দেশি পোষাকের জন্য আফমি আর দামি শাড়ির খোজে মিমি

0
1069

দেশি পোষাকের জন্য আফমি আর দামি শাড়ির খোজে মিমিতে ছুটে আসছেন ক্রেতারা। এরি মধ্যে বিক্রি বেড়েছে বেশ কগুণ।

আফমিদেশের শীর্ষস্থানিয় ১০ টি ফ্যাশন হাউজের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা ‘দেশি দশ’ নজর কাড়ছে ক্রেতাদের। ঈদে চট্টগ্রাম নগরীর মার্কেটগুলোতে বিদেশি পোশাকের দাপট বেশি দেখা গেলেও কিছুটা ভিন্ন চিত্র আফমি প্লাজায়। এখানে বিদেশি পোশাকের চেয়ে দেশি পোশাকের সংগ্রহই বেশি । ক্রেতারাও দেশি পোশাকের জন্যই হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন এ মার্কেটে। তরুণ প্রজন্মের ক্রেতাদের কাছে এটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। মানে ও রুচিতে আভিজাত্য আর দামে সহনীয়ণ্ডআফমি প্লাজার বিক্রেতাদের এমন মনোভাবের সাথে ক্রেতা সাধারণও সুর মিলিয়েছেন।

আফমি প্লাজায় বেশিরভাগ দোকানীই পসরা সাজিয়েছেন নিজেদের তৈরী করা ছেলেদের পাঞ্জাবী ফতুয়া আর মেয়েদের থ্রি পিস দিয়ে। পাশ্ববর্তী মিমি সুপার মার্কেটে প্রাধান্য বিদেশি কাপড়ের তবে এখানে শাড়ি এবং ছোটদের পোশাকই বিক্রি হচ্ছে বেশি। আফমি প্লাজা আর মিমি সুপার মার্কেট দু’টোই পাশাপাশি, অবস্থান নগরীর প্রবর্তক মোড় সংলগ্ন এলাকায়। দীর্ঘদিনের পরিচিতি আর ঐতিহ্য নিয়ে টিকে রয়েছে মিমি আর মাত্র ছয় বছর আগে যাত্রা শুরু করে আফমিও পেয়েছে ব্যাপক পরিচিতি।

আফমি শুধুমাত্র ধনিক শ্রেণির শপিংমলণ্ডএই ধারণা থেকে ক্রেতা সাধারণকে বেরিয়ে আনতে দামের প্রতি নমনীয়তা দেখানোর চেষ্টা। এবারের ঈদ আয়োজনেও আফমি প্লাজায় এসেছে দারুণ সব কালেকশন। এখানকার দেশি দশ ব্র্যান্ড, বিখ্যাত বিউটি পার্লার পারসোনা, শৈল্পিক, ক্যাটস আই, টাইম জোন, শিশুদের পোশাকের ব্র্যান্ড ম্যাস ফ্যাশন এবং জুতার জন্য ওপেলিয়াসহ দেশি-বিদেশি অনেক ব্র্যান্ডের শো-রুম আলাদা মর্যাদা এনে দিয়েছে। আধুনিক ও রুচিশীল ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে যা সহায়ক।
আফমি২আফমি এক শো-রুমের ব্যবস্থাপক আকতার হোসেন বলেন, আমাদের এখানে দেশি ফ্যাশনেবল পোশাকের জন্যই বেশি আসেন ক্রেতারা। তাদের চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রেখে আমরা দেশীয় কাচাঁমাল ও কাপড় দিয়ে নিজস্ব কারিগরের মাধ্যমে পোশাক তৈরি করেছি। তিনি বলেন, আফমিতে ছেলেদের পাঞ্জাবীর বেচাকেনাই বেশি।

