চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার স্থায়ী ও দ্রুত সমাধান চাই

0
116

চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম এর সংবাদ সম্মেলনের বিস্তারিত তুলে ধরেন সংগঠনের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন

১. চট্টগ্রাম মহানগরীর ভয়াবহ ও জীবন মরণ সমস্যা জলাবদ্ধতার সমাধান এবং এ লক্ষে বরাদ্ধকৃত সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার যথাযত ব্যবহার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির মাঝে সমন্বিত কর্মকান্ড নিশ্চিত করা, কর্ণফুলীর কালুরঘাটে পুরাতন জরাজীর্ণ বিপদজনক সেতুতে নতুন “সড়ক-রেল সেতু” নির্মাণ এবং যানজটের নিরসনের আহবান নিয়ে চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের সংবাদ সম্মেলন।

২. চট্টগ্রামের পরিকল্পিত উন্নয়ন মানে জাতীয় উন্নয়ন কারণ জাতীয় অর্থনীতির সিংহভাগের যোগানদার এই চট্টগ্রাম | চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধান বিশেষভাবে মহানগরীর জলাবদ্ধতা এখন একটি জাতীয় ইস্যু | এর ফলে অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমান বিশাল |

৩. এই মুহূর্তে জলাবদ্ধতাকে আমরা অগ্রাধিকার দিচ্ছি, কারণ জলাবদ্ধতা সব উন্নয়নকে নষ্ট করে এবং উন্নয়নকেও ভুলিয়ে দেয় |

৪. প্রসঙ্গক্রমে জানানো প্রয়োজন, আমরাই ৮০ র দশকের শেষে ও নব্বয়ের প্রথম দিকে বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন গণ-সংগ্রাম কমিটি গঠন করে (আমি ছিলাম এর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ) জলাবদ্ধতার সমাধান, চট্টগ্রামের প্রতি অবহেলার প্রতিবাদে ও বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়ন এর ১৫ দফার ভিত্তিতে পাঁচ শথাধিক সংগঠনের সমর্থন নিয়ে আপোষহীনভাবে ৪৮ ঘন্টা পর্যন্ত সফল হরতাল করে সারাদেশকে আলোড়িত করেছিলাম এবং সমস্যাবলীর সমাধানের ও উন্নয়নের অনেকগুলি পদক্ষেপ নিতে তৎকালীন সরকারগুলোকে বাধ্য করেছিলাম, কিন্তু আবারো সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষগুলির অবহেলার কারণে সমস্যা কঠিন আকার ধারণ করেছে | নিষ্ক্রিয়তা দেখতে দেখতে আর নিস্চুপ থাকতে পারলাম না ! তাই ২০১৫ ইং সালে জনজীবনের দুর্গতির কথা বলতে চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম গঠন করেছি সর্বস্থরের নাগরিকদের নিয়ে, যা সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক |

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা আজ প্রকট আকার ধারণ করেছে | চট্টগ্রামের এই জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানের জন্য নগরবাসী ১৯৮৭ সালে থেকে চাক্তাই খাল খনন সংগ্রাম কমিটি এবং বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন গণ-সংগ্রাম কমিটি গঠন করে বহু আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। এক পর্যায়ে ১৯৯০ সাল থেকে পরিবেশ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নগরীর অনেক গুলো খালের দু’পাশ থেকে শত শত কোটি টাকা ব্যায় করে বেআইনী দখদার উচ্ছেদ এবং খাল গুলি প্রসস্থ করার জন্য বেশ কিছু ভূমি হুকুম দখল করা হয়। কিছু অংশে খালের দু’পার্শ্বে ও তলা পাকা করা হয়েছিল। আগ্রাবাদ শেখ মুজিব রোডে সুদীর্ঘ ও প্রশস্থ কালভার্ট নির্মান করা হয়। এসব কাজ গুলো ২০০০ সাল পর্যন্ত চলে এবং জলাবদ্ধতা সমস্যা মোটামুটি নিরসন হয়ে যায় | তবে কথা ছিল যা কিছুই হয়েছে তা নিয়মিতভাবে রক্ষাবেক্ষণ করা হবে, কিন্তু তা হয়নি বলে পরবর্তীতে সমস্যা আগের জায়গায় ফিরে এসে এক পর্যায়ে অবনতি ঘটতে ঘটতে প্রকট আকার ধারণ করে। এছাড়া আন্দোলন সংগ্রামের পরিপেক্ষিতে চট্টগ্রামের উন্নয়নের লক্ষে ১৯৯৫ সালে সিডিএ মহানগরীর মাষ্টার প্ল্যানকে সংশোধন করে যার মধ্যে মহানগরীর জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের জন্য পরবর্তী ২০ বছর মেয়াদী ড্রেনেজ প্রকল্পের বিস্তারিত নির্দেশনা প্রদান করা হয়। উদাহরণ স্বরূপ এর আওতায় বহদ্দারহাট থেকে কর্ণফুলি শাহ আমানত সেতু পর্যন্ত নতুন খাল খননের পরিকল্পনা ছিল। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আজ পর্যন্ত মাষ্টার প্ল্যানের সামান্যতমও কাজ করা হয়নি। কারণ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ গুলি এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ অবহেলা করেছেন, তারা মাস্টার প্ল্যান মোতাবেক কেন ডিপিপি তথা প্রকল্প প্রস্তাব দেননি এবং এতে সমস্যা আবারো জমে উঠে এবং নগরবাসী চরম দুঃখ দুর্দশার সম্মূখিন হয়েছে। এই অবস্থায় ২০১৫ সালে আমরা অতীতের সেই উন্নয়ন সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় আবারও সোচ্চার হতে বাধ্য হলাম। চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম গঠন করে ২০১৫ সালের জুলাই মাস থেকে মত বিনিময়, সেমিনার, সভা, স্বারকলিপি, মানব বন্ধন, সংবাদ সম্মেলন করেছি। ১৯১৭ সালে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট স্বারকলিপি প্রদান করে চট্টগ্রাম মহানগরীকে রক্ষাকল্পে ও জাতীয় স্বার্থে জলাবদ্ধতার সমাধান তাঁর জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করি। ইতিমধ্যে অবশ্য ২০১৫ সালে জুলাই মাসে আমাদের নাগরিক ফোরামের সভা-সেমিনার, সংবাদ সম্মেলন ইত্যাদির পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম ও ঢাকার কিছু সংবাদপত্র ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া সমস্যাটিকে বিশেষ করে বর্ষাকালে জলবন্দি নাগরিকদের দুর্দাশার চিত্র তুলে ধরেন, যা ১৯৯৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তেমন দেখা যায়নি। পাশাপাশি ওয়াসা মহানগরীর ড্রেনেজ সংক্রান্ত সেই মাষ্টার প্ল্যানকে বর্তমান অবস্থা অনুযায়ী রি-ডিজাউন করে। এছাড়া ২০১৫-১৬ থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ড ড্রেনেজের ব্যাপারে কর্ণফুলি মুখে কয়েকটি স্লুইস গেইট নির্মান ও অন্যান্য খনন কাজের জন্য প্রকল্প তৈরী করা শুরু করে এবং ২০১৭ সালে প্রথম দিকে অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ে প্রেরণ করা হয়। এক পর্যায়ে আমাদের জানামতে এই প্রকল্পটিই পরবর্তীতে সিডিএ অধিগ্রহণ করে। আপনারা হয়ত অবগত আছেন যে, ঐ পর্যায়ে পর্যন্ত মহানগরীর সংশ্লিষ্ট এক সংস্থা জানতেন না আরেক সংস্থা কি প্রকল্পের জন্য কাজ করছেন। আমাদের উপরোক্ত স্বারকলিপি প্রদানের পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশে সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা বরাদ্ধের ঘোষানা আসে।সেজন্য মাননীয়া প্রধানমন্ত্রীকে আমরা চট্টগ্রামবাসীদের পক্ষে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছি |

মাননীয়া প্রধানমন্ত্রীর নির্দেষ অনুযায়ী সিডিএ, সিটি কর্পোরেশন ও সেনাবাহিনীর যৌথ উদ্দোগে উক্ত সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার কাজ বাস্তবায়নের কথা ছিল। তবে এযাবৎ সেনাবাহিনীর প্রকৌশল শাখাকে প্রকল্পের মূল কাজটি দেয়া হয়েছে | সিডিএ মূলত ভূমি হুকুমদখলের কাজটি করবেন | সিটি কর্পোরেশন এর ভূমিকা এই ব্যাপারে দেখা যাচ্ছে না, যদিও অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের বিষয়ে তাদের কিছু ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে |. আপনারা নিশ্চয় অবগত আছেন যে, চট্টগ্রাম মহানগরী সম্প্রতি ভয়াবহ জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে। কোন কোন স্থানে বিগত সময়ের চেয়েও বেশী সমস্যা ছিল । ইতিমধ্যে আমি নাগরিক ফোরামের অন্যান্যদের সাথে নিয়ে মুরাদপুর, শুলকবহর, বহদ্দারহাট, খতিবেরহাট, চকবাজার, বাকলিয়া, চাক্তাই এর কর্ণফুলি পর্যন্ত এবং আগ্রাবাদ, গোসাইলডাংগা, নাছির মহেষখালী এলাকা সংলগ্ন খাল গুলি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি এবং এলাকার জনসাধারণের সাথে কথা বলেছি। আমরা কিছু কিছু এলাকায় শুধুমাত্র দুই তিনটি স্থানে স্লুইচ গেইট ও খাল পরিস্কার করার জন্য কয়েকটি স্কেভেটার ও কিছু মাটি তোলা এবং কিছু অস্থায়ী স্থাপনা খাল পাড় থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে দেখেছি। কিন্তু এগুলি এখনো উল্লেখযোগ্য নয় | ইতিমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড কয়েকটি স্লুইস গেট নির্মাণের জন্য পেয়েছেন ১৫০০ কোটি টাকার বরাদ্ধ |

