এসি-ফ্যান-কুলারের চাহিদা বেড়েছে

0
443

শীতের শেষে উষ্ণতা বাড়ার সাথে সাথে প্রথাগত নিয়মে বাড়ছে এসি-ফ্যান-কুলারের মতো শীতলীকরণ যন্ত্রের।স্বাভাবিক নিয়মে নিম্ন-মধ্যবিত্তরা চোখ রাখছেন বৈদ্যুতিক পাখার দিকে। উচ্চবিত্তরা কিনছেন এয়ার কন্ডিশনার (এসি)। সাথে রয়েছে লেটেস্ট ফ্রিজের চাহিদাও।

 

প্রকৃতিতে শীতের শেষে দিন যতই পার হচ্ছে ততই বাড়ছে তাপের প্রখরতা। একই সঙ্গে বাড়ছে লোডশেডিংয়ের অত্যাচারও। আর এ অসহনীয় গরম থেকে বাঁচতে মানুষের চেষ্টা অফুরন্ত।

 

মার্কেট, ও বিভিন্ন শোরুম ঘুরে দেখা গেছে, চার্জার ফ্যানের দিকেই ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি।

 

ধনী-গরিব কমবেশি সবাই ঘরে এক-দুটি চার্জার ফ্যান কিনছেন। বিভিন্ন আকার ও বৈশিষ্ট্যের এসব ফ্যান বিক্রি হচ্ছে ২৫০০ থেকে ৫০০০ টাকায়। ফিয়াট, ডিফেন্ডার, ওসাকা, নোভা, কেনেডি, সানকা, সিবেক, কোনিওন, ওয়ালটনসহ নানা ব্র্যান্ডের ফ্যান বাজারে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের দাবি, একবার চার্জ দিলে এক নাগাড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টা চলবে এইসব ফ্যান।

 

তবে অপেক্ষাকৃত ধনীরা অবশ্য সমানে ছুটছেন এসির দোকানে। এসি সাধারণত দুই ধরনের হয়, উইন্ডো ও স্পিল্ট। এর মধ্যে স্পিল্টের চাহিদা ও বিকিকিনি সবচেয়ে বেশি। এসি বিক্রি হয় ওজনের হিসাবে, ব্র্যান্ডভেদে দামও ভিন্ন ভিন্ন হয়। কত ওজনের এসি লাগাতে হবে তা নির্ভর করে ঘরে বা রুমের ক্ষেত্রফল বা আয়তনের ওপর। ১৫০ বর্গফুট ক্ষেত্রফল পর্যন্ত ঘরে একটন এসি দিয়ে দিব্যি আরামে থাকা যায়। এসব এসির দাম পড়বে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত। ২০০ বর্গফুটের ঘরে দেড় টনের এসি লাগাতে হবে, যার দাম পড়বে ৬০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত। দুই টনের এসির দাম পড়বে ৮০ হাজার থেকে এক লাখ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। বাজারে প্যানাসোনিক, জেনারেল, ওয়ালটন, এলজি, র‌্যাগস, স্যামসাং নানা নামী ব্র্যান্ডের এসি বেশি বিক্রি হচ্ছে।

 

এ দুঃসহ গরমে অপেক্ষাকৃত নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের সহায় সিলিং ও টেবিল ফ্যান। বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টেবিল ফ্যান এক হাজার থেকে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে প্যানাসনিক ও কেডিকের মতো ব্র্যান্ডের ফ্যানের দাম অপেক্ষাকৃত বেশি। সিলিং ফ্যান বিক্রি হচ্ছে দেড় হাজার থেকে ৬ হাজার টাকায়। এক্ষেত্রে কেবি, হ্যাভেলসের মতো বিদেশি ফ্যানের দিকেই ক্রেতারা বেশি ঝুঁকছেন।

 

 

বেশি বাতাস না হলে যাদের শরীর ঠাণ্ডা হয় না, তারা কিনছেন বিভিন্ন সাইজের স্ট্যান্ড ফ্যান। এর মধ্যে জিএফসির বেশ নাম ডাক। আকার ভেদে এসব ফ্যানের দাম সাড়ে তিনহাজার থেকে সাত হাজার পর্যন্ত। এছাড়া দেয়ালে টাঙ্গানো যায় এমন ফ্যান বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকায়।

