ডেঙ্গুর ‘পিক টাইম’ সামনে!

0
55

প্রথম আলো:: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে হাসপাতালে প্রতিদিন ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দিচ্ছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, নতুন রোগী কমছে। ৭ আগস্ট ঢাকা ও ঢাকার বাইরে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ২ হাজার ৪২৮ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছিল। আজ ১৩ আগস্ট নতুন ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২০০ জন। অর্থাৎ এই সময়ে রোগী ভর্তি কমেছে ৫০ শতাংশের বেশি।

এখন প্রশ্ন উঠেছে, ডেঙ্গুর প্রকোপ কি কমে গেছে? সরাসরি ‘হ্যাঁ’ কিংবা ‘না’ বলছেন না কেউ। ডেঙ্গুর ‘পিক টাইম’ (যে সময়টাতে মানুষ ডেঙ্গুতে ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হয়) বাংলাদেশ পার করল কি না, তাও কেউ নিশ্চিত নয়। গত কয়েক বছরের ইতিহাস বলছে, ডেঙ্গুর ‘পিক’ সময়টা সামনে।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সাবেক পরিচালক এবং বর্তমানে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) উপদেষ্টা অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান গত সপ্তাহে প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘যেভাবে ডেঙ্গু নিয়ে হইচই হয়েছে, তাতে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক যেমন ছড়িয়েছে, মানুষ সচেতনও হয়েছে। সুরক্ষার জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে মানুষ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারও নানা উদ্যোগ নিয়েছে। এতে ডেঙ্গুর প্রকোপ কিছুটা কমবে, এটাই স্বাভাবিক।’

মোটাদাগে এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুর মৌসুম। গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান বলছে, সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয় সেপ্টেম্বরে। ২০১৮ সালে ১০ হাজার ১৪৮ জন রোগী ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। এর মধ্যে জুলাইয়ে ৯৪৬, আগস্টে ১ হাজার ৭৯৬ ও সেপ্টেম্বরে ৩ হাজার ৮৭ জন। সেপ্টেম্বরের পর থেকে প্রকোপ কমতে থাকে।

এ বছর জুলাই মাসেই ১৬ হাজার ২৫৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। আগস্টের প্রথম ১৩ দিনে রোগীর সংখ্যা ২৬ হাজার ছাড়িয়েছে। সেপ্টেম্বর আসতে এখনো ১৭ দিন বাকি।

এক দিন আগে আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেছিলেন, মুষলধারে বৃষ্টি হলে এডিস মশা কমে যাবে, ডেঙ্গুর প্রকোপও কমবে। কিন্তু বৃষ্টি সেভাবে হচ্ছে না।

এদিকে মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক সানিয়া তাহমিনা সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত বছর ডেঙ্গুর পিক সময়টা ছিল সেপ্টেম্বরে। এ বছর সেটা কখন হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।’

ঈদের ছুটিতে বহু মানুষ ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে গেছেন। কেউ কেউ মনে করছেন, হয়তো সে কারণে ঢাকায় রোগী কমেছে। কিন্তু ঢাকার বাইরেও নতুন রোগী কমছে। কেন কমছে?

অধ্যাপক সানিয়া তাহমিনা বলেন, ঈদের ছুটির কারণে মানুষ হাসপাতালে ভর্তি কম হচ্ছে, বা আগে অনেকে ভয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, এখন ভয় কমে যাওয়ায় বা সচেতন হওয়ায় ভর্তি কম হচ্ছে—ঠিক কোন কারণে তা বলা যাচ্ছে না। এখন কোনো মন্তব্য করা বিজ্ঞানসম্মত হবে না।

ঢাকা শহরে ঈদের ছুটির কারণে মানুষ কমেছে। কিন্তু মশা কমেছে এমন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। ঈদের ছুটি শেষে বুধবার থেকে মানুষ ঢাকায় আসতে শুরু করবে। হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক আয়শা আক্তার বলেছেন, ‘আগামী ১০ দিন পর হয়তো বলা সম্ভব হবে ডেঙ্গু পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে।