চাকসু ও ফেলে আসা দিন গুলো

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| শনিবার, ২৩ মার্চ , ২০১৯ সময় ১১:৩৬ অপরাহ্ণ

১৯৯০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী ছিল চাকসু নির্বাচন। সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য বনাম ছাত্রশিবির। চাকসু ভিপি হিসেবে অন্যতম প্রার্থী ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাঈনুদ্দিন হাসান চৌধুরী। এ সময় তিনি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতা। দারুন মেধাবী। কিন্ত অপরদিকে স্থানীয় জাতীয় ছাত্রলীগ নেতা নাজিম উদ্দিন আগ্রহী হয়ে উঠেন। বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় দ্বন্দ্ব। নাজিম ভাই বেশ সিনিয়র। বিভিন্ন সময় পরীক্ষা না দেয়ায় তিনি হয়ে উঠেন একমাত্র সিনিয়র নেতা। শেষ পর্যন্ত শর্ত আরোপ হয়, জাতীয় ছাত্রলীগের নেতা নাজিম উদ্দিনকে ভিপি হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হলে এ সংগঠন থেকে কেউ আর বড় পদ পাবে না। ফলে গ্রহণযোগ্য থাকা সত্বেও শক্তিশালী অনেক নেতা বড় কোন পদ পায় নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে মদনহাটে বাড়ী বলে তিনি এলাকারও সমর্থন পান। অনেকটা কৌশলগত কারনে চাকসু ভিপি পদে ছাত্রঐক্যের হয়ে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়। জাতীয় ছাত্রলীগের আলাওল হলের সভাপতি হিসেবে ভিপি পদের অন্যতম প্রার্থী ছিলাম আমি। কিন্ত নাজিম ভাইয়ের কারনে কোরবানি দিতে হলো পদটি। আরেক মনসুর বাংলাদেশ ছাত্রলীগের হয়ে আলাওল হলের ভিপি হিসেবে মনোনয়ন পায়। জাতীয় ছাত্রলীগ ছিল আওয়ামী লীগ নেতা রাজ্জাক ভাইয়ের করা বাকশাল এর ছাত্র সংগঠন (পরে বাকশাল আর আওয়ামী লীগ এক হয়ে যায়)। আর আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছিল বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। দুটো ছাত্র সংগঠন আলাদা আলাদাভাবে সক্রিয় ছিলো। এ সময় আলাওল আর এফ রহমান ছিলো ইসলামী ছাত্র শিবিরের দখলে। তারা ভেবেছিল আলাওল আর এফ রহমান হলে শিবিরের প্রার্থীরাই পুরো প্যানেলে জিতবেন। প্রয়াত জাতীয় ছাত্রলীগ নেতা জাহাঙ্গির ছাত্তার টিংকু ভাই ছিলেন আসন ভাগাভাগির অন্যতম নেতা। ভিপি হিসেবে মনোনয়ন না পেলেও আলাওল হলের ছাত্রঐক্যের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বটি আমার কাধেঁ তুলে দেন। বলে দেন, যে কোন মূল্যে পুরো হল যেন ছাত্রঐক্যের প্যানেল জয়লাভ করে। ৭ তারিখ রাতে ঘুম হয় নি। ভোর ৪ টা থেকে হলে সবার দরজায় আঘাত। সবাইকে ঘুম থেকে তুলে লাইনে দাড় করিয়ে দেয়া ছিল আসল কাজ। শিবিরও কম যায় না। শান্তিপূর্ণ উপায়ে শুরু থেকে ভোটের লাইন ছিল ছাত্রএক্যের দখলে। রাত ৮ টায় জানলাম প্রতিটি পদে ছাত্রঐক্য মাত্র ২/৪ ভোটের ব্যবধান নিয়ে জয়লাভ করে। পুরো প্যানেলে জয়লাভ। টিংকু আর খোরশেদ আলম সুজন ভাই তৃপ্তির হাসি হেসে বললেন, তোমার পরিশ্রম বৃথা যায়নি। এফ রহমান হলে পুরো প্যানেলে শিবির জয়লাভ করে। চাকসু নির্বাচনের বাতাস আবার বইতে শুরু করেছে। আগের মতোন পরিবেশ আর নেই। ছাত্রঐক্যও কি আর হবে? দীর্ঘ সময় ধরে নেতৃত্ব শূন্য অবস্থায় চাকসু থেকে কেমন নেতা বেরিয়ে আসে এটিই এখন দেখার বিষয়।


আরোও সংবাদ