কুতুবদিয়ায় সরকারি সম্পদ আত্নসাতের অভিযোগ

mirza imtiaz প্রকাশ:| বুধবার, ২৪ এপ্রিল , ২০১৯ সময় ০১:০৭ পূর্বাহ্ণ

লিটন কুতুবী,
কুতুবদিয়া,কক্সবাজার।
কুতুবদিয়ায় এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মূল্যবান সম্পদ আতœসাতের অভিযোগ উঠেছে। গত এক সপ্তাহে প্রায় ৫ লাখ টাকার মালামাল স্কুল থেকে ট্রলি ভর্তি করে বাড়ি নিয়ে যায় স্বয়ং প্রধান শিক্ষক। এ ঘটনায় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির দাতা সদস্য মঙ্গলবার(২৩ এপ্রিল) দুপুরে কুতুবদিয়ার ইউএনও ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেন। ঘটনাটি ঘটেছে কুতুবদিয়া দ্বীপের বড়ঘোপ ইউনিয়নের মনোহরখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মনোহরখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিগত ৮/৯বছর পূর্বে সরকারি অর্থায়নে তিন কক্ষ বিশিষ্ট একটি শৌচাগার নির্মাণ করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য।ইতিমধ্যে একটি এনজিও সংস্থা পরিবেশ বান্ধব স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য নতুন শৌচাগার নির্মাণ করার পরিকল্পনা হাতে নেয়। বর্তমানে স্থিত শৌচারগার মনোহরখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিমল কান্তি শীল নিজে শ্রমিক দিয়ে শৌচাগার ভেঙ্গে স্কুল পড়–য়া ছাত্রদের দিয়ে ট্রলি ভর্তি করে নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়। এ খবর পেয়ে প্রতিষ্ঠানের দাতা সদস্য হাফেজ মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গেলে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ভেঙ্গে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য চোখে পড়ে। সাথে সাথে প্রধান শিক্ষকের সাথে দেখা করার জন্য অফিসে গেলে তাকে প্রতিষ্ঠানে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে খবর নিলে তিনি চট্টগ্রাম শহরে আছে বলে জবাব দেন। সরকারি সম্পদ নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে কথা বললে পরে আলাপ হবে বলে এড়িয়ে যান।
এ ব্যাপারে তিনি উক্ত বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাষ্টার ইউনুচের সাথে কথা বললে, তিনিও এ বিষয়ে কিছু জানে না বলে জবাব দেন। এ ছাড়াও ৭/৮ মাস পূর্বে বিদ্যালয়ের চর্তুপাশে আরসিসি পিলার দ্বারা তার কাটা দিয়ে বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর দেয়া হয়। ঐ আরসিসি পিলার ও তার কাটা এবং বিদ্যালয়ের মূল ফটকের গেইট কোন ধরণের বিক্রয় কমিটি, সরকারি নীতিমালা অনুসরণ বা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করে নিজেরাই ভাগ বাটোরা করে নিয়ে যায়। ্এতে সরকারের লাখ লাখ টাকার সম্পদ আতœসাত হয়েছে।
এ সব আতœসাতের বিষয় নিয়ে প্রতিষ্ঠানের দাতা সদস্য হাফেজ মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ নিজে বাদি হয়ে মঙ্গলবার (২৩এপ্রিল) ইউএনও ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জিল্লুর রহমান সাথে কথা হলে তিনি বলেন, অভিযোগ পেয়েছেন, তিনি তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বলে নিশ্চিত করেন । তিনি আরো জানান, সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার ও বিক্রয় করা যাবে না। তদন্তে ঘটনা প্রমানিত হলে ঐ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আতœপক্ষের মত প্রকাশের জন্য উক্ত প্রধান শিক্ষক বিমল কান্তি শীলের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি ফুটবল খেলায় ব্যস্থ আছে বলে মোবাইল রেখে দেন।