দৃষ্টির আবৃত্তি আয়োজন ‘কবিতায় বর্ষা’

0
61

‘এমন দিনে তারে বলা যায়, এমন ঘনঘোর বরিষায়, এমন দিনে মন খোলা যায়, এমন মেঘস্বরে বাদল ঝরোঝরো, তপনহীন ঘন তমসায়…’
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার লেখনীতে প্রকাশ করেছেন বর্ষার আবেদন ও প্রেমের আকুলতা, করেছেন বর্ষাবন্দনা। বর্ষা জুড়ে আছে বাঙালির কৃষ্টি, সাহিত্য, আহার, বেশভূষায়- এ যেন একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বর্ষার এ সাঁঝের বেলায় দৃষ্টি চট্টগ্রাম আয়োজন করেছে বর্ষাবন্দনামূলক আবৃত্তি সন্ধ্যা ‘কবিতায় বর্ষা’।

জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন নাট্যজন প্রদীপ দেওয়ানজী, কবি ও ছড়াকার জিন্নাহ চৌধুরী ও ব্যাংকার কায়েস চৌধুরী। সম্পূর্ণ আয়োজনে বিভিন্ন কবিতা, সঙ্গীত ও গদ্যপাঠ করেন দৃষ্টি চট্টগ্রামের চারজন আবৃত্তিশিল্পী মিলি চৌধুরী, বনকুসুম বড়ুয়া নূপুর, ড. আদনান মান্নান ও প্রিয়ম দাশ।

আয়োজনের শুরুটা হয়েছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু’র স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে। আবৃত্তিশিল্পী শ্রুতি ও প্রিয়ম দাশের সম্মিলিত পরিবেশনায় ‘যদি রাত পোহালে শোনা যেত, বঙ্গবন্ধু মরে নাই’ শীর্ষক গানটি পরিবেশিত হয়।

এরপর একে একে পরিবেশিত হয় বিখ্যাত কিছু গান, কবিতা ও গদ্য। উপস্থাপক ও আবৃত্তিশিল্পী সাবের শাহ এর সঞ্চালনায় পুরো আয়োজনটি মুখর হয়ে উঠে বর্ষাকে কেন্দ্র করে, বর্ষার রূপ-সৌন্দর্য্যরে অবগাহনে।

আবৃত্তিশিল্পী মিলি চৌধুরী পাঠ করেন কবি রাম বসু এর ‘পরান মাঝে হাত দিয়েছে’, কৃষ্ণা বসু এর ‘বৃষ্টির গান’ এবং শুভ দাশ এর রচিত ‘মেঘ বললো যাবি’ কবিতাগুলো।

কবিতার ফাঁকে ফাঁকে প্রিয়ম দাশের কণ্ঠে পরিবেশিত হয় নানান গান। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ‘পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে’, ‘ও বরষা রে’, ‘আজ এই আকাশ কালো হয়ে’ ইত্যাদি।

একপর্যায়ে আদনান মান্নান নিয়ে আসেন বর্ষাকে নিয়ে লেখা বিভিন্ন গদ্যের সম্ভার, পাঠ করেন পুর্ণেন্দু পত্রী রচিত ‘সেই গল্পটি’ এবং কবির সুমন রচিত ‘কতটা কষ্ট পেলে”’গদ্য থেকে চুম্বক অংশ।

গদ্য পাঠের পরে আবার শুরু হয় কবিতাপাঠ। এই পর্যায়ে বনকুসুম বড়ুয়া’র কন্ঠে পরিবেশিত হয় মহাদেব সাহার ‘কোথা সেই প্রেম, কোথা সেই বিদ্রোহ’, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘এমন দিনে তারে বলা যায়’ কবিতা।

পরিবেশনার ফাঁকে অতিথিরা বক্তব্য দেন। প্রদীপ দেওয়ানজী তার বক্তব্যে বলেন, দৃষ্টি আসলে আবৃত্তি দিয়ে তাদের সৃজনশীলতার যাত্রা শুরু করলেও পরবর্তীতে বিতর্ক নিয়ে মনোনিবেশ করে। কিন্তু মাঝে মাঝে যখন আবৃত্তির আয়োজন করে তখন সেটি প্রথম শ্রেণীর আয়োজন হয়ে যায়। আমি এ আয়োজনে সত্যিই অভিভূত।

দৃষ্টি চট্টগ্রামের সভাপতি বলেন, আবৃত্তির যে গূঢ় ভাবগাম্ভীর্য, যে আবেদন, সেটি কখনোই উপেক্ষা করা যায় না। নিয়মিত আবৃত্তি চর্চা একটি সুস্থ, সুন্দর, সংস্কৃতিমনা সমাজ প্রদান করতে পারে। তাইতো দৃষ্টি অনিযমিত হলেও আবৃত্তি চর্চা করে যাচ্ছে বিতর্ক চর্চার সঙ্গে সঙ্গে।

দৃষ্টির এ আয়োজনে আরও উপস্থিত ছিলেন দৃষ্টি চট্টগ্রামের সিনিয়র সহ সভাপতি সাইফ চৌধুরী, সহ সভাপতি শহীদুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক সাইফুদ্দিন মুন্না, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আরফাত, সহ সম্পাদক মুন্না মজুমদার, অনুষ্ঠান সমন্বয়কারী সৌরভ নাথ, সহ সমন্বয়কারী সুমাইয়া ইসলাম ও সাদিয়া আফরিন।

পুরো আয়োজনের পৃষ্ঠপোষকতায় ছিল ভারতীয় হাই কমিশন চট্টগ্রাম ও বারকোড রেস্টুরেন্ট গ্রুপ।