কর্মকর্তারা বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হয়ে রিপোর্ট জমা দিতে পারবেন না

0
5

দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ই-মনিটরিং সিস্টেম চালু করা হচ্ছে। কোনো কর্মকর্তা আর বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হয়ে কাগজে-কলমে রিপোর্ট জমা দিতে পারবেন না।
বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল এসব কথা বলেন।

প্রাথমিক শিক্ষায় সুশাসন নিশ্চিতকরণে চট্টগ্রাম বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় প্রধান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

নগরীর প্রাইমারি টিচার ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) অডিটোরিয়ামে সভাপতির বক্তব্যে ড. মো আবু হেনা মোস্তফা কামাল আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় পরিবার। সরকারের রাজস্ব খাত থেকে আমরা ১৪ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী বেতন পাই। এর মধ্যে ৪ লাখ ৬ হাজার হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে জাতিরপিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধ বিধবস্ত বাংলাদেশে প্রথমেই প্রাথমিক শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে কাজ করেছেন। জাতির পিতার দূরদর্শী জ্ঞানগরিমায় যুদ্ধ বিধবস্ত দেশে তদানিন্তন ৩৭ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে একসাথে সরকারিকরণ করেছিলেন। সংবিধানে প্রাথমিক শিক্ষাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করেছিলেন। সেই থেকে বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষার যাত্রা শুরু।

বর্তমানে প্রাক-প্রাথমিক এবং প্রাথমিক স্তরে ২ কোটি ১৭ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, মাঠ পর্যায়সহ অধিদপ্তরে কর্মরত ৬ হাজার, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক ৩ লাখ ৫৭ হাজার, সরকারি –বেসরকারিসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজার। যেখানে বৃহৎ ব্যবস্থাপনা থাকে, সেখানে অনেক অন্তর্নির্হিত বিষয় থাকবে। তাই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা এখন অত্যন্ত জরুরি। দেশের ২ কোটি ১৭ লাখ পরিবারের সন্তানদের আমরা মানুষ করতে দায়িত্ব নিয়েছি। প্রতিটি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট স্বপ্ন রয়েছে। সেই শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন লালনকারী প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। আমরা ব্রান্ডিং করার চেষ্টা করছি ‘বাংলাদেশের উন্নয়নের বাতিঘর, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

তিনি আরও বলেন, আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে আমাদের কাজ করতে হবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে আমাদের অনেক বিদ্যালয় রয়েছে। যেখানে কর্মকর্তারা খুব একটা পরিদর্শনে যান না। এক্ষেত্রে শিক্ষার মানের বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়টি মাথায় রেখে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মত ই-মনিটরিং চালু করতে যাচ্ছি। এ অর্থবছরের মধ্যে সারা বাংলাদেশে একসাথে তা চালু করা হবে। কাজ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। কোন কর্মকর্তা বিদ্যালয়ে স্বশরীরে না গিয়ে কাগজে কলমে রিপোর্ট দিতে পারবেন না। আগের মত ৪ থেকে ৫ পৃষ্ঠার ছক পূরণ করে আর প্রদর্শনীর রিপোর্ট দিতে হবে না। কোমলমতি শিক্ষার্থীর স্বপ্ন ও শিক্ষা অজর্ন করতে পারছে কিনা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসছে কি না, বিদ্যালয়ে থাকছে কি না। এসব বিষয়গুলো ই-মনিটরিংয়ের আওতায় চলে আসবে। আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। এরমাঝেও আমরা ই-প্রাইমারি সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। ইতোমধ্যে ৬০ ভাগ কাজ শেষ করে ফেলেছি। আপনাদেরকে আর প্রতিমাসে অসংখ্যবার ছক পূরণ করতে হবে না। মাঠ পর্যায়ে তথ্য পাওয়ার জন্য শিক্ষক ও কর্মকর্তারা ছক আর ছক পূরণ করতে মনক্ষুন্ন হয়ে যায়। আমরা সব ছক উঠিয়ে দিবো। আমাদের ই-প্রাইমারি ম্যানেজমেন্টে প্রত্যেক বিদ্যালয়ের তথ্য অনলাইনে চলে আসবে। যার যখন যে তথ্য প্রয়োজন, সেই তথ্য এ সিস্টেম থেকে নিতে পারবে।

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আসিফ উজ জামান ও জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিন।

চট্টগ্রামের সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হৃশীকেশ শীলের সঞ্চালনে সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপ পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান বিল্লাহ। মতবিনিময়সভায় চট্টগ্রাম বিভাগের ২ শতাধিক জেলা ও উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সুপারিনটেনডেনটেন্ট, পিটিআই ইন্সট্রাক্টর, রিসোর্স সেন্টারের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।