ঈদ উপলক্ষে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা ৩

0
145

মির্জা ইমতিয়াজ শাওন::  ইতোমধ্যে মহানগরী ছেড়ে গেছে কয়েক লাখ মানুষ। অফিস-আদালত বন্ধ। রাস্তায় যানবাহনের চাপও কমে গেছে। তবে বিপরীত চিত্র মার্কেট এলাকায়। মার্কেট ঘিরে সড়কে যানজট। ঈদ বাজারে মানুষের ভিড়। সকাল থেকে সেহেরী পর্যন্ত প্রতিটি মার্কেট, শপিংমল, বিপণী কেন্দ্র খোলা থাকছে। বেচা-বিক্রি বেড়ে যাওয়ার খুশি বিক্রেতারাও। শেষ সময়ে এসে অনেকে দাম ছেড়ে দিচ্ছেন। কিছুটা কম দামে জিনিসপত্র কিনতে পারছেন ক্রেতারা। এতে উভয়ে খুশি।
সারাদেশের বিপনীবিতানগুলোর মতো ঈদ উপলক্ষে শেষ মুহুর্তের কেনাকাটায় জমজমাট চট্টগ্রামের মার্কেট সমূহ। কেউ সপরিবারে, কেউ সবান্ধবে বেরিয়ে পড়েছেন ঈদের কেনাকাটা সারতে। আর তাই উপচেপড়া ভিড় অভিজাত ব্র্যান্ডশপ, বুটিক হাউস থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকানগুলোতেও। চারদিকে চলছে কেনাকাটার উৎসব। মার্কেটেই এখন ক্রেতাদের উপচেপড়া ভীড়। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা। এবছর দেশীয় কাপড়ের পাশাপাশি রয়েছে বিদেশী কাপড়ে চাহিদাও। রোজা শেষ প্রান্তে, তাই বিক্রেতারাও কাটাচ্ছেন ব্যস্ত সময়। গতকাল সকাল থেকেই উপচে পড়া ভিড় ছিল নগরের বিপণিকেন্দ্রগুলোতে। নগর ঘুরে দেখা গেছে, অভিজাত শপিং মল থেকে শুরু করে ফুটপাত সবখানেই ক্রেতার ভিড়।

মহানগরীর নিউমার্কেট, রেয়াজুদ্দিন বাজার, আমীন সেন্টার, সানমার ওশান সিটি, মিমি সুপার মার্কেট, আফমি প্লাজা, মুন্নি সুপার, শপিং কমপ্লেক্স, গুলজার টাওয়ার, মতিটাওয়ার, কোয়ারী, চকসুপার মার্কেট, লাকিপ্লাজা, সাউথল্যান্ড সেন্টার, ব্যাংকক সিঙ্গাপুর মার্কেট, আখতারুজ্জামান সেন্টার, সিঙ্গাপুর সুপার মার্কেট, বে-শপিং সেন্টার, মহাজন টাওয়ারসহ নগরীর ছোটবড় শতাধিক মার্কেট এখন জমজমাট।
প্রসাধনী ও গয়নার দোকানেও উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে তরুণীরা গয়না কিনছেন। রাম-লীলা নামের নতুন আসা ঝুমকার কদর এবার বেশি বলে জানান আফমি প্লাজায় অবস্থিত গয়নার দোকান ‘অফেলিয়া’র পণ্য তত্ত্বাবধায়ক আবদুল্লাহ আল মামুন।
এরইমধ্যে প্রায় সবারই ঈদের পোশাক বাছাই করা হয়ে গেছে। তবে নারীদের জামার সাথে তাদের চাই মানানসই গহনাও। আর গহনা ছাড়া কি পূর্ণতা পায় ঈদের সাজ। ফ্যাশন হাউজগুলোও ঈদ উপলক্ষে গহনার কালেকশন বাজারে নিয়ে এসেছে। আর তাই কেনাকাটার শেষপর্বে চলছে পোশাকের সাথে মিলিয়ে এখন গহনা কেনার ব্যস্ততা।

