খুচরা বাজারে কমলো না পিয়াজের

0
89

গত দুই দিনে রাজধানীর পাইকারি আড়তে পিয়াজের দাম কমলেও প্রভাব পড়ছে না খুচরা বাজারে। ভারত গত রোববার রপ্তানি বন্ধের পর পিয়াজের দাম লাফিয়ে বেড়েছিল। মঙ্গল ও বুধবার শ্যামবাজারে কেজিপ্রতি ২৫-৩০ টাকা কমে দেশি পিয়াজ ৭০-৭৫ টাকা, ভারতীয় পিয়াজ ৬৫-৭০ টাকা ও মিয়ানমারের পিয়াজ ৬০ টাকায় বিক্রি হয়। এদিকে, পিয়াজের কেজি দুই-একদিনের মধ্যে ৬০-৭০ টাকায় চলে আসবে, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এমন আশ্বাস দিলেও বাজারে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে পিয়াজের কেজি এখনও ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি পিয়াজ প্রতি কেজি ১০০ টাকা ও ভারতীয় পিয়াজ ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সোমবারের চেয়ে অবশ্য কেজিপ্রতি ১০ টাকার মতো কম। রাজধানীর শ্যামবাজার, মালিবাগ, ফকিরাপুল ও সেগুনবাগিচা অঞ্চলের বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

খুচরা বাজার ভেদে ১৫ থেকে ২০ টাকা কমেছে পিয়াজের দাম।
গত দুইদিন আগেও যে দেশি পিয়াজ বিক্রি হচ্ছিল ১২০ থেকে ১২৫ টাকায়। তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। আর আমদানি করা পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯৫ টাকা। যা গত দুইদিন আগেও বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা। কাওরান বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী সালাম মিয়া বলেন, এখন আমরা দেশি পিয়াজ ৪৫০ টাকা পাল্লা (৫ কেজি) বিক্রি করছি। এর আগে বিক্রি করেছি ৫০০ টাকায়।
শ্যামবাজারে পিয়াজের দামের বিষয়ে পানামা ট্রেডার্সের মালিক দেলোয়ার হোসেন বলেন, মিয়ানমার ও মিশর থেকে পিয়াজ আসছে। ফলে বাজারে পিয়াজের সরবরাহ বাড়ছে। এতে দাম কিছুটা কমেছে। আমরা আশা করছি, শিগগির পিয়াজের দাম আরো কমবে। তবে মিয়ানমারের পিয়াজ তড়িঘড়ি আমদানি করা ঠিক হয়নি। কারণ সেখান থেকে আসা প্রায় ২৫ শতাংশ পিয়াজ নষ্ট।

প্রতিবেশী দেশ ভারত পিয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেয়ায় গত সপ্তাহে হু হু করে বেড়ে যায় সব ধরনের পিয়াজের দাম। রাজধানীর সব অঞ্চলের বাজারেই পিয়াজের দাম ১০০ টাকার বেশি। পিয়াজের দামের লাগাম টেনে ধরতে মিয়ানমার থেকে আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।এ পরিস্থিতে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, মিয়ানমার থেকে ৪৮৩ টন পিয়াজ এসেছে। আরও ৪০০-৫০০ টন আসবে। ফলে কাল বা পরশুর মধ্যে পিয়াজের দাম ৬০-৭০ টাকায় চলে আসবে। মন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর দুই দিন চলে গেলেও পিয়াজের কেজি ১০০ টাকার ওপরেই রয়েছে। সেগুনবাগিচা ও ফকিরাপুল বাজারে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা দেশি পিয়াজের কেজি ১০০-১২০ টাকা বিক্রি করছেন।

পিয়াজের দামের বিষয়ে সেগুনবাগিচার ব্যবসায়ী আলামিন বলেন, পাইকারি থেকে আমাদের বেশি দামে পিয়াজ কেনা, তাই বেশি দামে বিক্রি করছি। আমরা যদি কম দামে পিয়াজ কিনতে পারি, তাহলে অবশ্যই কম দামে বিক্রি করব। দুই একদিনের মধ্যে পাইকারিতে পিয়াজের দাম কমেছে এমন কোন তথ্য আমাদের কাছে নেই।

