও জীবনদর্শন আমাদের পাথেয় হতে পারে।

বড়দিন বা যিশুখ্রিষ্টের পবিত্র জন্মতিথিতে আমরা বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বের খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানাই। সেই সঙ্গে ধর্ম-বর্ণ-জাতিনির্বিশেষে গোটা মানবজাতিরই কল্যাণ ও মুক্তি কামনা করি। যিশু যেমন তাঁর জীবন দিয়ে অন্যায়-অত্যাচার, শোষণ থেকে মুক্ত করেছিলেন মানুষকে; যেভাবে মানুষের সব শোক-দুঃখের ভার গ্রহণের জন্য আত্মত্যাগ করেছিলেন; তেমনই মানুষের মধ্যে মুক্তি ও ত্যাগের চেতনা ছড়িয়ে পড়ুক। বড়দিন প্রত্যেক মানুষকে শান্তি, প্রেম ও সম্প্রীতিতে উদ্বুদ্ধ করুক। পৃথিবী থেকে দূর হোক হিংসা ও অশান্তি। শুভ বড়দিন।