ধর্ষণের প্রতিবাদে ‘প্রতিবাদী গণজাগরণযাত্রা’ ৪ মে

mirza imtiaz প্রকাশ:| শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল , ২০১৯ সময় ০১:৫১ পূর্বাহ্ণ

সারাদেশে বিরামহীনভাবে অব্যাহত নারী নির্যাতন, খুন, ধর্ষণের প্রতিবাদে এবং নারীর নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করার অভিপ্রায়ে ‘প্রতিবাদী গণজাগরণযাত্রা’র উদ্যোগ নিয়েছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি চট্টগ্রাম জেলা।
নবগঠিত চট্টগ্রাম কমিটির প্রথম সাংগঠনিক সভায় কমিটির কেন্দ্রীয় প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক লেখক-সাংবাদিক শওকত বাঙালি সূচনা বক্তব্যে নতুন কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ৯০তম জন্মদিনে এই প্রতিবাদী কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে বলেন, ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে স্বামী ও সন্তান হারিয়েছিলেন বরেণ্য লেখক ও সমাজকর্মী শহীদ জননী জাহানারা ইমাম। ’৭১-এর গণহত্যাকারী, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং জামায়াত-শিবিরচক্রের মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধকরণের দাবিতে ১৯৯২-এর ১৯ জানুয়ারি জাহানারা ইমান গঠন করেছিলেন ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’। দেশের ১০১ জন বরেণ্য নাগরিক কর্তৃক স্বাক্ষরিত নির্মূল কমিটি গঠনের ঘোষণায় বলা হয়েছিল-‘সরকার যদি গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতের আমীর গোলাম আযমের বিচার না করে-আমরা গণআদালতে তার বিচার করব।’ একই সঙ্গে জামায়াত-শিবির চক্রের মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধকরণেরও দাবি জানিয়েছিল নির্মূল কমিটি।
তিনি আরো বলেন, গণআদালতে গোলাম আযমের বিচারের কর্মসূচি সফল করার জন্য শহীদ জননী জাহানারা ইমাম মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক-পেশাজীবী, ছাত্র-নারী-মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনের সমন্বয়ে গঠন করেছিলেন ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটি’, যার উদ্যোগে ১৯৯২-এর ২৬ মার্চ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত গণআদালতে গোলাম আযমের বিচার হয়, যা প্রত্যক্ষ করার জন্য সরকারের সকল হুমকি ও বাধা অগ্রাহ্য করে পাঁচ লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয়েছিল।
সংগঠনের চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদারের সভাপতিত্বে ও জেলার প্রথম সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. অলিদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় সূচনা বক্তব্যে শওকত বাঙালি এসব কথা বলেন।

২৫ এপ্রিল নগরীর মোমিন রোডস্থ বঙ্গবন্ধু ভবনে চট্টলবন্ধু এস.এম জামাল উদ্দিন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন-সহ-সভাপতি স্বপন সেন, দীপংকর চৌধরী কাজল, আলহাজ্ব মোহাম্মদ মইনুদ্দিন, মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, মো. হেলাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর রেখা আলম চৌধুরী, সহ-সাধারণ সম্পাদক ভাস্কর চৌধুরী, এম.এ মান্নান শিমুল, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল আলম খান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাহাব উদ্দিন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক রুবা আহসান, সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সুচিত্রা গুহ টুম্পা, সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মো. আলাউদ্দীন বাবু, প্রচার ও গণমাধ্যম সম্পাদক সনেট চক্রবর্ত্তী, সহ-প্রচার ও গণমাধ্যম সম্পাদক রুবেল চৌধুরী, সহ-প্রকাশনা সম্পাদক মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক এম. শাহাদৎ নবী খোকা, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলহাজ্ব সৈয়দ কামাল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাজীব চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক রুবায়েত হোসাইন, সদস্য এম. হামীদ হোছাইন, মোস্তাক আহমদ মুরাদ, মরিয়ম আকতার মুক্তা, নাছিমা আকতার, চন্দন চক্রবর্ত্তী, হাসান মোহাম্মদ মাসুদ, আব্দুল হাকিম, রুবেল কুমার শীল, মো. আকতার হোছাইন, মো. আনোয়ার হোসেন, দিপু বড়–য়া, মো. হাসান, হেলাল চৌধুরী, নবুয়াত আরা সিদ্দিক রাফি প্রমুখ।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আগামী ৪ মে, শনিবার, বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণজাগরণযাত্রা, শহীদ জননী জাহানারা ইমাম সম্মাননা স্মারক প্রদান, প্রতিবাদী গান, আবৃত্তি, নৃত্য এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
সভাপতির বক্তব্যে প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, গত ২৭ বছরে বহু সংগঠন ও ব্যক্তি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছেন, যা পরিণত হয়েছে জাতীয় দাবিতে এবং এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৮-এর নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত ১৪ দলীয় মহাজোট বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে নির্বাচনী প্রতিশ্র“তি অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কার্যক্রম আরম্ভ করেছে। পাশাপাশি এই বিচার বানচাল করার জন্য জামায়াত দেশে বিদেশে বহুমাত্রিক চক্রান্ত আরম্ভ করেছে। এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে জামায়াত একদিকে হেফাজতে ইসলামের মতো জঙ্গী মৌলবাদী সন্ত্রাসী সংগঠনকে মাঠে নামিয়েছে, অপরদিকে আওয়ামী লীগের কোনও কোনও নেতাকে নানা কৌশলে বশীভূত করে সরকারের কঠোর জঙ্গী-জামায়াত বিরোধী অবস্থান কোমল করতে চাইছে।