আফমি প্লাজার ছয়তলার দোকানগুলোর সবই দেশীয় কাপড়ে ঠাসা। ‘দেশি দশ’ নাম দিয়ে ব্রান্ডেড ১০ টি ফ্যাশন হাউজ দেশি পোশাকের বিপুল সমাবেশ ঘটিয়েছে। এই ১০ টি ফ্যাশন হাউজ হল-নিপূণ, কে-ক্রাফট,রঙ, সাদা-কালো, দেশাল, প্রবর্তণা, অঞ্জনস, বাংলার মেলা,বিআিনা ও নগরদোলা। এর বাইরে সৃষ্টি, বাঙলার রং, নোঙরসহ আরো কয়েকটি দোকানে রয়েছে দেশজ সম্ভার। এসব দোকানে দেশি কাপড়ের তৈরি সিনথেটিক , সুতি, এমব্রয়ডারি করা খাদির পাঞ্জাবী, শার্ট, ফতুয়া, লুঙ্গি, মেয়েদের সুতি , ব্লক-বাটিকের থ্রিপিস, জামদানি, সিল্ক, মসলিন, নেটের শাড়ি শোভা পাচ্ছে।

বাঙালি নারীর শাড়ির চাহিদা চিরঞ্জীব আর শাড়ির জগতে ইতোমধ্যে আস্থা অর্জন করে নেওয়া একটি ব্র্যান্ড প্রাইড শাড়িজ। এখানকার ম্যানেজার পলাশ জানান, প্রাইডের মসলিন ও সুতি জামদানির চাহিদা এবার বেশ ভালো। তিনি বলেন, মসলিন সিল্কের দাম পড়বে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা, হাফ সিল্ক ২ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা, সুতি জামদানি ২৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা, কম্পিউটার এমব্রয়ডারি শাড়ি ১৫০০ থেকে ২৫০০ টাকা, ব্লক প্রিন্ট ১৫০০ থেকে ২২০০ টাকা এবং তাঁতের শাড়ির দাম পড়বে ৯৫০ থেকে ৫ হাজার টাকা।
আফমি৩শো-রুমভেদে ছেলেদের পাঞ্জাবীগুলো এক থেকে দুই হাজার এবং ১ হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। আর দেশি শাড়িগুলোর মধ্যে মসলিন পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার, সিল্কের শাড়ি তিন হাজার ৭০০ থেকে চার হাজার, জামদানি চার থেকে ছয় হাজার, টাঙ্গাইলের সুতি শাড়ি ৬০০ থেকে তিন হাজার ২০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
জুতার দোকানগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদেও সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছর ফ্য¬াট জুতা চললেও এবার মেয়েরা পছন্দ করছেন সেমি হিল জুতা। মেয়েদের সেমি হিল দ্ইু হাজার থেকে ২ হাজার ২০০, বক্স হিল তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার, আর পেন্সিল হিল এক হাজার ৮০০ টাকা থেকে আছে সাড়ে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত।
তবে ছেলেদের পাম্প-শু এর চেয়ে চামড়ার স্যান্ডেলই বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানালেন বিক্রেতারা। ফ্যাশনের চেয়ে পরতে স্বাচ্ছন্দ্যকেই ক্রেতারা গুরুত্ব দিচ্ছেন। আফমি’তে ছেলেদের জন্য চমাড়ার স্যান্ডেল আছে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। আর পাম্প-শু আছে ২ হাজার ১০০ থেকে ৫ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
এদিকে ছেলেদের পোশাকেও পিছিয়ে নেই আফমি প্লাজার কোনো ফ্লোর। তৃতীয় তলায় রয়েছে থাইল্যান্ডের বিখ্যাত ব্র্যান্ডের আদলে জেন্টস কর্নার এমবিকে ফ্যাশন। দোকানের কর্ণধার আবুল কালাম আজাদ জানান, তারা এবার ফ্যাশন সচেতন তরুণদের কথা মাথায় রেখেই আইটেম সাজিয়েছেন। এখানে ইন্ডিয়ান শার্ট ১৮০০ থেকে ২৪০০ টাকা, কলকাতার শার্ট ১১০০ থেকে ১৬০০ টাকা, থাইল্যান্ডি প্যান্ট ২২০০ থেকে ৩৩০০ টাকা, চায়না প্যান্ট ১৫০০ থেকে ২১০০ টাকা, দেশি শার্ট ৮০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ৯০০ থেকে ১৫০০ টাকায় ইন্ডিয়ান পাম সু, থাইল্যান্ডের হাইনেক সু, থাইল্যান্ডের স্যান্ডেল পাওয়া যাবে।
মিমি সুপারঈদে নিজেকে আরেকটু ভিন্নভাবে রাঙাতে ফ্যাশন সচেতন ছেলেদের জন্য গ্রাউন্ড ফ্লোরে রয়েছে টাইম জোন নামে স্মার্ট ঘড়ির দোকান। যেখানে সর্বনিম্ন ৩ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা দামের পর্যন্ত ঘড়ি রয়েছে। এখানকার বিক্রয়কর্মী জানান, বিখ্যাত রাডো ব্র্যান্ডের ঘড়ি ৬৮০০ থেকে ৩ লক্ষ টাকায়, সেলকস ৩৫০০ থেকে ১৫ হাজার টাকায়, সিটিজেন ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকায় এবং টি-সট ব্র্যান্ডের ঘড়ি ২০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকায় পাওয়া যাবে।
এদিকে ফ্যাশন সচেতন মেয়েদের জন্যও রয়েছে দ্বিতীয়তলায় আকর্ষণীয় সব ক্যাজুয়াল ও পার্টি ব্যাগের সমাহার। সেলিব্রেশন ফ্যাশনের বিক্রয়কর্মী আলম জানান, এখানে ক্যাজুয়াল ব্যাগ পাওয়া যাবে সর্বনিম্ন ১৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকায়। এছাড়া পার্টি ব্যাগ ১১০০ টাকা থেকে ২৬০০ টাকায়, লেডিস সানগ্লাস ১ হাজার থেকে ১৫০০ টাকায় এবং বিভিন্ন ধরনের জুতা ১৭৫০ টাকা থেকে ৩৪৫০ টাকায় পাওয়া যাবে।

মে উঠেছে শাড়ির জন্য বিখ্যাত বিপণিবিতান মিমি সুপার মার্কেট। অন্যদের চেয়ে আলাদা ও হালফ্যাশনের পোশাক চান যাঁরা, তাঁদের পছন্দের কেনাকাটার জায়গা এই বিপণিবিতানটি। রোজার শুরু থেকেই এখানে বাড়ছে ক্রেতার ভিড়।
ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন দোকানে এসেছে নতুন পোশাক, জুতা, গয়নাসহ নানা প্রসাধনী। দিন যত গড়াচ্ছে তত গভীর রাত পর্যন্ত কেনাকাটা করছেন ক্রেতারা।

মিমি সুপার২মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে বরাবরের মতো ভারত থেকে আমদানি করা দামি পোশাকের কাটতি বেশি। কঁাকন, জ্যোতি, আঁচল, বিবাহ শাড়িজ, মানসী, শাওন ভাদো, পিন্ধনসহ বেশ কিছু শাড়ির দোকান রয়েছে এখানে। গতবারের মতো এবারও কাঞ্চিভরম, অপেরা কাতান, হাইলাইটস, জর্জেট, জুট কাতান, বেঙ্গালুরু কাতানসহ নানা ধরনের শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে। বেশির ভাগ শাড়িতে দামি পাথর, পঁুথি, চুমকি দিয়ে ভারী কাজের প্রাধান্য দেখা গেছে। দেশি শাড়ির মধ্যে মিরপুরের কাতান, জামদানি ও তাঁতের শাড়িও পাওয়া যাচ্ছে। শাড়ির দোকান কঁাকনের বিক্রয়কর্মী আবু সালেহ জানান, ভারতীয় শাড়ি বিক্রি হচ্ছে পাঁচ থেকে ৩৫ হাজার টাকার মধ্যে। আর দুই থেকে ১০ হাজারের মধ্যে দেশি শাড়ি বিক্রি হচ্ছে। মিমি সুপার মার্কেটে এখন পর্যন্ত বড়দের চেয়ে ছোটদের পোশাকের বেচাকেনাই বেশি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। তারা বলেছেন, ছোটদের ধৈর্য কম ও চটপটে। ঈদের খুশিতে কাপড় কেনার আগ্রহটা তদেরই বেশি। তারা যেটা পছন্দ করে অভিভাবককে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেটাই কিনতে হয়।