বাজারে ব্যবসায়ীরা ভালো মানের দেশি পিয়াজ বিক্রি করছেন ৮০-১০০ টাকা কেজি। পিয়াজ ব্যবসায়ী বাবু এ বিষয়ে বলেন, দুই দিন আগেও দেশি পিয়াজ ১২০ টাকা কেজি বিক্রি করেছি। পাইকারিতে দাম কমায় এখন ১০০ টাকা বিক্রি করছি। পাইকারিতে দাম আরো কমলে আমরা কম দামে বিক্রি করবো।

বাজারে আসা ক্রেতা রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আসলে পিয়াজের দাম ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে বাড়িয়ে দিয়েছে। পিয়াজ গুদামে আছে কি নাই সেটা না দেখে শুধু ভারত পিয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে এটা শুনেই তারা পিয়াজের দাম বাড়িয়েছে। পিয়াজের এত দাম বাড়ার যুক্তিসঙ্গত কোন কারণই নেই। তিনি বলেন, আসলে বাজারে সরকারের যথেষ্ট মনিটরিং এর অভাব রয়েছে। এর ফলেই ব্যবসায়ীরা নিজেদের ইচ্ছামত জনগণকে চাপে ফেলে এভাবে দাম বাড়িয়ে দেয়। আর জনগণ এতে ভোগান্তির শিকার হয়। এসব ব্যবসায়ীর বিচার হওয়া উচিত। এদিকে বৃষ্টির কারণে বেড়ে যাওযায় কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। যা গত তিনদিন আগেও বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। আদা বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি। আর বাজারে প্রতি কেজি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা কেজিতে।

এদিকে, দীর্ঘদিন ধরেই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি। দু-একটি বাদে বেশিরভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকার ওপরে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, শীতের সবজি পুরোপুরি না আসা পর্যন্ত সবজির দাম এমনই থাকবে। বাজারে টমেটো, গাজর ও শিম কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা। বেগুন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। পাশাপাশি একই দামে বিক্রি হচ্ছে বরবটি ও উস্তে। প্রতি কেজি করলা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। একই দামে বিক্রি হচ্ছে ঢেঁড়স, শসা, ঝিঙ্গে, ধুন্দুল, কচুর লতি ও কচুর মুখি। গত সপ্তাহের থেকে কিছুটা বেড়ে পটল ও কাকরোল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। বাজারে প্রতি কেজি মিষ্টি কুমড়া বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা, পেঁপেও বিক্রি হচ্ছে একই দামে। সবজির দামের বিষয়ে ফকিরাপুলের ব্যবসায়ী আজম বলেন, কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। এর সঙ্গে বন্যাও দেখা দিয়েছে। এতে সবজির খেতের ক্ষতি হয়েছে।

এ কারণে হঠাৎ করে সবজির দাম বেড়েছে। টানা বৃষ্টি হলে অথবা বন্য পরিস্থিতি খারাপ হলে সবজির দাম আরও বাড়তে পারে। গত সপ্তাহের চেয়ে কিছুটা বেড়ে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা। পাকিস্তানি কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২১০ থেকে ২২০ টাকা কেজি। একই দামে বিক্রি হচ্ছে লাল লেয়ার মুরগি। আর ডিমের ডজন গত সপ্তাহের মতো বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকা। গরুর মাংস বাজার ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৫৭০ টাকা এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজি। এছাড়া তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি চাল, ডাল, আটাসহ অন্যান্য পণ্যের। মাছের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি কেজি ইলিশ মাছ সাইজ অনুযায়ী ৬০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি তেলাপিয়া ১৪০-১৫০ টাকা, পাঙ্গাশ ১৫০-১৬০ টাকা, চাষের রুই ৩৫০-৪০০ টাকা, পাবদা ৬০০-৭০০ টাকা, টেংরা ৬০০-৭০০ টাকা, শিং ৪০০-৫৫০ টাকা, বোয়াল ৫০০-৭০০ টাকা, চিংড়ি ৬০০-৮০০ টাকা এবং চিতল মাছ ৫০০-৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।