ঘটনা শোনার পরই ভিসির ক্যাম্পাসে যাওয়া উচিত ছিল: প্রধানমন্ত্রী

0
38

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, হত্যার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিভাবক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক সাইফুল ইসলামের ক্যাম্পাসে যাওয়া উচিত ছিল।

মঙ্গলবার রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে অনির্ধারিত আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

ভিসির ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, উনি কেমন ভিসি? একটা ছাত্র মারা গেল, আর তিনি এতটা সময় বাইরে ছিলেন? আবরারের জানাজায়ও তার অংশ নেয়া উচিত ছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। এর সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি পেতেই হবে। কাউকে একচুলও ছাড় দেয়া হবে না। শুধু প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই নয়, আমি একজন মা হিসেবে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার করব।

তিনি বলেন, এ ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক, অনাকাঙ্ক্ষিত। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ধরা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা যুগান্তরকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী নেতাকর্মীদের সজাগ ও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, এখন নানা রকম উসকানি দেয়া হবে, কিন্তু কোনো ফাঁদে পা দেয়া যাবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখনই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটল, সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। অনেকে আলামত নষ্ট করার চেষ্টা করেছিল। আমি ফুটেজগুলো সংরক্ষণ করতে বলেছি।

আমরা ব্যবস্থা তো নিচ্ছি। নিজ দলের বলে কাউকে তো ছাড় দিচ্ছি না। তার পরও কিছু মানুষ ও কিছু সংগঠন আছে, যারা সরকারের ভালো কিছু চোখেই দেখে না। সবসময় তারা নেগেটিভ বিষয় খোঁজার চেষ্টা করে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একাধিক সূত্র জানায়, ফাহাদের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মর্মাহত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ও তো বাচ্চা ছেলে, মাত্র ২১ বছর বয়স। ওর ভিন্নমত থাকতেই পারে। তাই তাকে এমন নির্মমভাবে পিটিয়ে মেরে ফেলতে হবে? যারা মেরেছে তারাও তো একই ক্লাসে পড়ে? কীভাবে এটা সম্ভব?

তিনি বলেন, বন্ধু হয়ে বন্ধুকে পিটিয়ে মেরে ফেলবে? একটু মায়া লাগেনি? ও (আরবাব) মোংলাবন্দরের কথা বলেছে, আসলে সে সময় তো মোংলাবন্দর ছিল না। ছিল চালনাবন্দর। ও ছোট মানুষ। তার ভিন্নমত থাকতেই পারে। কিন্তু এভাবে মারতে হবে? এটি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন ভারত নিয়ে অনেক কথাবার্তা বলা হচ্ছে।

বুধবার আমি সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরব। কী পেলাম আর কী দিয়ে এলাম তা জাতিকে জানাব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আবরার হত্যাকাণ্ডের পর আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। আরও নেয়া হবে। তার পরও আন্দোলন কেন। বিএনপির আমলে মেধাবী শিক্ষার্থী সাবিকুন নাহার সনি হত্যাকাণ্ডের বিচার তো হয়নি। পুলিশ তখন ছাত্রদের মিছিল পর্যন্ত করতে দেয়নি। আমরা তো সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়েছি। আমি তো দল দেখিনি? তার পরও কেন আন্দোলন? বিভিন্নজন বিভিন্ন জায়গায় থেকে নানা ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করছে।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সজাগ থাকতে হবে।

এ ঘটনা নিয়ে কেউ যেন ঘোলাপানিতে মাছ শিকার করতে না পারে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এ জন্য আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, কাদের নির্দেশনায় এটা হয়েছে, সব খুঁজে বের করা হবে। তিনি বলেন, আমি দেশটাকে একটা জায়গায় নিয়ে যাচ্ছি। এমন সময় নানারকম ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল মতিন খসরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এনামুল হক শামীম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, কেন্দ্রীয় সদস্য আনোয়ার হোসেন, ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য প্রমুখ। এর আগে কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। উপস্থিত নেতারা জানান, বুয়েটের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী খুবই মর্মাহত। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে বিমর্ষ দেখা যায়।

এদিকে আজ বুধবার বেলা ১১টায় ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে। এতে আবরার হত্যাকাণ্ডসহ সমসাময়িক বিষয়ে কথা বলবেন ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারা।