গণপূর্তে অনিয়ম দুর্নীতি মানেই পলাশ!

0
57

গৃহায়নের প্রকৌশলী আশ্রাফুজ্জামান পলাশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজসহ, দুর্নীতি, সিন্ডিকেট, টেন্ডারবাজি এবং ঘুষ আদায়ের অভিযোগ করেন। গণপূর্ত অফিসের বিভিন্ন কর্মচারী এবং চট্টগ্রাম হালিশহরের বাসিন্দারা এ অভিযোগ করেন।

কর্মচারীরা বলেন, গণপূর্তে অনিয়ম মানেই পলাশ! অফিসের সকল অবৈধ কাজ পলাশের হাত দিয়েই হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বুধবার (৩ এপ্রিল) গণপূর্ত অফিস যেন তার নেতৃত্বেই চলছে। অফিস কার্যালয়ে তার ব্যানার দিয়ে ঘিরে ফেলেছে সম্পূর্ণ দেওয়াল। অফিসে সকল কর্মকর্তাদেরকে গোপালগঞ্জের প্রভাব দেখিয়ে কাজ আদায় করে নেন। অনেকে অভিযোগ করেন, তার বাড়ি গোপালগঞ্জ বলে প্রভাব কাটালেও তার বাড়ি মাদারীপুর।

গণপূর্তে অফিসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চতুর্থ শ্রেণির একজন কর্মকর্তা বলেন, পলাশ অফিসের সিনিয়রদেরকে সম্মান করেন না। গোপালগঞ্জের প্রভাব দেখিয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরকে ভয়ভীতির মধ্যে রাখেন। সিনিয়র-জুনিয়র সবাইকে প্রভাব দেখিয়ে কাজ আদায় করেন। অনেককে চাকরি দেওয়ার নাম করে ঘুষও নিয়েছেন।

একই কথা উল্লেখ করে হালিশহরের নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক মো. হারুন বলেন, উড়ে এসে জুড়ে বসার মতো অবৈধ বাজার বসিয়ে চাঁদা আদায় করেন। এছাড়াও এখানে স্থায়ী বাজার করার কথা বলে ৪০ লাখ টাকা অগ্রিম নিয়েছে। তিনি হালিশহর এলাকাকে তার নিজের মনে করেন। চাঁদা না দিলে ধমক দেন। তিনি যেকোনো কথায় বলেন, তাকে জানে কিনা? তার বাড়ি গোপালগঞ্জ। গোপালগঞ্জের কথা বলে সবাইকে ভয়ভীতি দেখান।

হালিশহরের বাসিন্দা এবং ছাত্রলীগ নেতা মাকসুদুর রহমান বলেন, তিনি একজন দুর্নীতিবাজ। অবৈধ সব কাজেই জড়িত তিনি। যেকোনো কাজের জন্য চাঁদা দাবি করেন। এলাকার অনেককে জানান, চাঁদা দিলেই যেকোনো কাজের সমস্যা সমাধান করে দিবেন। পলাশ রাতের আঁধারে অনেক সহকারী পুলিশকে নিয়ে মদ্যপান করেন। সহকারী পুলিশদের বলেন, তোমাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমি গোপালগঞ্জের ছেলে। আমার সাথে থাকলে তোমাদের কোনো কিছু নিয়ে ভয় পেতে হবে না।

হালিশহরের আরেক বাসিন্দা আবু সিদ্দিকী বলেন, তিনি কাউকেই পরোয়া করেন না। সবাইকে গোপালগঞ্জের পরিচয় দিয়ে দাবিয়ে রাখেন। এমন কোনো অবৈধ কাজ নেই যে তার হাত দিয়ে হয় না। এক কথায় অবৈধ সকল কাজের গুরু আশ্রাফুজ্জামান পলাশ।

হালিশহরের বাসিন্দারা বলেন, সে অবৈধ কাজে জড়িত হয়ে সম্পত্তি ভোগ করছে এবং সম্পত্তির মালিক হয়েছে। সরকারি চাকরি করলেও হালিশহরের অবৈধ বাজার থেকে প্রতিমাসে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা চাঁদা নেন। আমরা দুদকের কাছে অভিযোগ করবো তার সম্পত্তি হিসেব নিকাশ করার জন্য। কেউ অবৈধ কাজে এইভাবে জড়িত না থাকলে এত সম্পত্তির মালিক হওয়া পারে না।

এ বিষয়ে জানতে গৃহায়নের প্রকৌশলী আশ্রাফুজ্জামান পলাশের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, যারা এ বিষয়ে অভিযোগ করেছেন তাদের একজনকে নিশ্চিত করে বলতে বলেন। কে এমন মানুষ যে আমাকে চাঁদা দেয়।

সিনিয়রদের সম্মান না করার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আাপনি আমার সকল সিনিয়রদের সাথে কথা বলেন। তাদের থেকে জিজ্ঞাসা করেন আমি তাদের সাথে বেয়াদবি করি কিনা। আমি কেমন মানুষ তাদের থেকে জেনে নিন।

চাকরির নামে ঘুষ আদায় প্রসঙ্গে কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার অফিসে এমন কেউ নেই যে ঘুষ নিয়ে আমি চাকরি দিয়েছি। বা কাউকে চাকরি দিব বলে ঘুষ নিয়েছি। বরং এখানে আসার পর অফিসের পরিবর্তন করেছি। কাজের পরিসংখ্যান দেখিয়ে অফিসের উন্নয়নে অগ্রসর করেছি।

মাদারীপুর পরিচয় না দিয়ে গোপালগঞ্জের পরিচয় কেন দেন বলে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একজন সরকারি কর্মচারী হয়ে মিথ্যা পরিচয় কেন দিবো? আমার কথা কতটুকু সত্য তা আপনি অফিসে এসে সকল তথ্য সংগ্রহ করে দেখতে পারেন।

সামান্য একটা বিষয় থেকে ব্যাপারটা বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, মেয়র অনেক বড় মাপের একজন মানুষ। ওনি আমাকে মেরেছে আর সেইটা থেকে কথাটা এখন আমি একজন দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ এসব অভিযোগ দেখানো হচ্ছে। আমি মেয়র সাহেবকে আগেও সম্মান করতাম এখনও সম্মান করি।

অফিসের সিনিয়রদেরকে সম্মান না করার বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার মো. শামসুল আলম বলেন, না এমনটা তো অফিসে কোনো দিন হয়নি। একটি অফিসে যেভাবে চালিত হয় সেভাবে চলে। জুনিয়ররা সিনিয়রদের ঠিকই সম্মান করে। তেমনি পলাশও সিনিয়রদের সম্মান করে। সিনিয়রদের সাথে খারাপ ব্যবহার বা অসম্মান করে এমন কোনো অভিযোগ এখনো পর্যন্ত পায়নি।