ড. এ আর মল্লিক : আমাদের সুপার হিরো

mirza imtiaz প্রকাশ:| সোমবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি , ২০১৯ সময় ১২:১৬ অপরাহ্ণ

প্রফেসর ড. এ আর মল্লিক বাংলাদেশের শিক্ষা ও বুদ্ধিবৃত্তি অঙ্গনের একজন বিশিষ্ট ব্যাক্তিত্ব ছিলেন। পুরো নাম আজিজুর রহমান মল্লিক,কিন্তু সংক্ষেপিত নামেই তিনি বিখ্যাত। শিক্ষাবিদ,ইতিহাসবিদ,পন্ডিত, ভাব – শিক্ষক, ধীমান গবেষক, প্রাবন্ধিক,প্রজ্ঞাবান প্রশাসক, দক্ষ সংগঠক, প্রতিষ্ঠান -প্রতিষ্ঠাতা, মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রামী নেতা, মুক্ত চিন্তার প্রবক্তা এমন অনেক পরিচয় তার। ড. মল্লিক কে নিয়ে যত বিশেষণ আছে তার সব প্র‍য়োগ করা যায়। একজন মানুষের এতোসব গুনাবলী থাকতে পারে তা ভাবতেই আশ্চর্য লাগে। আসলে মল্লিক সাহেব ছিলেন একজন মানুষের ভিতর অসংখ্য মানুষ। তার মতো মণীষী আমাদের সমাজে খুব কম জন্মগ্রহণ করে। আজ তার ২১তম মৃত্যু বার্ষিকী। তিনি ১৯৯৭ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ৭৯ বছর বয়সে ইহলোক ত্যাগ করেন। ড. এ আর মল্লিকের জন্ম ১৯১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর। ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার রাজাপুর গ্রামে।দেখতে খুব সুন্দর হয়েছিলেন বলে বাড়ির বয়োজেষ্ঠ্যরা তার ডাক নাম রেখেছিলেন শোভা। আত্নীয় স্বজন, বন্ধুবান্ধব আর গাঁয়ের মানুষ এ নামেই তাকে ডাকতো। তার জন্ম লাভের পর সবাই খুব খুশি হয়েছিলেন এই ভেবে যে এই ছেলে একদিন অনেক বড় হবে, দেশ ও দশের মুখ উজ্জ্বল করবে, করেছিলেনও বটে আজিজুর রহমান মল্লিক। পিতা ইসমাইল মল্লিক চাকুরী করতেন ভারতীয় কাস্টমসের রেঙ্গুনস্থ (মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন) অফিসের কর্মকতা। সুতরাং পড়াশোনা যেমন গ্রামের পাঠশালায়,তেমনি রেঙ্গুন শহরে। পরে স্টান্ড্যাড সেভেনের ছাএ থাকাবস্থায় পারিবারিক প্র‍য়োজনে চলে আসেন দেশের বাড়িতে। মানিকগঞ্জ মডেল হাই স্কুল। মল্লিক ১৯৩৪ সালে ম্যাট্রিক পাশ করেছেন ঐ স্কুল থেকেই। আই এ পাশ করেছেন ঢাকা কলেজ থেকে। ১৯৩৬ সালে ভর্তি হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সে সময় পরিক্ষায় যারা ভাল করতো তাদের বেশীর ভাগ ভর্তি হতো তখনকার হাই প্রফাইল সাবজেক্ট ইতিহাস বা ইংরেজি বিষয়ে। সে বেছে নিলো ইতিহাস। এম এ পাশ করলেন ১৯৪১ সালে। ঐ বছরই তার শিক্ষক ভারতীয় উপমহাদেশের খ্যাতনামা ঐতিহাসিক প্রফেসর কে আর কানুনগোর আমন্ত্রনে মাএ ২২ বছর বয়সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস বিভাগে লেকচারার পদে যোগ দিলেন মল্লিক। এ চাকরী ছেড়ে দিয়ে ১৯৪৩ সালে রাজশাহী সরকারী কলেজে চলে যান। এর মধ্যে জীবন সঙ্গী হিসেবে বেছে নেন ময়মনসিংহের খান বাড়ির মেয়ে বেগম রহমতুন নেছা সানুকে। যিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রথম সংস্থাপন সচিব (এখন জনপ্রশাসন) ও এ দেশে তৈরী পোষাক শিল্পের পথিকৃৎ এবং ডাকসাইটে মুক্তিযোদ্ধা নুরুল কাদের খান সিএসপির বোন। বস্তুত : মিসেস মল্লিক এক অসাধারন গুনবতী নারী। অসম্ভব ব্যাক্তিত্বময়ী যাকে দেখলে আপনা থেকেই শ্রদ্ধাবোধ জেগে ওঠে। যা হোক ফিরে আসি আগের কথায়। ১৯৫০ সাল। শিক্ষা ছুটি নিয়ে লন্ডন গেলেন মল্লিক। ভর্তি হলেন লন্ডন স্কুল অফ অরিয়েন্টাল আন্ড আফ্রিকান স্টাডিস(সোয়াস)- এ। খুব বিখ্যাত অধ্যাপক স্যার সি এইচ ফিলিপসের অধীনে মাএ ২১ মাসে phd ডিগ্রী নিয়ে দেশে ফিরেন। তার থিসিস টি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে সিলভার থিসিস হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে এবং এর পরেই তিনি মর্যাদাবান FRAS পদবী পান এবং ৫০ -এর দশকের মধ্যভাগে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে হিস্ট্ররী ডিপার্টমেন্টে ফ্যাকাল্টি হন। phd করে দেশে ফিরে নবপ্রতিষ্ঠিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস বিভাগে অধ্যাপনায় যোগ দেন। উওরবঙ্গের নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগটি তার নেতৃত্বেই গড়ে ওঠে। অনেকখানি বিশ্ববিদ্যালয়টিও। ঐ খানে তাকে ঘিরে যে বলয় তৈরী হয়েছিল সেখানে ছিলেন, সালাহ উদ্দিন আহমদ, জিল্লুর রহমান সিদ্দিকি, মুস্তফা নুরুল ইসলাম, বদরুদ্দিন উমর, জাস্টিস হাবিবুর রহমান শেলী,একাত্তরে শহীদ গণিতের হবিবুর রহমান,আব্দুল মজিদ, ফজলুল হালিম চৌধুরী, আবু ইমাম প্রমুখ। মল্লিকরা ছিলেন ধর্মনিরপেক্ষ পরমতসহিষ্ণু গনতন্রের পক্ষে: তথাকথিত ব্যাসিক ডেমোক্রেসির বিপক্ষে। এদের বিপরীতে ছিল পাকিস্তানী ভাবধারার শিক্ষকদের আরেকটি অংশ। অবশ্য ড.মল্লিক কোন দলীয় রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন না কখনো। তার মতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের দলীয় রাজনীতি করা উচিত নয়। রাজশাহীতে তিনি ছিলেন খুবই জনপ্রিয়। শুধু বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক নয়,শহরের তাবৎ সামাজিক,সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যিক কর্মকান্ডে তার একটা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা থাকতো। রাজশাহী ছেড়ে ১৯৬৫ সালে ড. মল্লিক প্রথমে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প লপরিচালক পরে প্রথম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চট্রগ্রামের এক দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এই বিশ্ববিদ্যালয় তৈরী করা তার জন্য ছিল এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি এই বিরাট কাজটি তার সুযোগ্য নেতৃত্বে শেষ করেন। চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেএে তার অবদান সর্বজনবিদিত। ছাএ, ছাএী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নানাবিধ সমস্য সমাধানে ভিসি হিসেবে নিরন্তর কাজ করে গেছেন তিনি। পাঠ ও পরিক্ষা গ্রহনের রুটিন নিয়মিতকরনের বিষয়ে ছাএ- ছাএীদের সবসময় উৎসাহ দিতেন। একবার একদল শিক্ষার্থী পরিক্ষা পেছানোর দাবী নিয়ে উপাচার্যের কাছে আসে। কিন্তু তিনি পরিক্ষা না পেছানোর সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।তবে তিনি ধের্য ধরে তাদের কথা শুনেন। ভিসি ড. মল্লিক তাদের বোঝাতে সক্ষম হন পরিক্ষা পেছানোর দাবী অযৌত্তিক। ছাএ,ছাএী তার যুত্তির কাছে হার মেনে অবশেষে পরিক্ষা পেছানোর দাবী থেকে সরে আসে। এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি কিংবদন্তী। বাঙালী জাতির সবচেয়ে সংকটময় ও গৌরবোজ্জল ঘটনা মুক্তিযুদ্ধ। ‘৭১ – এর সেই দুযোর্গময় সময়ে মল্লিক সাহেব জীবনের ঝুকি নিয়ে সদলবলে স্বাধীনতাযুদ্ধে যোগ দেন। মুক্তিযুদ্ধে তিনিই একমাএ উপাচার্য যিনি ছাএ ও শিক্ষকদের নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে । মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভারত,যুক্তরাষ্ট, যুক্তরাজ্য ও গ্রেট বিট্রেনে বিশ্বজনমত তৈরীর মহান ব্রত নিয়ে তিনি বহু বিশ্ববিদ্যালয়ে ও বিশ্বসংবাদ মাধ্যমের কাছে মুক্তিযুদ্ধের যৌক্তিকতা তুলে ধরেছেন। ৭১- এ জাস্টিস আবু সাইদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৬ সদস্য বিশিষ্ট জাতিসংঘে প্রেরিত বাংলাদ