ফ্যাশন হাউজগুলোতে পিতল, ব্রোঞ্জ, অক্সিডাইস, পার্ল প্রভৃতি ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করে তৈরি করেছে আধুনিক ফ্যাশনেবল অলঙ্কার। এসব গহনায় রঙিন সুতা, ডোকারার ব্যবহারের মাধ্যমে যোগ করা হয়েছে নতুন মাত্রা। সেই সাথে থাকছে বড় রঙিন স্টোনের কারুকাজ। সুতা দিয়ে ডিজাইন করা হয়েছে চুড়ি ও গলার মালায়। ছোট ও বড় সিঙ্গেল লকেট গেঁথে দেয়া হচ্ছে নানা রঙের সুতায়।
নগরীর ইউনুস্কো সিটি সেন্টার, নিউ মার্কেট, মিমি সুপার মার্কেট,শপিং কমপ্লেক্স, আফমি প্লাজা, সানম্যার ওশান সিটিতে গিয়ে দেখা গেল জুয়েলারির শপ গুলোতে এন্টিক-সিলভার ও কালার ম্যাচিং গহনার খুঁজছে নারীরা। জামা বা শাড়ির সঙ্গে গহনা মিলিয়ে তারা এন্টিক কিংবা জিঙ্ক গহনা মিলিয়ে নিচ্ছেন। শপিংমলগুলোতে ইমিটেশন জুয়েলারির বিশাল কালেকশন দেখা যায় বেশ। এখানেও পুঁতির নানা ধরনের গহনাও দেখা যায়। লম্বা মালা, চিক, দুল, চুড়ি থেকে শুরু করে কোমরবন্ধ পর্যন্ত পাওয়া যায় পুঁতির তৈরি। তবে এসব গহনা প্রতি খুব আকর্ষণ রয়েছে নারীদের কাছে।
জিইসি মোড়ের ইউনুস্কো সিটি সেন্টার আছে জুয়েলারি শিল্পের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড। এখানে নুস রিং,লকেট, হিয়ার রিং, ডায়মন্ড লেজার কাট চুড়ি,ফেন্সি চুড়ি, ডায়মন্ড সেটে রয়েছে বৈচিত্র্যময় রুচিশীল আভিজাত্যের ছোয়াঁ। এই প্রসঙ্গে ব্রাঞ্চ ম্যানেজার গৌতম সরকার বলেন, ক্রেতার হাতে আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন ও অত্যাধুনিক ডিজাইনের জুয়েলারি পণ্য তুলে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেই সঙ্গে বিক্রয়ত্তোর সেবা রয়েছে। এখন এই শো-রুমে ডায়মন্ড জুয়েলারি পণ্যের উপর রয়েছে ৩০% ছাড়। এছাড়া চলছে ব্রাইডাল অফার। এই ফেয়ার থেকে ডায়মন্ড, গোল্ড ও প্লাটিনাম জুয়েলারির নিত্য নতুন ডিজাইনের গহনা কেনার এ দুর্লভ সুযোগ রয়েছে। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে রয়েছে স্ক্রেচ কার্ড অফার যাতে গোল্ড কয়েনসহ রয়েছে আকর্ষনীয় অনেক পুরস্কার।
ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডে গহনা কিনতে আসা প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী আনজুম বলেন, ঈদের জন্য কেনা পোশাকের সাথে ম্যাচিং করে লকেট, কানের দুল, কয়েকগাছি মোটা চুড়ি নিলাম। সেই সাথে ওয়েস্টার্ন ড্রেসের সাথে মিলিয়ে কানের টপ । গলার জন্য লম্বা চেইনের সাথে ছোট্ট একটা লকেট পছন্দ করলাম।

