উত্তর চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আসছে

0
233

মির্জা ইমতিয়াজ শাওন/মোঃ মহিন উদ্দীন :: উত্তর চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আসছে। চট্টগ্রামের সঙ্গে ফটিকছড়ি, খাগড়াছড়ির যোগাযোগ সহজ ও সাচ্ছন্দময় করতে চট্টগ্রামের হাটহাজারী-নাজিরহাট-ফটিকছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের সাড়ে ৩২ কিলোমিটার অংশে ১৮ ফুট প্রস্থের সড়ককে ৩৪ ফুট প্রস্থে সম্প্রসারণ কাজ শুরু হয়েছে। এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।

রবিবার বিকেল ৫টায় হাটহাজারী বাসস্টেশন জিরো পয়েন্টে তিনি প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ কাজের উদ্বোধন করেন। এ সময় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ২ বছর মেয়াদের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার কথা থাকলেও দেড় বছরের মধ্যে সড়কটির সম্প্রসারণ কাজ সম্পন্ন হবে।

হাটহাজারী-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তর চট্টগ্রামের মানুষের যাতায়ত ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাগব হবে। তাছাড়া চট্টগ্রামের সঙ্গে ফটিকছড়ি, খাগড়াছড়ির যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আসবে। চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কে যানজট হলে বিকল্প সড়ক হিসেবে হাটহাজারী-খাগড়াছড়ি হয়ে ঢাকা এবং একইভাবে কম সময়ের মধ্যে ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি-ফটিকছড়ি-হাটহাজারী হয়ে চট্টগ্রাম যাতায়াত করা সম্ভব হবে। আন্তঃজেলার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলে কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে কৃষিভিত্তিক পণ্য পরিবহনও সজহ হবে।

সড়ক ও জনপথ সূত্রে জানা গেছে, ইস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট (ইবিবিআইপি)-এর আওতায় সড়কটির উন্নয়ন কাজ শুরু হবে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ও র‌্যাব আর সি এ উন্নয়ন কাজ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করবে। প্রকল্পের অধীনে বর্তমানে বিদ্যমান ১৮ ফুট প্রস্থের সড়কটি সম্প্রসারণ করে ৩৪ ফুটে উন্নীত করা হবে। হাটহাজারী বাসস্টেশন জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু করে নাজিরহাট-ফটিকছড়ির হেয়াকো-মানিকছড়ি-মাটিরাঙা-খাগড়াছড়ি পর্যন্ত ৩২ দশমিক ৫০ কিলোমিটার সড়কটি তিন লেনে উন্নীত করা হবে।

এ সড়কে নির্মাণ করা হবে ৩০৮ মিটারের ৩৮টি আরসিসি কালভার্ট। মোট ৪টি প্যাকেজে এ কাজ সম্পন্ন হবে। এর মধ্যে প্যাকেজ-১ এর আওতায় হাটহাজারী থেকে সরকারহাট বাজার পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার সড়ক ও ৯টি কালভার্টের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৯১.৮৭ কোটি টাকা। প্যাকেজ-২ এর আওতায় সরকারহাট থেকে নাজিরহাট পর্যন্ত ৮ কি. মি সড়ক ও ১৩টি কালভার্টের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৭.৯৩ কোটি টাকা। প্যাকেজ-৩ এর আওতায় নাজিরহাট-বিবিরহাট পর্যন্ত ৮ কি. মি সড়ক ও ১১টি কালভার্টের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৭.৩৬ কোটি টাকা।

প্যাকেজ-৪ এর আওতায় বিবিরহাট-আর্মি ক্যাম্প চেকপোস্ট ধলই চা বাগান পর্যন্ত ৮.৫ কি.মি সড়ক ও ৫টি কালভার্টের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৩.৩১ কোটি টাকা। সড়ক-বাঁধ প্রশস্ত করতে ব্যবহার হবে ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৫০৫ দশমিক ৬ ঘনমিটার মাটি। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় মহাসড়কটিতে রোড সাইন-সিগন্যাল, গাইড পোস্ট, রোড মার্কিংসহ সড়ক নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজ রবিবার হাটহাজারী বাসস্টেশন চত্বরে সড়ক সম্প্রসারণ কাজের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার আহমেদ। অনান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মাসুম, হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) রুহুল আমিন, উত্তরজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইউনুচ গণি চৌধুরী, চেয়ারম্যান সমিতির সভাপতি ও ২ নং ধলই ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর জামান।

এ সময় হাটহাজারী কলেজের অধ্যক্ষ মির কফিল উদ্দিন, নাজিরহাট কলেজের অধ্যক্ষ নুরুল হুদা, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তার বেগম, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ নেতা জসিম উদ্দিন শাহ, উত্তর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বাসন্তি প্রভা পালিত, আওয়ামী লীগ নেতা শাহানেওয়াজ চৌধুরী, উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি লায়ন মো. মহিউদ্দিন, উপজেলা জাতীয় পাটির সাধারণ সম্পাদক লোকমান সিকদার, মহানগর জাতীয় পার্টির সহসভাপতি আনিসুল ইসলাম চৌধুরী, মির্জাপুর উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আকবর হায়দার চৌধুরী, ফতেপুর ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. শামীম, সাংসদের একান্ত সহকারী সচিব সৈয়দ মঞ্জুরুল আলম মঞ্জুসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, রাজনৈতিক দল নেতৃবৃন্দ, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।