ওয়াগ্যায়াই পোয়ের শেষ দিনে ফানুসের আলোয় আলোকিত রাতের আকাশ

0
9

ওয়াগ্যায়াই পোয়ে অনুষ্ঠানের শেষ দিনে ফানুসের আলোয় আলোকিত রাতের আকাশমারমাদের ঐতিহ্যবাহী প্রধান ধর্মীয় উৎসব ওয়াগ্যই পোয়ে( প্রবারনা উৎসব) বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ফানুস উড়ানোর মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। তিন দিন ব্যাপি আযোজিত অনুষ্ঠানে ছিল বৌদ্ধ বিহারে পিন্ড দান,দলবেদে পিঠা তৈরী কারা, প্রবারনা পূর্ণিমা উপলক্ষে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ ও সর্বশেষ ফানুস উড়ানো। ওয়াগ্যায়াই পোয়ে উৎসবটি প্রতিবছর মহা আনন্দে ও উৎসব মূখর পরিবেশে উদযাপন করে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ভুক্ত মারমারা। পাহাড়ে বসবাসরত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী অন্যান্যে সম্প্রদায় এ ধর্মীয় উৎসবটি প্রবারনা উৎসব হিসেবে পালন করলেও মারমা সম্প্রদায় আলাদা ভাবে এটিকে ওয়াগ্যায়াই পোয়ে হিসাবে উদযাপন করেন।
গেল বছর ২৯ সেপ্টেম্বর রামুসহ বিভিন্ন এলাকায় বুদ্ধ পল্লীগুলোতে হামলার ঘটনার জের ধরে পার্বত্য বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে প্রবারণা পূর্ণিমা পালিত না হলেও এ বছর মহা ধুমধামের সাথে প্রবারণা পূর্ণিমা পালিত হয়েছে । টানা ৩ দিনের এ অনুষ্টানে আনন্দ উৎসবে মেতে উঠেছিল পুরো বৌদ্ধ সম্প্রদায়। ১৮ অক্টোবর সঙ্গদানের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে ২য় দিন প্রীতি ফুটবল ম্যােেচর আয়োজন করা হয়। ২০ অক্টোবর ফানুস বাতি উড়ানোার মধ্য দিয়ে নাইক্ষ্যংছড়িতে প্রবারণা পূর্ণিমার সমাপ্তি ঘটে। ২০ অক্টোবর সন্ধ্যার পর পরই নাইক্ষ্যংছড়ির মারমা পাড়ায় আয়োজন করা হয়েছে ফানুস উড়ানোর মহা উৎসব। রাতের আধাঁরে শত শত ফানুসের বর্ণিল আলোয় আলোকিত হয়ে উঠে রাতের আকাশ। বিভিন্ন ধর্ম বর্ণের হাজার হাজার মানুষ এই ফানুস উড়ানোর উৎসবে যোগ দেয়।
সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতির পূণ্যভূমি পূরাকীর্র্তি সমৃদ্ধ এলাকা নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অনুষ্ঠানে অন্যান্য ধর্মীয় স¤প্রদায়ের উলেখযোগ্য উপস্থিতির মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে নাইক্ষ্যংছড়িতে জাতিগত কোন ভেদাভেদ নেই। একটি মাত্র সহিংস ঘটনায় বৌদ্ধদের শত বছরের স¤প্রীতি বিনষ্ট হবেনা। নাইক্ষ্যংছড়ি মারমা পাড়ায় সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক পাইচ অং মার্মা। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ জামিল বলেন, বর্তমানে এ এলাকায় মুসলিম, হিন্দু, বুদ্ধ সবার মাঝে সম্প্রীতির বন্ধন বিরাজমান। তার প্রমান এ বছর ঈদ উল আজহা, দুর্গা পূজা ও প্রবারণা পূর্ণিমার মত ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের অনুষ্ঠানগুলো একই সাথে পারস্পরিক সম্প্রীতির মাধ্যমে পালিত হয়েছে । বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, নাইক্ষ্যংছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম পি.পি.এম. উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ ফিজানুর রহমান, আওয়ামীলীগ নেতা অধ্যাপক শফিউল্লাহ, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি উফোছা মার্মা, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক তসলিম ইকবাল চৌধুরী, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা মং শৈ প্রু চৌধুরী, সদর ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক ফাহিম ইকবাল খাইরু, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক চুচুমং মার্মা, যুবলীগ নেতা আলী হোসেন প্রমূখ।