জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটারের সম্মাননায় চট্টগ্রামের নাট্যজন আহাম্মদ কবীর

0
26

নাট্যচর্চায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটারের ‘নাট্যজন সম্মাননা’ পেলেন চট্টগ্রামের নাট্যকার, লেখক ও ইতিহাস গবেষক আহাম্মদ কবির।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটায় সম্মাননা গ্রহণ করেন তিনি। তার হাতে সম্মাননা তুলে দেন বিশ^বিদ্যালয়ের প্রত্মতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. একেএম শাহনেওয়াজ। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন প্রাচ্যনাটের মূখ্য সম্পাদক তৌফিকুল ইসলাম ইমন, জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম সাইমুম।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘সৃষ্টি কর্ম, বাংলা নাটক ও নাট্যজগতে তার অবদানকে সম্মান জানাতে জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটার আহাম্মদ কবীরকে ‘নাট্যজন সম্মাননা’ প্রদান করেছে। এমন একজন নিষ্ঠাবান নাট্য ব্যক্তিত্বকে সম্মাননা জানাতে পেরে গর্বিত জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটার।’

এ সময় সম্মাননা প্রাপ্ত নাট্যজন আহাম্মদ কবির বলেন, ‘দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে আজীবন। আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া এই সম্মাননা। ধন্যবাদ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং থিয়েটার..’

নাট্যকার আহাম্মদ কবীরের জন্ম ১৯৫৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের পটিয়ায়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাস করেন। পরবর্তীতে ড. মনিরুজ্জামানের তত্ত্বাবধায়নে ভাষা বিজ্ঞান ও পঠনের ওপর গবেষণা করেন। ১৯৭৫ সালে যাত্রাপালায় অভিনয়ের মাধ্যমে নাট্যজগতে তার প্রবেশ। ১৯৮১ সাল থেকে নিয়মিতভাবে নাটক রচনা করে চলেছেন। এখন পর্যন্ত তার রচিত নাটক ৪২টি; যার মধ্যে ৩২টি নাটকের প্রদর্শনী হয়েছে। চবি নাট্যকলা বিভাগের প্রযোজনা ‘চাঁদ মনসার কাহন’, “‘ফুলজান’, ‘পন্ডিত বিহার বিশ্ববিদ্যালয়’ ছিল তার রচনা। তার রচনায় গভীরভাবে ফুটে উঠে বাংলার ঐতিহ্য এবং বস্তুতাত্ত্বিক সমাজ বাস্তবতা। যখন দেশের অধিকাংশ নাটক এবং থিয়েটার বদ্ধমূল হয়ে আছে ইউরোপীয় ফোকলোর ধারণায়; সেই সময় তিনি ভারতীয় ফোকলোর ধারণায় বিশ্বাসী একজন নাট্যসৃজক। নীরবে, নিভৃতে ৩৯ বছর যাবৎ নিজের সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে সমৃদ্ধ করে চলেছেন বাংলা নাট্যভান্ডারকে।