আবার আফমি প্লাজা গহনা কিনতে আখি বলেন , এখন গোল্ড প্লেটেড গহনা বাজারে দাপটে চলছে। আমাদের মত মধ্যম আয়ের মানুষ যারা তারা তাদের শখটা সেভাবে পূরণ করতে পারে না। তাদের জন্য গোল্ড প্লেটেড গয়না সে শখটা খুব অনায়াসেই পূরণ করতে পারে। গোল্ড প্লেটেড গয়না পড়ে বিয়ে থেকে সব অনুষ্ঠানেই মানুষ খুব স্বাচ্ছন্দেই পড়ছে। মার্কেটে এখন এত্ত সুন্দর সুন্দর গোল্ড প্লেটেড গহনা আসছে যে কোনটা গোল্ড প্লেটেড আর কোনটা গোল্ডের সেটা আর আলাদাভাবে চেনা যায় না। এখন তরুণীরা অকেশনালী লম্বা বা বড় ইয়ার রিং পছন্দ করছে।
এই ঈদে কেমন গহনা পড়বে এই নিয়ে ফ্যাশন ডিজাইনার শাদ ইরশাদ বলেন, এবারের ঈদে এই রোদ এই বৃষ্টির এক আনাগোনা হয়তো থাকবে। তাই ঈদ, বৃষ্টি, গরম সব মিলিয়ে এ সময়ে গয়নাটা একটু বুঝে শুনে পড়লে ভাল হয়। তবে গহনাটা সম্পূর্ণই নির্ভর করে পোশাকের উপর। সাধারণত সালোয়ার কামিজে এক ধরণের গহনা, ওয়েস্টার্ন পোশাকের সাথে এক ধরণের গহনা ভাল লাগে আর শাড়ীর সাথে রয়েছে ভিন্ন।
শেষ মুহুর্তে ঈদ বাজারে টুপি আতর সুরমা-তসবি কেনাকাটা করে যাচ্ছেন ক্রেতারা। বাজারে এসেছে তুর্কি টুপি, আফগান টুপি ও দেশীয় টুপিসহ সুতা দিয়ে হাতের কারু কাজ করা তৈরী টুপি। তবে সাদা টুপি বিক্রি হচ্ছে বেশী৷ সবাই সাধ ও সাধ্যের মধ্যে টুপি ক্রয় করতে পাচ্ছে। টুপি বিক্রেতা শিপন ও টুকু জানান, টুপি বিক্রিতে লাভ কম। তবুও বাজারে বেশী বিক্রি হচ্ছে। মার্কেট ছাড়াও ফুটপাতে মৌসুমি দোকান সাজিয়ে রেখেছে টুপি আতর সুরমা বিক্রি করা সম্ভব।
নগরীর আগ্রাবাদ কমার্স কলেজ রোড়,নিউমার্কেট, রেয়াজুদ্দিন বাজার, গুলজার টাওয়ার, মতি টাওয়ার, আন্দরকিল্লা জামে মসজিদ, মেহেদীবাগ মসজিদের সামনে আর জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদের সামনে ভ্যানগাড়ীতে সহ নগরীর ছোটবড় শতাধিক মার্কেটের সামনে হকাররা বসেছে টুপি, আতর কেনাবেচার হাট।
তবে বৃষ্টির কারণে বিক্রেতাদের কিছুটা সমস্যা হচ্ছে, মালামাল ভিজে যাচ্ছে। আবার ক্রেতারাও বৃষ্টিতে ভিজে কেনা কাটা করতে গিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। নগরীর আন্দরকিল্লা ও চকবাজারে দেখা গেছে টুপি ও আতরের দোকান গুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। ঈদে নতুন কাপড়ের সাথে নতুন টুপির চাহিদাও কম না।তবে আন্দরকিল্লা জামে মসজিদের সামনে ভ্যানগাড়ীতে পসরা সাজানো দোকানদার আকরাম বলেন , শেষ মুহুর্তে বৃষ্টির কারণে এবার বাজার কিছুটা মন্দা। তবুও ঈদের প্রয়োজনীয় এই অনুষঙ্গ টুপি আর আতর না হলে যেন ঈ সম্পুর্ণ হয়না। তাই অনেকে এটি কিনে তবেই বাড়ি ফিরবেন।

এক ক্রেতা ফাহিম বলেন, ঈদের নামাজে নতুন পাঞ্জাবির সাথে মিল রেখে টুপি আর একটু আতরের সুবাস না হলে যেন অপূর্ণতা থেকে যাবে ঈদ আনন্দ। তাই ঈদের সার্বিক কেনাকাটার পাশাপাশি টুপি, আতর যেন অপরিহার্য।
আবার জুবিলী রোড়ের ফুটপাতে দোকানদার কদম বললো একই কথা ,বৃষ্টি বাদলে বেচাকেনা কমে গেছে। ঈদ জামাতে অংশ নিতে টুপি আতর না হলে যেন নয়। তবুও বৃষ্টি উপেক্ষা করে অন্য কেনাকাটা শেষ করে বাড়ী ফেরার পথে টুপি আতর কিনে নিয়ে যাচ্ছেন নিজের জন্য এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য।
এ ছাড়া টুপি, জায়নামাজ, আতরও বেশ ভালো বিক্রি হচ্ছে। দেশি ও বিদেশি টুপি পাওয়া যাচ্ছে ৭০-৮০০ টাকার মধ্যে। জায়নামাজ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০০ টাকায়।