মিমি সুপার মার্কেটে বড়দের গাউনের দাম আবার তুলনামূলকভাবে বেশি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। মেয়েদের গাউনগুলো চার হাজার থেকে শুরু করে বিশ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে বিশেষ কিছু বিদেশি পোশাক বিক্রি হচ্ছে লাখ টাকা পর্যন্ত দামে।
শাড়ির জন্য নারীদের প্রথম পছন্দ থাকে মিমি সুপার মর্কেট। দাম অন্যান্য মার্কেটের চাইতে কিছুটা বেশি হলেও এখানে দেশি বিদেশি শাড়ির ভালো কালেকশন রয়েছে বলে জানান ক্রেতারা।
মিমি সুপার মার্কেটের জুয়েলারী, ব্যাগ প্রসাধন আর জুতার দোকানগুলোতে আস্তে আস্তে ভিড় বাড়ছে। দোকানীরা জানান, ক্রেতারা আগে জামাকাপড় কিনেন। তারপরই জুতাসহ অন্যান্য জিনিসপত্র কেনা শুরু করেন। তাই জুতা ও জুয়েলারী দোকান জমজমাট হতে কিছুটা সময় নেয়।
ঈদে আফমি প্লাজা ও মিমি সুপার মার্কেটে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়ে হয়েছে বলে জানিয়েছেন উভয় মার্কেটের ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি।

মিমি সুপার৪চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের( সিএমপি) পক্ষ থেকে নিয়মিত’র পাশাপাশি বাড়তি নিরাপত্তার জন্য দেয়া হয়েছে বাড়তি পুলিশ ।
আফমি প্লাজায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বরাবরই অনেক ভালো বলে জানালেন ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি । ঈদের জন্য আমাদের দুই শিফটে ১৬ জন কওে নিজস্ব নিরাপত্তারক্ষী নিয়োজিত আছেন। পুলিশ আর র‌্যাব থেকেও নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে।
তাছাড়া আফমিতে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য গ্রাউন্ড ফ্লোরে রয়েছে সুবিশাল পার্কিং লট। আর ক্রেতাদের গাড়ির নিরাপত্তার জন্য সেখানে সবদিক থেকে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। তবে আফমি প্লাজা ও মিমি সুপার মার্কেটের অবস্থান পাশাপাশি হওয়ায় দুই মার্কেটের ক্রেতারাই উভয়ের পার্কিং লট ব্যবহার করেন ।
মিমি সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেন, আফমি প্লাজায় যারা আসেন তারা আমাদের মার্কেটেও আসেন। আবার আমাদের মার্কেটে আসা ক্রেতারাও সেখানে যান। তাই দুই মার্কেটের পার্কিং লটই সবসময় দুই দিক থেকে ব্যবহার করা হয়।
কেনাকাটা করতে খুলশী থেকে আসা গৃহবধূ কলি বলেন, ‘অনেক বছর ধরে ঈদের শাড়ি এ মার্কেট থেকেই কিনি। হাল ফ্যাশনের পোশাক পাওয়া যায় বলে আমার মেয়েরও পছন্দের জায়গা এটি।’

মিমি সুপার৩শাড়ি ও পোশাকের জমজমাট বিকিকিনি হলেও এখনো জুতা ও গয়নার দোকানে বিক্রি জমে ওঠেনি। এ বিষয়ে বিক্রেতারা বললেন, পোশাক কেনাকাটা শেষ হলেই ক্রেতাদের ভিড় এসব দোকানে বাড়বে। কারণ ফ্যাশন সচেতেনরা পোশাকের সঙ্গে মিলিয়েই জুতা ও গয়না বাছাই করেন।