কালীপুরের সুস্বাদু লিচুর প্রচুর চাহিদা, বাজার দর বেশি

0
8

চলতি মৌসুমে দেরিতে পাকা লিচু বাজারে আসতে শুরু করেছে কালীপুরের সুস্বাদু লিচু বাজারে আসতে শুরু করেছে। প্রতি বছর এপ্রিল মাসের শুরুতেই লিচু পাকতে শুরু করে। প্রচুর চাহিদা থাকা সত্বেও চাষিরা বাগান থেকে লিচু তুলে ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দিতে পারছেন না। এবার লিচু কম হওয়াতে বাজার দর অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি।

পাইকারি ব্যবসায়ীরা প্রতি হাজার লিচু আড়াই হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত দরে ক্রয় করে নিচ্ছে। কালীপুরে ১২টি গ্রামের লিচু ছাড়াও বৈলছড়ি, জলদী, চাম্বুল, পুইছড়ি, শীলকুপ, সাধনপুর এলাকায় বাগান মালিকরা লিচু তুলতে শুরু করেছে। উন্নত জাতের লিচুর মধ্যে বোম্বাইয়া, কলিকাতা, চায়না-৩ লিচুর বাঁশখালীতে ফলন বেশি হয়। আবহাওয়ার কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় বোম্বাইয়া ও চায়না-৩ লিচু ফলন কম হয়েছে। লিচু চাষি দলিলুর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান, গোলাম রহমান, জাফর আহমদ, দোলা মিয়া বলেন, কালীপুরে ২ শতাধিক ছোট /বড় লিচু বাগান রয়েছে। প্রতিটি পরিবারের বাড়ির আঙিনায় লিচুর গাছ রয়েছে। তারা লিচু বিক্রি করে প্রতি বছর লক্ষাধিক টাকা উপার্জন করে থাকেন। পালেগ্রামের লিচু বাগানের মালিক মো. হারুন জানান, পোকার আক্রমণে লিচু ফলনের ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া অনাবৃষ্টিতেও লিচুর ক্ষতি হয়। এবার চাহিদা অনুযায়ী দাম পাওয়া যাচ্ছে। নিজেদের পরিবারে লিচু খাবার পরেও গত দুই দিনে ২২ হাজার টাকার লিচু বিক্রি করা হয়েছে।
সরেজমিনে কালীপুর স্কুল সংলগ্ন রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে গিয়ে দেখা যায়, কালীপুরের বিভিন্ন গ্রাম থেকে বাগানের মালিকরা লিচু বিক্রির জন্য বাজার বসিয়েছে। নগরীর বহদ্দারহাট, বিআরটিসি মার্কেট, মুরাদপুরসহ জেলার বিভিন্ন স্থানের পাইকারি ব্যবসায়ীরা লিচু সংগ্রহ করতে দর /দাম হাকাচ্ছে।
লিচু চাষি আবদুস সালাম ৫ হাজার লিচু বাজারে এনেছেন। লিচুর দাম হেকেছেন ১৩ হাজার টাকা। নগরীর পাইকারি ব্যবসায়ী ৯ হাজার টাকা দামে ৫ হাজার লিচু ক্রয় করে নিতে দেখা গেছে। একইভাবে বিভিন্ন এলাকার পাইকারি ব্যবসায়ীরা লিচু ক্রয় করে নিচ্ছেন। জাফর আহমদ নামের অপর একজন লিচু বাগানের মালিক জানান, ১০০ লিচু ২৬০ টাকা দরে বাগানের সামনেই বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা বাগানে গিয়ে লিচু সংগ্রহ করে নিচ্ছে। তিনি আরো জানান, ভালো লিচু হলে দামও পাওয়া যায়, চাহিদা বেশি। নূর নবী জানালেন, গত দুই দিনে ৪০ হাজার টাকার লিচু বিক্রি করেছেন। আরও ৪/৫ লক্ষ টাকার লিচু বিক্রি করা সম্ভব হবে। তবে এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় লিচুর ফলন কম হয়েছে।
লিচু চাষিরা জানান, দোআঁশ মাটিতে বাঁশখালীর বিভিন্ন ইউনিয়নে পাহাড়ি টিলা জমিতে লিচু চাষাবাদ করা হয়। লিচুর চাহিদা থাকা সত্বেও কৃষকরা সরকারিভাবে সুযোগ সুবিধা না পাওয়াতে এবং ব্যাংক ঋণের অভাবে চাহিদা মেটাতে পারছেন না। কৃষরদের সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করলে অনাবাদি জায়গা জমিগুলোতে লিচু বাগান তৈরির মাধ্যমে কৃষি বিপ্লব ঘটানো যাবে। লিচু ফলন দ্বিগুণ হলে আশানুরূপ সাফল্য আসবে কৃষকদের ঘরে। প্রতি বছর বাঁশখালীর শত শত কৃষক গ্রীস্মকালীন সময়ে লিচু বিক্রি করে স্বাবলম্বী হন।
নূরুল ইসলাম পেঁচু জানান, প্রতি বছর লিচু বিক্রি করে অনেক টাকার মালিক হওয়া যেত, এবার ত্রিশ লক্ষ টাকার পুঁজি খাটানোর ইচ্ছে ছিল। কিন্তু লিচু
ফলন কম হওয়াতে ৮/১০ লক্ষ টাকা নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে হয়েছে। দুই দিনে ২ লক্ষ টাকার লিচু সংগ্রহ করা হয়েছে।
বাঁশখালীর কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, বাঁশখালীতে ৫০০ হেক্টর জমিতে লিচু চাষাবাদ হয়েছে। এই আগাম লিচু দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাইকারি ব্যবসায়ীরা নিয়ে যাচ্ছে। কালীপুরের লিচুর প্রচুর চাহিদা চারা কলম। এখন চট্টগ্রাম জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকরা চারা রোপণের মাধ্যমে ফলন ফলাচ্ছেন। তারা লাভবানও হচ্ছেন।