গর্ভকালীন সময়ে মায়ের যত্ন

0
15

 

গর্ভকালীন সময়ে মায়ের চাই বিশেষ যত্ন। মহিলাদের গর্ভধারনের পূর্বেই নিজের স্বাস্থ্য, গর্ভধারণ ও সন্তান পালন সংক্রান্ত বিষয়ে সচেতন হওয়া দরকার। কারণ একজন সুস্থ্য মা-ই পারে একটি সু্স্থ ও স্বাভাবিক শিশুর জন্ম দিতে। তাই গর্ভবতী মায়ের জন্য প্রয়োজন সঠিক যত্ন ও পরিচর্যা।

গর্ভবতী মায়ের লক্ষণ :
(১) মাসিক বন্ধ থাকা, (২) বমি বমি ভাব, (৩) স্তনে ব্যথা

গর্ভকালীন যত্ন:
সমগ্র গর্ভকালীন সময়ে অর্থাৎ ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়া থেকে শুরু করে ৯ মাস ৭ দিন ব্যাপী মাঝখানে গর্ভবতী মা ও তার পেটের সন্তানের যত্ন নেওয়াকে গর্ভকালীন যত্ন বলা হয়। সমগ্র গর্ভকালীন সময়ে কম পক্ষে ৪ বার পরীক্ষা করা প্রয়োজন। যেমন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী:

১ম ভিজিটঃ ১৬ সপ্তাহ (৪ মাস), ২য় ভিজিটঃ ২৪-২৮ সপ্তাহ (৬-৭ মাস), ৩য় ভিজিটঃ ৩২ সপ্তাহ ( ৮ মাস), ৪ র্থ ভিজিটঃ ৩৬ সপ্তাহ ( ৯ মাস)

গর্ভকালীন যত্নের উদ্দেশ্য:
গর্ভকালীন যত্নের প্রধান উদ্দেশ্য হলো গর্ভবতী মাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থতার মাঝে তৈরী করে তোলা যাতে তার প্রসব স্বাভাবিক হয়, তিনি যেন একটি স্বাভাবিক সুস্থ শিশু জন্ম দেন, সন্তানকে বুকের দুধ দিতে পারেন এবং সন্তোষজনকভাবে তার এবং শিশুর যত্ন নিতে পারেন।

গর্ভবতী মায়ের খাবারের তালিকা:
শক্তিদায়ক খাবারঃ ভাত, রুটি/পরাটা, আলু, চিনি, গুড়, সুজি, সয়াবিন তেল, বাদাম, কলিজা, ঘি/মাখন, ডিমের কুসুম ইত্যাদি। শক্তি ক্ষয়পূরণ এবং নবজাতকের শরীর বৃদ্ধিকারক খাবার : মাছ, মাংস, দুধ, ডিমের সাদা অংশ, বিভিন্ন ধরনের ডাল, মটরশুটি, সীমের বীচি ইত্যাদি। শক্তি রোগ প্রতিরোধক খাবার : সবুজ, হলুদ ও অন্যান্য রঙ্গিন শাক-সবজি ও সবধরনের মৌসুমী ফল-মূল

গর্ভবতী মা কি খাবেন,কি পরিমাণ খাবেন :
প্রতিদিন তিন ধরণের খাবারের তালিকা থেকেই কিছু কিছু খাবার খেতে হবে। প্রতিবেলায় স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশী খেতে হবে। গভর্বতী মাকে বেশী করে পানি খেতে হবে। আয়োডিনযুক্ত লবণ তরকারীর সাথে খেতে হবে। তবে অতিরক্ত লবণ খাওয়া যাবে না।

গর্ভবতী অবস্থায় করণীয়:
গর্ভাবস্থায় স্বাস্থ্য সেবাদানকারীর দ্বারা কমপক্ষে ৩ বার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে। গর্ভাবস্থায় ২টি টিটি টিকা নিতে হবে। দৈনিক স্বাভাবিকের চেয়ে সাধ্যমত বেশি খাবার খেতে হবে। গর্ভবতী মহিলাকে নিয়মিত প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে। গর্ভবতী মহিলাকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। তাকে নিয়মিত গোসলও করতে হবে। দুপুরের খাবারের পর কমপক্ষে ১-২ ঘন্টা বিশ্রাম নিতে হবে।

গর্ভবতী অবস্থায় যা করা যাবে না:
গৃহস্থালীর কঠিন কাজ যেমন-ধান মাড়াই, ধান ভানা, ঢেঁকিতে চাপা ইত্যাদি ভারী কোন কিছু তোলা, দূরে যাতায়াত করা এবং ভারী কিছু বহন করা, শরীরে ঝাঁকি লাগে এমন কাজ করা, দীর্ঘ সময় কোন কাজে লিপ্ত থাকা, গড়া ঝাটি এবং ধমক দেয়া,জর্দা, সাদা পাতা খাওয়া,তামাক, গুল ব্যবহার করা,ধূমপান বা অন্য কোন নেশা জাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করা,স্বাস্থ্য কর্মী বা ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন ঔষধ গ্রহণ করা,গর্ভকালীন প্রয়োজনীয় ৪ টি ব্যবস্থা

গর্ভাবস্থায় ও প্রসবের সময় ৫ টি বিপদ চিহ্ন:
– গর্ভাবস্থায়, প্রসবের সময় বা প্রসবের পর খুব বেশি রক্তস্রাব, গর্ভফুল না পড়া
– গর্ভাবস্থায় বা প্রসবের পর তিনদিনের বেশি জ্বর বা দুর্গন্ধ যুক্ত স্রাব
– গর্ভাবস্থায়, প্রসবকালে ও প্রসবের পরে শরীরে পানি আসা, খুব বেশি মাথা ব্যাথা, চোখে ঝাপসা দেখা
– গর্ভাবস্থায়, প্রসবের সময় বা প্রসবের পরে খিঁচুনী।
– প্রসব ব্যথা ১২ ঘন্টার বেশি থাকা ও প্রসবের সময় বাচ্চার মাথা ছাড়া অন্য কোন অঙ্গ প্রথমে বের হওয়া।

মনে রাখতে হবে : এর যে কোন একটির জটিল অবস্থা দেখা দিলে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

ডক্টোরোলা ডট কম (www.doctorola.com) প্রচারিত সকল তথ্য সমসাময়িক বিজ্ঞানসম্মত উৎস থেকে সংগৃহিত এবং এসকল তথ্য কোন অবস্থাতেই সরাসরি রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসা দেয়ার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত নয়। জনগণের স্বাস্থ্য সচেতনা সৃষ্টি ডক্টোরোলা ডট কমের (www.doctorola.com) লক্ষ্য।

দেশজুড়ে অভিজ্ঞ ডাক্তারদের খোঁজ পেতে ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে ভিজিট করুন www.doctorola.com অথবা কল করুন 16484 নম্বরে।