চট্টগ্রাম থেকে ৫ লাখ চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য

0
49

বৃহত্তর চট্টগ্রাম থেকে কোরবানির ঈদে সাড়ে ৫ লাখ চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন চট্টগ্রামের আড়তদাররা।  এজন্য নেওয়া হয়েছে প্রস্তুতিও।

চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতি সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১৩ সালে গরুর চামড়া বিক্রি হয় প্রতি বর্গফুট ৯০ টাকায়। লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট খাসির চামড়ার দর নির্ধারণ করা হয় সর্বনিম্ন ৫০ এবং সর্বোচ্চ ৫৫ টাকা। ২০১৯ সালে এসে ৯০ টাকার চামড়ার দর নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি বর্গফুট ৪৫-৫০ টাকা। খাসির চামড়া সর্বোচ্চ ৫০ ও সর্বনিম্ন ৪৫ টাকা। ঢাকার বাইরে এই দর ৪০ টাকা।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রেয়াজুল হক জানান, গত বছর চট্টগ্রাম অঞ্চলে পশু কোরবানি হয়েছে ৬ লাখ ৫৫ হাজার ৪১৫টি। এবার চট্টগ্রামে কোরবানির জন্য  প্রয়োজন হবে ৭ লাখ ২০ হাজার ৯৫৭টি পশু। তবে বেসরকারি হিসাব বলছে, এই সংখ্যা ৮ লাখ ছাড়িয়ে যাবে।

চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, জেলা ও নগরের পাড়া-মহল্লা থেকে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ছোট চামড়া ৫শ-৬শ টাকায় এবং বড় চামড়া ৮শ থেকে ১ হাজার টাকায় সংগ্রহ করে। মধ্যস্বত্বভোগীরা এসব চামড়া কিনে আড়তে পৌঁছানোর পর চামড়ার দর দাঁড়ায় ১২শ থেকে ১৪শ টাকায়।

চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমবায় সমিতির উপদেষ্টা মুসলিম উদ্দিন জানান, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি থেকে সাড়ে ৫ লাখের বেশি কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এর মধ্যে গরুর চামড়া প্রায় ৪ লাখ। ছাগল, ভেড়া ও মহিষের চামড়া দেড় লাখের বেশি।

গত বছর ৫ লাখ চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও সংগ্রহ হয়েছে সাড়ে ৪ লাখ। এ বছর লবণের দাম স্বাভাবিক রয়েছে। চামড়া সংগ্রহের জন্য আতুরার ডিপো থেকে হামজারবাগ এলাকার অস্থায়ী আড়তগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে। এ ছাড়া নগরের কালুরঘাট, সিইপিজেড, আগ্রাবাদ, বাকলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় কাঁচা চামড়া সংগ্রহের জন্য আড়ত তৈরি করা হয়েছে।

চট্টগ্রামে ২২টি ট্যানারির মধ্যে এখন টিকে আছে মদিনা ট্যানারি ও রিফ লেদার। ইটিপি না থাকায় মদিনা ট্যানারির কার্যক্রম বন্ধ আছে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, চট্টগ্রামে চামড়া সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় ঢাকায় গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের কাছে তারা জিম্মি। একটি চামড়ায় লবণ দেওয়া, শ্রমিক খরচ এবং ঢাকার ট্যানারিতে নেওয়া পর্যন্ত প্রতি ফুট চামড়ায় ১৫ টাকা খরচ হয়।