কোকেন জব্দ: নিরাপত্তা কর্মকর্তাসহ ৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ

0
9

চট্টগ্রাম বন্দরে কোকেনের চালান জব্দের ঘটনায় মাদক আইনে দায়ের হওয়া মামলায় বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তা নেজাম উদ্দিনসহ তিন জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন আদালত। এ নিয়ে এই মামলায় মোট ১০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।

বুধবার (৩ মার্চ) চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালতে তারা সাক্ষ্য দেন।

চট্টগ্রাম মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. ফখরুদ্দিন চৌধুরী জানান, কোকেন মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী চট্টগ্রাম বন্দর নিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তা নেজাম উদ্দিনসহ তিন জনের সাক্ষ্য গ্রহণ হয়েছে।

তিনি বলেন, নেজাম উদ্দিনের সামনে কন্টেইনার ও ড্রাম খুলে আলামত সংগ্রহ এবং সিলগালা করা হয়েছে। তিনি জব্দ তালিকার সাক্ষী হিসেবে আদালতে সাক্ষী দেন। এছাড়াও মো. মহিউদ্দিন ও মো. মাহাবুবুর রহমান নামে আরও দুইজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। ১৪ মার্চ পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০১৯ সালের ২৯ এপ্রিল চাঞ্চল্যকর এ মামলায় ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। এর আগে এই ১০ জনকে আসামি করে আদালতে সম্পূরক চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। এরপর ওই বছরের ১৯ মে থেকে ২৩ মে পর্যন্ত প্রথম দফায় চার জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

অভিযুক্ত ১০ জন হলেন- আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের খানজাহান আলী লিমিটেডের চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ ও তার ভাই মোস্তাক আহম্মদ, কসকো-বাংলাদেশ শিপিং লাইনসের ব্যবস্থাপক এ কে এম আজাদ, সিকিউরিটিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মেহেদী আলম, সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, আবাসন ব্যবসায়ী মোস্তফা কামাল, প্রাইম হ্যাচারির ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তফা সোহেল, পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মণ্ডল গ্রুপের বাণিজ্যিক নির্বাহী আতিকুর রহমান, লন্ডনপ্রবাসী চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের ফজলুর রহমান ও মৌলভীবাজারের বকুল মিয়া।

আদালত সূত্রে জানায়, আলোচিত এ মামলার ১০ আসামির মধ্যে বর্তমানে ২ জন আসামি (খান জাহান আলী লিমিটেডের কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা সোহেল ও বিশেষজ্ঞ মেহেদী আলম) কারাগারে আছেন। বাকিদের মধ্যে খান জাহান আলী লিমিটেডের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ ও তার ভাই মোস্তাক আহম্মদসহ ৪ জন পলাতক ও ৪ জন জামিনে আছেন।

২০১৫ সালের ৬ জুন চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের তৎকালীন অতিরিক্ত উপকমিশনার এস এম তানভির আরাফাতের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোকেন সন্দেহে চট্টগ্রাম বন্দরে সূর্যমুখী তেলের চালান জব্দ করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর।

এরপর ২৭ জুন তেলের চালানের ১০৭টি ড্রামের মধ্যে একটি ড্রামের নমুনায় কোকেন শনাক্ত হয়। বলিভিয়া থেকে আসা চালানটির প্রতিটি ড্রামে ১৮৫ কেজি করে সূর্যমুখী তেল ছিল। পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের রাসায়নিক পরীক্ষাগারসহ চারটি পরীক্ষাগারে তেলের চালানের দুটি ড্রামের নমুনায় কোকেন শনাক্ত হয়।