কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ চায় রিহ্যাব

0
330

রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আবাসন শিল্পে দুই বছরের লোকসান কাটিয়ে উঠতে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ চেয়েছেন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। বৃহস্পতিবার প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বাতিল করা ‘আদেশ’ পুনঃপ্রবর্তনের দাবি জানায় সংগঠনটি। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের এই প্রাক-বাজেট আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মোঃ নজিবুর রহমান।

রিহ্যাবের সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতায় দুই বছর ধরে আবাসন খাত লোকসান গুনছে। এ লোকসান কাটিয়ে উঠতে গত অর্থবছরে (২০১৪-১৫) এ খাতে কালো টাকা (অপ্রদর্শিত অর্থ) বিনিয়োগের সুযোগ দাবি করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় এ সুযোগের কথা উল্লেখ করলেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আয়কর অধ্যাদেশ-১৯৮৪ এর ধারা ১৯ বিবিবিবিবি পুনঃপ্রবর্তন না করায় সে সুযোগ কাজে আসেনি। তিনি বলেন, এ আদেশ পুনঃপ্রবর্তন না করা হলে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে যাবে। বিভিন্ন দেশে সেকেন্ড হোম গ্রহণের সুযোগ থাকায় দেশের অর্থ বিদেশে চলে যাচ্ছে। এজন্য কালো টাকা বিনিয়োগে ইনডেমনিটি (নিঃশর্ত) আদেশও জারি করতে হবে। কালো টাকা দেশে বিনিয়োগের সুযোগ করে দিলে বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যতে ট্যাক্স নেটের আওতায় আসবে। এতে রাজস্বও বাড়বে বলে মনে করেন তিনি। এছাড়া আগামী অর্থবছরে আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪-এর ধারা ১৯ বিবিবিবিবি বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তিনি।

তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে ফ্ল্যাট ও প্লট রেজিস্ট্রেশনে গেইন ট্যাক্স চার শতাংশ, স্ট্যাম্প ফি তিন শতাংশ, রেজিস্ট্রেশন ফি দুই শতাংশ, স্থানীয় সরকার কর দুই শতাংশ ও ভ্যাট তিন শতাংশসহ মোট ১৪ শতাংশ দিতে হয়। রেজিস্ট্রেশন ফি অত্যধিক হওয়ায় ক্রেতারা রেজিস্ট্রেশনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। এতে ফ্ল্যাট ও প্লট বিক্রি কমে গেছে। ফলে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। এজন্য গেইন ট্যাক্স দুই শতাংশ, স্ট্যাম্প ফি এক দশমিক পাঁচ শতাংশ, রেজিস্ট্রেশন ফি এক শতাংশ, স্থানীয় সরকার করে এক শতাংশ ও ভ্যাট এক দশমিক পাঁচ শতাংশসহ মোট সাত শতাংশ করার দাবি জানান তিনি। উদ্যোক্তাদের এলাকা ভেদে আয়কর হ্রাস করার দাবি জানিয়ে আলমগীর বলেন, ২ বছর ধরে গৃহায়ন শিল্প জটিল সঙ্কটে রয়েছে। অধিকাংশ ডেভেলপার উচ্চসুদে ব্যাংক ঋণ নিয়ে বর্তমানে ব্যাংক ঋণ ও সুদ পরিশোধ করতে পারছে না। এ খাতে ক্রেতা আকর্ষণ বাড়াতে উদ্যোক্তাদের আয়কর হ্রাস করার দাবি জানান তিনি।

ট্যাক্স হলিডের অধীন এলাকা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বিকেন্দ্রীকরণ নগরায়ন ও পারিপার্শ্বিক উন্নয়নে বর্তমানে ঢাকা জেলা শহরে ট্যাক্স হলিডে ব্যবস্থা চালু রয়েছে। কিন্তু জেলা শহরে ফ্ল্যাটের চাহিদা না থাকায় এ উদ্যোগ কার্যকর হচ্ছে না। জেলাসহ মেট্রোপলিটন, ক্যান্টনমেন্ট, পৌরসভা এলাকাও ট্যাক্স হলিডের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। এছাড়া অগ্নি ও ভবন নিরাপত্তা যন্ত্রাংশের আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার রাজউক, সিডিএ আওতা ও বহির্ভূত এলাকায় রেজিস্ট্রেশনে আয়কর কমানো ও প্রবাসীদের গৃহায়নে উৎসাহিত করতে রেজিস্ট্রেশন কর হ্রাস করাসহ ১০টি দাবি জানান তিনি।

এ সময় এনবিআর চেয়ারম্যান মোঃ নজিবুর রহমান বলেন, আবাসন খাতকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে সব করবে এনবিআর। রিহ্যাবের বিষয়ও বিবেচনা করা হবে।