গৌরিসংঙ্করহাটের একমাত্র পুকুরটিও ভরাট করা হচ্ছে

0
36

শফিউল আলম, রাউজান প্রতিনিধিঃ
রাউজানের উনসত্তর পাড়ার গৌরিসংঙ্কর হাটের কাছে থাকা একমাত্র পুকুরটিও রাতের আঁধারে বালু ফেলে ভরাট করে ফেলা হচ্ছে। বিষয়টি স্থানীয় তহশিল অফিসে জানানো হলেও ভরাট কাজ বন্ধ করার উদ্যোগ নেয়া হয়নি। বিদ্যমান আইন অনুসারে পুকুর জলাশয় ভরাট আইনত দ-নীয় অপরাধ। স্থানীয়রা বলেছেন এই এলাকায় আরো কয়েকটি পুকুর আগে একই কায়দায় ভরাট করে বাড়িঘর নির্মাণ করেছে। এখন পানি উৎস বলতে আর কোনো পুকুর বাজারের কাছে নেই। সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, ঊনসত্তর পাড়া সরকারি তহশিল অফিসের এক’শ গজের মধ্যে পুকুরটির অবস্থান। ওই অফিসে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, নাল জমি কেটে ওই পুকুরটি সৃষ্টি করা হয়েছিল প্রায় তিন দশক আগে। সরকারি রেকর্ডে পুকুরের জায়গা এখনো নাল হিসাবে চিহ্নীত আছে। তহশিলদার বলেছেন নাল জায়গা ভরাট করে বাড়িঘর বানানোর বিধান নেই। পুকুর জলাশয় ভরাট করাও আইনত নিষিদ্ধ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে গত কয়েকদিন থেকে পুকুরটি ভরাট কাজে নিয়োজিত রাখা হয়েছে কয়েকটি ট্রাক। প্রশাসন ও জনসাধারণের দৃষ্টি এড়িয়ে রাতের বেলায় ভরাট কাজ করা হচ্ছে। স্থানীয়রা বলেছেন এই পুকুরটি ছিল এলাকার একমাত্র জলাশয়। গত কয়েক মাস আগে এখানে সংগঠিত একটি অগ্নিকা-ের ঘটনায় পুকুরটির পানি ব্যবহার করে আগুন দ্রুত নিভানো সম্ভব হয়েছিল। রক্ষা পেয়েছিল ব্যাপক সম্পদহানী থেকে। এখন পুকুরটি ভরাট করে ফেলার কারণে অগ্নিকা-ের মত দুঘর্টনায় ঘটনায় বিশাল বাজারের আশেপাশে আর কোনো পানির উৎস পাওয়া যাবে না। বাজারের লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায় পুকুরটির মালিক পক্ষ বিদেশে থাকেন। পুকুর পাড়ে আছে মালিকের আবাসিক ভবন ও কাঁচা ভাড়া ঘর। প্রবাসী পরিবারের সদস্যরা দেশে না থাকলেও এটি ভরাট কাজে দায়িত্ব নিয়েছেন এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য মোহাম্মদ ইসমাইল। তিনি নিজকে প্রবাসী পরিবারের অত্মীয় দাবি করে বলেন ভরাট করা জায়গা পুকুর নয়। এটি জলাশয়। দোকান মার্কেট নির্মাণে জলাশয়টি ভরাট করা হচ্ছে।
পুকুর জলাশয় ভরাট করা নিয়ে রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোনায়েদ কবির সোহাগের সাথে কথা বললে তিনি বিষয়টি জেনে বলেন আমি খবর নিচ্ছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।