চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর ছাত্রসেনা: মোস্তাফা সভাপতি, এরশাদ সম্পাদক

0
37

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ নঈমুল ইসলাম বলেন, ক্ষমতার পালাবদলে নানাভাবে আমাদের ইতিহাস বিকৃত হয়েছে। স্বাধীনতার এত বছর পরও আমরা আমাদের নতুন প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানাতে পারিনি। মুক্তিযুদ্ধের সময় এদেশের আপামর জনগণের ভূমিকার পাশাপাশি অন্যান্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কী ভূমিকা রেখেছিলেন তার সঠিক ইতিহাস আমাদের শিক্ষার্থীদের জানতে হবে। তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতার সংগ্রামে যারা বিরোধীতা করেছিল তাদের উত্তরসুরীরাই আজ জঙ্গিবাদে সংশ্লিষ্ট। জঙ্গিবাদের উদ্ভব হঠাৎ করে সৃষ্টি হয়নি। এর আগেও পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে জঙ্গিবাদের উদ্ভব ঘটেছে। শুধুমাত্র প্রশাসন দিয়ে জঙ্গিবাদ নির্মূল করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক জাগরণ। সাংস্কৃতিক অবক্ষয় রোধ করতে হবে। বাঙালি জাতির প্রকৃত সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে দেশ ও জাতির মানসিক ও বাস্তবিক উন্নয়ন ঘটানোর আহবান জানান তিনি। ০১ এপ্রিল সোমবার বিকালে চেরাগী পাহাড়স্থ সুপ্রভাত স্টুডিও হলে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা চট্টগ্রাম মহানগর উত্তরের উদ্যোগে কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর সভাপতি ছাত্রনেতা মুহাম্মদ মাছুমুর রশিদ কাদেরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনার কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক যুবনেতা সৈয়দ মুহাম্মদ আবু আজম। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর সভাপতি আলহাজ্ব মুহাম্মদ নঈমুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর সহ-সভাপতি ফজলুল করিম তালুকদার, জায়নুল আলম, শফিউল আলম, মাওলানা সোহাইল উদ্দীন আনসারী, যুবনেতা মুহাম্মদ জসিম উদ্দীন, হাবিবুল মোস্তফা সিদ্দিকী, নুরুল্লাহ রায়হান খান, ফরিদুল ইসলাম। প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার সহ সভাপতি ছাত্রনেতা নিজামুল করিম সুজন। নির্বাচন কমিশনার ছিলেন ছাত্রসেনার কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ দিদারুল ইসলাম কাদেরী। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক মুহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, মুহাম্মদ শিহাব উদ্দীন, মুহাম্মদ এহসান, মুহাম্মদ কাউসার খাঁন, মুহাম্মদ এরশাদুল করিম, মুহাম্মদ ফোরকান রেজা, মুহাম্মদ মঈনুদ্দীন কাদেরী, মুহাম্মদ তৌহিদুল হক, হাবিবুল্লাহ আরাফাত, মুহাম্মদ আদনান তাহসিন আলমদার, মুহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন, মুহাম্মদ বাবর আলী, মুহাম্মদ আবদুল কাদের, মাহমুদুল হাসান, আবু সায়েম মুহাম্মদ কায়ুম, মুহাম্মদ জিয়া উদ্দিন রায়হান, মুহাম্মদ নাঈম উদ্দিন, মুহাম্মদ এইচ এম আরমান, কাজী মুহাম্মদ আরাফাত, মুহাম্মদ ইফতেখারুল আলম হাফেজ মুহাম্মদ আতিকুল্লাহ, মুহাম্মদ ইমতিয়াজ, মুহাম্মদ আব্দুর রশিদ, মুহাম্মদ বেলাল রেযা প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সৈয়দ মুহাম্মদ আবু আজম জ্ঞান ও আদর্শ নির্ভর রাজনীতি চর্চার আহবান জানিয়ে বলেন, একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ছাত্রসংগঠনের কর্মিদের দক্ষ ও যোগ্য হবার কোন বিকল্প নেই। তিনি নৈতিক অবক্ষয় থেকে ছাত্রসমাজকে রক্ষায় ছাত্রসেনার নেতাকর্মিদের আদর্শিক কর্মসূচির মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার আহবান জানান। প্রধান বক্তা নিজামুল করিম সুজন বলেন, ছাত্রসেনা দীর্ঘ ৩৯ বছর ধরে ছাত্ররাজনীতির গৌরবোজ্জ্বল ধারা ফিরিয়ে আনতে কাজ করে যাচ্ছে। সভাপতির বক্তব্যে মাছুমুর রশিদ বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ছাত্রসেনার কর্মিরা নিবেদিত। দেশকে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের থাবা থেকে রক্ষায় ছাত্রসেনা আদর্শিক লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, সরকারী চাকুরীতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ করার দাবি ও বিভাগীয় শহরগুলোতে নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণের দাবি জানান। কাউন্সিলে সর্বসম্মতিক্রমে মুহাম্মদ গোলাম মোস্তফাকে সভাপতি, মুহাম্মদ এরশাদুল করিমকে সাধারণ সম্পাদক, শাহাদাৎ হোসাইনকে সাংগঠনিক সম্পাদক ও মুহাম্মদ মঈনুদ্দীন কাদেরীকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ৪৫ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়।