আর পানি মাড়িয়ে লাশ পার করতে হবেনা

0
81

গর্জনিয়ায় পানি মাড়িয়ে লাশ পার করা সেই কবরস্থানের জন্যে সড়ক নির্মানের উদ্যোগ নিলেন রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রনয় চাকমা। গতকাল সোমবার দুপুরে ইউনিয়নের শিয়াপাড়ায় অবস্থিত কবরস্থানটির সেই
চলাচল পথটি পরিদর্শন করেন তিনি। আর ঘোষনা দেন সড়কটি নির্মানের। এ সময় তার সাথে ছিলেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের একজন প্রকৌশলী এবং গর্জনিয়া ইউনিয়নের ৩ ওর্য়াড মেম্বার আবদুল জাব্বার সহ অনেকেই।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পার্শবর্তী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মোজাহের আহমদ গত ১৫ ফেরু্রয়ারী মারা গেলে তার মরদেহ শিয়াপাড়ার কবরস্থানে পানি মাড়িয়ে আনতে হয়েছিলো। বিষয়টি বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ হলে প্রশাসন অবগত হন বিষয়টি। তারা নানাভাবে খোজঁখবর নেন ঘটনার বিষয়ে। এর পর অপেক্ষায় থাকে এলাকার লোকজন। কেননা আবার কেউ মারা গেলে একই ঘটনার পূনরাবৃত্তি যেন না ঘটে। যে চিন্তা সেই কাজ। গত ২ মার্চ উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ঘটনাস্থলে আসলেন। উদ্যোগ নিলেন সড়কটির ব্যাপারে।
গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার আবদুল বলেন,সেই পানি মাড়িয়ে মুক্তিযোদ্ধা মোজাহের আহমদ ওরফে মুজারুর লাশ পার করতে কষ্টের খবর সংবাদ পত্রে আসার পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বার বার খোঁজ খবর নেন তার কাছ থেকে। সর্বশেষ তিনি ঘটনাস্থলে এসে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিলেন সোমবার দুপুরে। তিনি বিষয়টি সরেজমিন দেখলেন। আর ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলেন এলাকাবাসীকে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণয় চাকমা বলেন,আসলে এ কবরস্থানটি অনেক বড়। বেশ ক’গ্রামের মানুষের জন্যে এটি। তৎমধ্যে রামুর গর্জনিয়া ইউনিয়নের আর পার্বত্য নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের লোকজন ফিফটি ফিফটি অংশ এখানে কবরস্থ করেন তাদের স্বজনদের। এ নিয়ম অনেক দিনের। এখানে গর্জনিয়ার মানুষ যে সড়ক ব্যবহার করেন এটি ঠিক আছে। কোন সমস্যা নেই।
কিন্তু বাইশারী ইউনিয়নের অংশটির যাতায়াতের বা মুর্দা আনার জন্যে কোন সড়ক নেই। পানি মাড়িয়ে আনতে হয়। তা-ও দীর্ঘ দিনের সমস্যা। কেউ উদ্যোগ নেন নি এতো দিন। তবু রামু উপজেলার জনগনের জন্যে সরাসরি না হলেও মানবিক কারণে সড়কটি নির্মানের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। কেননা এ সড়কটি হবে ্‌দু ইউনিয়নের জন্যে সংযোগ সড়ক। সাধারণ লোকজন অনেক উপকৃত হবে এতে।
উল্লেখ্য শিয়াপাড়া সহ ৫ গ্রামের কয়েক হাজার লোক দীর্ঘ দেড়শ বছর ধরে এ কবরস্থানটিতে তাদের স্বজনদের দাফন করে আসছিলো। কিন্তু এতো দিন আলোচনায় তেমন আসেনি এ বিষয়টি। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা মুজাহের আহমদ মারা গেলে সেই পানি মাড়িয়ে লাশ পার করানোর ঘটনাটি ভাইরাল হয় দেশব্যাপী। আর এভাবে রামু উপজেলা্‌ নির্বাহী অফিসারের
দৃষ্টি আকর্ষনের পর গত সোমবার সড়কের এ অংশ নির্মানের উদ্যোগ নেয়ায় এলাকার কয়েক হাজার মানুষ তাকে ( উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণয় চাকমাকে) সাধুবাদ জানান।