এ সময়ে পেশা : সাইবার সিকিউরিটি ইঞ্জিনিয়ার

0
51

প্রযুক্তি বিশ্বে প্রতিনিয়ত আসছে পরিবর্তন। বাড়ছে প্রযুক্তি পণ্যের সুবিধাদি। একই সঙ্গে বাড়ছে তথ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি। সাইবার জগৎ সম্ভাবনার উৎস সবার জন্যই।

যদিও আলোর পথে, সম্ভাবনার পথেই হাঁটছে সবাই। কিন্তু থেমে নেই অপরাধ পরিক্রমাও। সাইবার অপরাধের শিকার হচ্ছে সরকার, কর্পোরেট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে ছোট-বড় সব আর্থিক ও বাণিজ্যিক সংস্থাও।

তথ্য নিরাপত্তা ও এন্টিভাইরাস প্রস্তুতকারক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ক্যাস্পারস্কি ল্যাবের দেয়া তথ্যানুসারে, প্রতি ৪০ সেকেন্ডে কোথাও না কোথাও সাইবার অ্যাটাক হচ্ছেই।

২০১৮ সালে সাইবার হামলার কিছু পরিসংখ্যান

শুধু ২০১৮ সালেই ঘটে যাওয়া তথ্য বেহাতের কিছু সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে- ১৭ মার্চ ২০১৮ ফেসবুকের ৮৭ মিলিয়ন গ্রাহকের তথ্য ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারিতে বেহাত হয়ে যায়।

৩ এপ্রিল ২০১৮ জোকারস্ট্যাশ সিন্ডিকেট নামক এক হ্যাকিং গ্রুপ ৫ মিলিয়ন ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের তথ্য বিক্রয়ের ঘোষণা দেয়। ৩১ মে ২০১৮ ফিটনেস অ্যাপ পাম্পআপের ৬ মিলিয়ন ব্যবহারকারীর তথ্য হ্যাকিংয়ের ফলে বেহাত হয়ে যায়। ৭ জুন ২০১৮ অজ্ঞাতনামা হ্যাকার আক্রমণ করে ক্যালিফোর্নিয়ার দৈনিক পত্রিকা দ্য স্যাক্রেমেন্টো বির সার্ভারে। ১৯.৫ মিলিয়ন ভোটসংক্রান্ত তথ্য ও ৫৩ হাজার গ্রাহকের ব্যক্তিগত ডেটা পুনরায় ফিরিয়ে দেয়ার বিনিময়ে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

হ্যাকিং বলতে আসলে কী বুঝায়?

সারা বছরজুড়ে ঘটেছে হ্যাকিংয়ের এমন অসংখ্য ঘটনা। কিন্তু হ্যাকিং বলতে আসলে কী বুঝায়? এ সম্পর্কে অনেকের মনেই রয়েছে অস্পষ্ট ধারণা। হ্যাকিং হচ্ছে একটি সিস্টেম বা নেটওয়ার্কের মধ্যে দুর্বলতা শনাক্তকরণ এবং ব্যবহার করার প্রক্রিয়া যা তথ্যভাণ্ডার বা সিস্টেমের নিরাপত্তা ভেঙে অননুমোদিত অ্যাক্সেস লাভ করতে পারে।

যে কোনো সিস্টেমকে ইচ্ছামতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তথ্য পাচার করতে পারে সবার অলক্ষ্যে ও গোপনে। হ্যাকার নানা ধরনের হতে পারে। প্রচলিত হ্যাকারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নাম শোনা যায় ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার, হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার ও গ্রে হ্যাট হ্যাকারদের। এছাড়াও রয়েছে স্ক্রিপ্ট কিডি, গ্রিন হ্যাট, ব্লু হ্যাট ও রেড হ্যাট হ্যাকার।

এথিক্যাল হ্যাকিং কী?

এথিক্যাল হ্যাকিংয়ের অন্য নাম পেনেট্রেশন টেস্টিং। একজন এথিক্যাল হ্যাকার কোনো প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক ও সিস্টেমের দুর্বলতা খুঁজে বের করে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করে ও অননুমোদিত অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ করে।

আর্থিক তথ্য, রাষ্ট্রীয় স্পর্শকাতর তথ্যভাণ্ডার, নেটওয়ার্ক ও সিস্টেমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে তাদের রক্ষা করাও এথিক্যাল হ্যাকিংয়ের কাজ। এথিক্যাল হ্যাকিং এক্সপার্ট পেশাজীবনে ক্যারিয়ার হিসেবে যেসব পেশা বেছে নিতে পারেন তার মাঝে রয়েছে- সিকিউরিটি অ্যানালিস্ট, সিকিউরিটি আর্কিটেক্ট, সিকিউরিটি ইঞ্জিনিয়ার, সিকিউরিটি এডমিনিস্ট্রেটর, ক্রিপ্টোগ্রাফার ইত্যাদি।

সাইবার সিকিউরিটি ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার সুযোগ

হ্যাকারদের অপরাধ রুখতে প্রতিনিয়ত প্রতিষ্ঠানগুলোয় চলছে এথিক্যাল ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞের নিয়োগ। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। ইতিমধ্যে বাংলদেশ ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি ইনডেক্সে অর্জন করেছে ৭৩তম রাষ্ট্র হিসেবে নিজের অবস্থান। গ্লোবাল সাইবার সিকিউরিটি ইনডেক্সে অবস্থান করছে ৫৩তম অবস্থানে।

একজন সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্টের বেতন নির্ধারিত হয় তার পেশাভিত্তিক দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও সার্টিফিকেশনের আলোকে। এ প্রসঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও ডিজিটাল টাইমসের কর্ণধার মিনহার মহসিন বলেন, একজন এথিক্যাল হ্যাকার সাধারণত দক্ষতার ভিত্তিতে যেসব আন্তর্জাতিকমানের সার্টিফিকেট অর্জন করেন তার মধ্যে রয়েছে- CompTIA Security+, Certified Ethical Hacker (CEH), EC-Council Certified Security Analyst (ECSA), Certified Information Systems Security Professional (CISSP) ইত্যাদি।

কোথায় শিখবেন

বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানেই আজকাল এথিক্যাল হ্যাকিং বিষয়ে আগ্রহীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। প্রজন্ম আজ এ চ্যালেঞ্জিং পেশায় আসতে যথেষ্ট আগ্রহী। ভবিষ্যৎ পেশাদারীদের এথিক্যাল হ্যাকিংয়ে পারদর্শী করতে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ডিজিটাল টাইমস। এথিক্যাল হ্যাকিংয়ে আগ্রহীরা যোগাযোগ করতে পারেন ডিজিটাল টাইমস, বাড়ি নং ৮/এ/১০, সড়ক-১৩, ধানমণ্ডি ঢাকা-১২০৯, এই ঠিকানায়। অথবা গুগলের http://bit.ly/DT-CS এই ফরম পূরণ করলে তারাই আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করবে।