 

ফলে ইলেকট্রনিক্সের মার্কেটগুলো এখন ক্রেতাসমাগমে মুখরিত। গরমের তীব্রতা যত বাড়বে, ততই বেচাকেনা আরো জমজমাট হবে বলে মনে করছেন দোকানিরা। তাই ক্রেতা আকর্ষণের জন্য তৈরি হচ্ছেন তারা। নামিদামি ব্র্যান্ডের শোরুমগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেচাকেনায় এগিয়ে চলেছে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে যাদের বাজেট একটু বেশি তারা বিদেশি ভালো কোম্পানির জিনিসের দিকেই নজর দিচ্ছেন।

 

এসব পণ্যের চাহিদা মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে দেশীয় কোম্পানিগুলো। সাপ্লাই-চেইন নির্বিঘ্ন রাখতে নিজস্ব কারখানায় উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। বেড়েছে মজুতও।

 

জানা গেছে, বাজারে নতুন নতুন মডেলের এসি ও ফ্যান ছাড়ছে ওয়ালটন। নতুন এসেছে এনার্জি সেভিং ইন্টেলিজেন্ট ইনভার্টার টেকনোলজির দেড় টনের এসি। আপকামিং মডেলের তালিকায় রয়েছে ৪ ও ৪.৫ টনের সিলিং টাইপ এবং ৩.৫ টন ও ৪ টনের ক্যাসেট টাইপ এসি। ওয়ালটনের এসি বিপণন বিভাগের ইনচার্জ আবদুল বারী বলেন, চলতি বছর এসির সিংহভাগ বাজার দখলের লক্ষ্যে গতবারের চেয়ে ৫৭ শতাংশ বেশি এসি বিক্রির টার্গেট নেয়া হয়েছে। বাজারে রয়েছে দেশের আবহাওয়া উপযোগী সঠিক বিটিইউ (ব্রিটিশ থারমাল ইউনিট) সম্পন্ন অসংখ্য মডেলের এসি। এর মধ্যে আছে ৬৫ হাজার টাকা মূল্যের ১.৫ টনের ইন্টেলিজেন্ট ইনভার্টার প্রযুক্তির এসি। চলতি মাসেই ইন্টেলিজেন্ট ইনভার্টার প্রযুক্তির ২ টনের এসিও আসছে, যা সাধারণ এসির তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎসাশ্রয়ী।

 

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এসির কনডেনসারে অ্যান্টি করোসিভ হাইড্রফিলিক গোল্ডেন কালার ফিন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে ওয়ালটন। এতে এসি হবে আরও বেশি টেকসই। ৩৫ হাজার টাকায় ১ টন, ৪৩,৯০০ টাকায় ১.৫ টন এবং ৫৪ হাজার টাকায় ২ টনের ওয়ালটন এসি পাওয়া যাচ্ছে।

 

ওয়ালটনের প্রোডাক্ট লাইনে যুক্ত হয়েছে আকর্ষণীয় কালার ও ডিজাইনের নতুন মডেলের সিলিং, টেবিল, রিচার্জেবল, দেয়াল ও প্যাডেস্টাল ফ্যান। সিলভার, ক্রিম হোয়াইট ও বস্নু কালারের ৪টি মডেলের সিলিং ফ্যান, ৩ মডেলের টেবিল ফ্যান, ৪টি করে মডেলের প্যাডেস্টাল ও এগজাস্টেড ফ্যান ইত্যাদি। ওয়ালটন ফ্যানের প্রোডাক্ট ম্যানেজার ইবনে জাবেল বলেন, এবার দেশের বাজারে ১৪ লাখ ফ্যান বিক্রির টার্গেট নিয়েছেন তারা। এর মধ্যে ৮ লাখ সিলিং ফ্যান, ৩ লাখ টেবিল এবং দেয়াল ফ্যান, রিচার্জেবল ও প্যাডেস্টাল ফ্যান প্রতিটি এক লাখ করে বিক্রির টার্গেট।