তরুণদের মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের কণ্ঠস্বর হওয়ার আহ্বান

0
38

শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আলীম চৌধুরীকে দেশমাতৃকার তরে নিজের জীবন উৎসর্গকারী শ্রেষ্ঠ সন্তান অভিহিত করে তাঁর সুযোগ্য কন্যা ডা. নুজহাত চৌধুরী শম্পা তরুণ প্রজন্মের প্রতি মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের কণ্ঠস্বর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, তোমার যে শত্র“ সে কখনো তোমাকে জায়গা দেবে না। সে কিন্তু তোমাকে ভুলেনি। সে কিন্তু তার পরাজয়ের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য এই মুহূর্তে সংগঠিত হচ্ছে। আমরা যদি আমাদের শত্র“দের নির্মূল করতে না পারি তবে তারা আমাদের ছোবল মারবেই। সেই দিন আমরা আবার জয়ী হবো, যদি আমাদের নিজেদের হাত ধরা থাকে, যদি আমাদের হৃদয়ে ইতিহাস-আবেগ-সততা থাকে। সংবিধানের চার মূলনীতির শক্তিতে আমরা যদি বলিয়ান হই। আমরা আবার জিতবো। সত্য সব সময় জিতবে, কিন্তু সত্যের পথ সহজ নয়।
নির্মূল কমিটির তরুণ নেতাদের এবং উপস্থিত তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, যাঁরা নির্মূল কমিটি করে তাদের কিছু পাবার নেই। এখানে শুধু দিতে হয়, শুধু কষ্ট করতে হয়। সবাইকে বার বার মুক্তিযুদ্ধের কথা মনে করিয়ে দিতে হয়। যেন দেশটা, দেশের শাসনে যারা আছেন তারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে থাকেন। আমরা অনেকটা দিকনির্দেশকের মতো। আমরা দিক খুঁজে দিই, কোথায় মুক্তিযুদ্ধ আছে। কারণ আমাদের দৃষ্টি এমপির চেয়ার নয়। আমাদের দৃষ্টি মুক্তিযুদ্ধ, আমাদের দৃষ্টি এই সোনার বাংলা। সোনার বাংলা হলে আমার বাবার মতো অনেক বাবা-মা’র রক্তদান স্বার্থক হবে। সোনার বাংলা হলে ছোট্ট রাসেলের রক্তদান স্বার্থক হবে। স্বার্থক হবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রক্তদান।
১৩ ডিসেম্বর, নগরীর মোমিন রোডস্থ সুপ্রভাত স্টুডিও হলে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি চট্টগ্রাম জেলার উদ্যোগ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি প্রধান আলোচকের বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক এবং ৮ম জাতীয় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব লেখক-সাংবাদিক শওকত বাঙালির সভাপতিত্বে ও জেলা কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক মো. অলিদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় প্রধান আলোচক ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও ৮ম জাতীয় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব ডা. নুজহাত চৌধুরী শম্পা। বিশেষ অতিথি ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ডেপুটি এটর্নি জেনারেল ও সাবেক জেলা পিপি অ্যাডভোকেট মো. আবুল হাশেম। সূচনা বক্তব্য দেন জেলা নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক, সাবেক চসিক প্যানেল মেয়র প্রফেসর রেখা আলম চৌধুরী।
অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন সংগঠনের জেলা সহ-সভাপতি স্বপন সেন, দীপংকর চৌধুরী কাজল, মো. হেলাল উদ্দিন, সহ-সাধারণ সম্পাদক হাবিব উল্ল্যাহ চৌধুরী ভাস্কর, আবু সাদাত মো. সায়েম, আবদুল মান্নান শিমুল, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল আলম খান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক চৌধুরী, সুমন চৌধুরী, মিথুন মল্লিক, মো. সাহাব উদ্দিন, অসিত বরণ বিশ^াস, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক রুবা আহসান, সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সুচিত্রা গুহ টুম্পা, সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাজীব চৌধুরী, সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক রুবেল আহমেদ বাবু, কার্যকরী সদস্য মো. আলমগীর, আখতার হোসেন, মুক্তা জামান, পৌলম দেব, মোস্তাক আহমেদ মুরাদ, আকিব জাবেদ, দিপু বড়–য়া এবং অ্যাডভোকেট মো. আরিফ উদ্দীন চৌধুরী, রাজিব ভট্টাচার্য্য, হাসানুর রহমান জিয়াদ, ইমন শীল, রকিব হাসান, সাজ্জাদ বিন সাফা রিফাত, সাজ্জাদ হোসেন তালুকদার, জামশেদুল ইসলাম চৌধুরী, জয় প্রমুখ।
শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে সভাপতির বক্তব্যে শওকত বাঙালি বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শনের প্রধান অনুষঙ্গ হলো দেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় পরিচালিত করা।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা রাত-দিন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তাঁর সমস্ত পরিশ্রমের গায়ে যারা কালিমা লেপন করে দিচ্ছে তাঁদেরকে খুঁজে বের করতে হবে। ’৭৫-এর পর থেকে আওয়ামী লীগই খুজে পাওয়া যায়নি। এখন দেখছি সবাই আওয়ামী লীগ। আমরাই শুধু আওয়ামী লীগ না কারণ আমরা সমালোচনা করি।