তিন বছরের মধ্যে প্রকল্পের বাস্তবায়ন করার কথা থাকলেও ২০% কাজ হয় নি | কাজের এই ধীরগতির কারণ হচ্ছে প্রকল্প বাস্তবায়নে আরো সমীক্ষার প্রয়োজন এবং সিটি কর্পোরেশন, সিডিএ , পানি উন্নয়ন বোর্ড,ওয়াসা ইত্যাদি সংস্থার মধ্যে চরম সমন্বয়হীনতা, রেষারেষি, পারস্পরিক দোষারোপ ও দ্বন্দ্ব | সার্বিক পরিস্থিতি হয়েছে হতাশাব্যঞ্জক | বলা হচ্ছে মেগা প্রকল্প কিন্তু কাজ চলছে এখনো সীমিত আকারে |

এই পৰিস্থিতিতে গত ৪ আগস্ট আমরা চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার স্থায়ী ও দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাগুলির সমন্বয় নিশ্চিত করে বরাদ্দকৃত অর্থের সদ্ব্যবহার এর লক্ষে এক সফল ও যুগান্ত সৃষ্টিকারী কনভেনশন এর আয়োজন করি যেখানে সিটি কর্পোরেশন এর মেয়র, সিডিএর চেয়ারম্যান, সেনাবাহিনীর প্রকল্প পরিচালক , পানি উন্নয়ন বোর্ডের এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি, বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ও সর্বস্থরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন | এই প্রথমবার সেনাবাহিনী প্রকল্পে তাদের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জনগণকে অভহিত করলেন আর মেয়র ও সিডিএ চেয়ারম্যান নাগরিকদের সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন | এই কনভেশনের মূল প্রস্তাব হলো –

-জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থে চট্টগ্রাম মহানগরীর অসহনীয় জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বরাদ্ধকৃত হাজার হাজার কোটি টাকা সুষ্ঠ ব্যয় করে মেগা প্রকল্পে যথাযথ ও নির্র্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, সিডিএ, ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বন্দরসহ সকল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় নিশ্চিতকরণ প্রয়োজন। প্রতি দু মাস অন্তর তাদের সমন্বয় সভা করা প্রয়োজন |
-এ ক্ষেত্রে পারস্পরিক দ্বন্দ ও কাঁদা ছোড়াছুড়ি পরিহার করে এই প্রকল্পের সিংহভাগ বাস্তবায়নের দায়িত্ব সেনাবাহিনীর প্রকৌশল টিমের মাধ্যমে সম্পন্ন করলে কাজ মানসম্মত হবে বলে নগরবাসী আশাবাদী
– প্রকল্প বাস্তবায়নে মহলের দীর্ঘসূত্রতা বা দুর্নীতি নগরবাসী যেন মেনে না নেয় তার জন্য নগরবাসীকে সোচ্চার হতে হবে।
-জলাবদ্ধতা সমাধানে যা কাজ করতে হবে তা সংরক্ষার্থে নগরবাসীর দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হওয়ার উপর গুরুত্ব আরোপ করে কনভেনশনে
-প্রতিমাসে জবাবদিহি মূলক নাগরিকদেরকে নিয়ে অন্তত একটি সমন্বয় সভার পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত টিম কাজের অগ্রগতী বিষয়ে সাধারণ মানুষকে জানান দেওয়ার বিশেষ ব্যবস্থা রাখার আহ্বান
-প্রকল্পের পর সিটি কর্পোরেশন কে পর্যাপ্ত বরাদ্ধ, লোকবল ইত্যাদি দিয়ে নিয়মিত খাল ও ড্রেন সংরক্ষণ ও পরিষ্কারের দায়িত্ব দিতে হবে
-মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ তদারকি কমিটি করা প্রয়োজন | এই কমিটি প্রতিটি
সদস্যরা বিনা নোটিশ এ প্রতিমাসে অন্তত একবার পুরোদিন কাজ এর অগ্রগতি পরিদর্শন করে দু মাস অন্তর বসতে হবে
-ওয়ার্ড কাউন্সিলর দের নেতৃত্বে গ্রহণযোগ্য নাগরিকদের নিয়ে এলাকাভিত্তিক সাত সদস্যের পরিদর্শন কমিটি প্রতি মাসে একবার বসবেনা যেখানে জনসাধারণ অংশ নেবেন | এখানে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ও পলিথিন বেগ ইত্যাদি ফেলে খাল ও ড্রেন নিবৃত্ত করতে নাগরিকদের উৎসাহিত করবেন | এ বিষয়ে এলাকার প্রতি মাসে অন্তত দুবার জুমার নামাজের আগে মসজিদের ইমামদের কিছু বক্তব্য দেয়ার জন্য দায়িত্ব দিতে হবে | কমিটির কোনো অভিযোগ বা প্রস্তাব প্রকল্প পরিচালকের নিকট দেয়া যাবে |
-সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে খালের ভুমি উদ্ধার করতে হবে।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,

আমরা মনে করি নগরবাসী এবং জনপ্রতিনীধিরা এ ব্যাপারে সজাগ ও সচেতনভাবে এগিয়ে না এলে জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধান কখনোই হবে না। হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্ধ হলেও এই অর্থ কিভাবে কখন কোথায় ব্যয় করবে তার কোন সঠিক তথ্য নগরবাসীকে এখনো পুরোপুরি জানেন না । যদিও আমাদের কনভেনশন এ সেনাবাহিনী প্রকল্প সম্পর্কে একটা ধারণা দিয়েছেন |

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,
আমরা অত্যন্ত দুঃখের সাথে লক্ষ্য করেছি যে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাথে সিডিএ’র এই বিষয়ে ঐক্যবদ্ধতা ও সম্মবিত কোন প্রচেষ্টা এযাবত দেখা যায়নি বরং এ বছর জলাবদ্ধতা থেকে নগরবাসী তেমন রেহায় পাচ্ছেন না বলে সিটি কর্পোরেশন জানিয়েছেন। অথচ এর মধ্যে সিডিএ উল্লেখ্যযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে নগরবাসীকে ধারণা দিয়েছিলেন । আগামী বছরের মধ্যে সমস্যা সমাধানের কথা ছিল এবং এই কারনেই অগ্রধীকার ভিত্তিত্বে মাননীয় প্রদানমন্ত্রী সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার জরুরী বরাদ্ধের সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন। ২ বছর প্রায় অতিবাহিত হতে চলল এবং আগামী ২ বছরের মধ্যে সমাধানের কোন আলো নগরবাসী দেখছেন না। বিষয়টি নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে সংবাদপত্র ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া জোরালো ভূমিকা পালন না করলে প্রকল্পের অগ্রগতি দুর্বলতা ইত্যাদি সর্ম্পকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় এবং দেশবাসী অবগত কি করে হবেন?

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,
এছাড়াও চট্টগ্রামবাসীর পক্ষে চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম এর আহবান-
-কর্ণফুলীর পুরাতন জরাজীর্ণ বিপদজনক সেতুতে নতুন সড়ক-রেল সেতু নির্মাণ করতে হবে অনতিবিলম্বে কারণ পুরাতন সেতুটিতে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে | এখানে শুধুমাত্র রেল সেতু করা সঠিক হবে না |
-যানজটের নিরসনের জন্য ইতিমধ্যে নির্মাণকৃত ফ্লাই ওভারগুলিকে কাজে লাগিয়ে আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল ও নিয়ন্ত্রণের জন্যে লোকবল বৃদ্ধি করতে হবে
– উন্নয়নের অর্থ যেন অপচয় না হয় বা দুর্নীতিতে লোপাট হয়ে না যায় এবং চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নতির জন্য প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে বিশেষ একটি সেল থাকা প্রয়োজন
– চট্টগ্রামের সার্বিক গুরুত্ব বিবেচনায় চট্টগ্রাম উন্নয়নের রোড ম্যাপ দিতে হবে|”

সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের মহাসচিব মো. কামাল উদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন বোয়ালখালী চান্দগাও আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মঈনউদ্দিন খান বাদল, ইউরোপীয়ান আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক এম এ গনি , বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী প্রমুখ।