নিজের এলোমেলো অফিস কক্ষকে সাজানোর ১০টি উপায়

0
168

কর্মক্ষেত্রে শুধু কাজই করবেন, এই ধারণাটি সঠিক নয়। নিজের কাজ করার জায়গাটি যদি পছন্দসই না হয়, তাহলে কখনোই ঠিক মতো কাজে মনোযোগ দেওয়া যায় না। একটি অগোছালো অফিসে বসে যতটুকু কাজ করতে পারবেন, সুন্দর পরিপাটি একটি কক্ষে তার চেয়ে বেশি মানসম্মত কাজ করতে পারবেন।
পুরো ব্যাপারটাই যদিও মানসিক, কিন্তু মনকে অসন্তুষ্ট রেখে কখনোই ভালোভাবে কাজে মনোনিবেশ করতে পারবেন না। আপনার কাজের ফাঁকে যখন নিজের গুছানো কক্ষটি দেখবেন, তখন এমনিতেই ক্লান্তি চলে যাবে। তা ছাড়া কর্মক্ষেত্রের অন্যান্য সহকর্মীরাও আপনার রুচির প্রশংসা করবে। কিন্তু নিজের কক্ষটি সাজাবেন কীভাবে? চলুন, জেনে নিই কিছু উপায়-
১. দেয়ালের ব্যবহার

আমরা অনেকেই নিজের কাজের টেবিলটি, ফাইল পত্র ও অপ্রয়োজনীয় জিনিস দিয়ে অগোছালো করে রাখি । এতে প্রয়োজনের সময় যেমন কাঙ্ক্ষিত জিনিসটি পাওয়া দুষ্কর, তেমনি মেজাজ খারাপেরও কারণ। তাহলে উপায়? নিজের দেয়ালের কথা ভেবেছেন কখনো? হ্যাঁ, আপনি চাইলে কক্ষের দেয়ালটাই জিনিসপত্র রাখার কাজে ব্যবহার করতে পারেন।
দেয়ালের উপর জিনিসগুলো এমনভাবে সাজান, যাতে সেখানেও সৌন্দর্য ফুটে উঠে। আর দেয়ালে কখনোই খুব ভারী কোনো জিনিস রাখা যাবে না। তাহলে তা হঠাৎ পড়ে গিয়ে, আপনারই সমস্যা ও কাজ বাড়তে পারে।
২. পেগবোর্ড

জিনিসপত্র প্রচুর কিন্তু জায়গা কম? তাহলে ব্যবহার করতে পারেন পেগবোর্ড। এটি আপনার সবকিছু রাখার জায়গা তৈরি করে দেবে। ঝুড়ি, তাক ও হুক থাকার কারণে, ছোট-বড় সব জিনিসই রাখার ব্যবস্থা থাকে এতে। তাই নিজের পেন্সিলটি পরের বার বিনা পরিশ্রমে খু্ঁজে পেতে চাইলে, কিনে নিতে পারেন একটি পেগবোর্ড। তারপর যেটি যেখানে রাখা দরকার রেখে দিন। ব্যস, প্রয়োজনের সময় আপনার সহজেই মনে পড়বে, জিনিসটি কোথায় পাওয়া যাবে।
৩. ছবির সারি

অনেকেই অফিস কক্ষে নিজের কিংবা পরিবারের সদস্যদের ছবি সাজিয়ে রাখতে পছন্দ করে। সারাদিনের কর্মব্যস্ততার এক ফাঁকে ছবিগুলোতে নজর বুলিয়ে, তারা প্রশান্তির নিশ্বাস ছাড়েন। কিন্তু সাধারণত জায়গার অভাবে আমরা ছবিগুলো গুছিয়ে রাখতে পারি না।
তাই একটির সামনে একটি সাজিয়ে রাখতে গিয়ে, পেছনের ছবিটি ঢাকা পড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে দেয়ালে কিংবা উঁচু কোনো স্থানে ছবিগুলো একটির পর একটি সাজিয়ে রাখতে পারেন। ছবি সাজানোর জন্যও কিছু পণ্য পাওয়া যায়, যেগুলোতে ছবি পাশাপাশি এবং উপরে-নিচে সাজিয়ে রাখার ব্যবস্থা থাকে।
৪. হাতে বানানো জার

একটি অফিসে কাজ করতে গেলে প্রতিনিয়তই কলম, পেন্সিল, ক্লিপ ইত্যাদি ছোট ছোট জিনিসগুলো সামলাতে হয়। কিন্তু অনেকেই এখানে-সেখানে রেখে দেয়। ফলাফলস্বরূপ, প্রয়োজনের সময় আর জিনিসগুলো খুঁজে পাওয়া যায় না। মনে হয় যেনো, এগুলো আপনারই সঙ্গে লুকোচুরি খেলছে। তখন মেজাজ গরম হওয়াটাই স্বাভাবিক।
খুব সামান্য একটি কাজ করেই কিন্তু, এটির সমাধান করা যায়। যেমন: ফেলে দেওয়া বোতল কেটে গ্লাসের আকৃতি করে, সেগুলোতে কলম, ক্লিপ রেখে দিতে পারেন। আর যদি এটিতে লজ্জাবোধ করেন, তবে বাজারে হাতে বানানো এরকম পণ্য পাওয়া যায়; যেগুলো দেখতেও সুন্দর এবং দামেও সস্তা। এরকম একটি জিনিসই কিন্তু, আপনার কাজকে সহজ করে দিতে, সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
৫. ড্রয়ারের ব্যবহার

একটি ড্রয়ারে কতগুলো জিনিস থাকে? নিঃসন্দেহে প্রচুর। অফিসের পুরনো ফাইল থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয়-অপ্রয়োজনীয় অনেক কিছুই ড্রয়ারগুলোতে জায়গা পায়। কিন্তু সমস্যা হলো, কখনো যদি পুরনো কিছুর দরকার পড়ে, সেটি খুঁজে পাবেন কীভাবে? একটু পরিশ্রম করলেই কিন্তু, সমস্যাটির সমাধান করা যায়। ড্রয়ারের ভেতরে ভিন্ন ভিন্ন বেশ কিছু ঘর তৈরি করুন।
সেগুলোর মাঝখানে আলাদা করার জন্য কিছু ব্যবহার করতে পারেন, যাতে বোঝা যায় একটি থেকে অন্যটি ভিন্ন। এখন প্রতিটি ঘরে ভিন্ন-ভিন্ন জিনিস রেখে, সেগুলো পূর্ণ করুন। তবে মনে রাখুন, জিনিসগুলো রাখার ক্ষেত্রে প্রায় একই ধরনের জিনিসগুলো, এক সঙ্গে রাখার চেষ্টা করতে হবে। তাহলে প্রয়োজনের সময় সহজেই খু্ঁজে বের করতে পারবেন, আপনার কাঙ্ক্ষিত জিনিসটি।
৬. নির্দেশক

ইলেক্ট্রনিক্স পণ্যের এই যুগে, আপনার অফিসের টেবিলের চারপাশ জুড়ে তারের সারি থাকবে, এটি অনেকটাই স্বাভাবিক। কম্পিউটার, মোবাইল চার্জার, প্রিন্টারের মতো জিনিসগুলো যেন আপনার টেবিলে শোভা পায়, সেজন্য ব্যবহার করতে পারেন বিভিন্ন নির্দেশক। এগুলো বানানো একদমই সোজা। অবসর সময়ে কাগজ দিয়েই তৈরি করে নিতে পারেন নানান রকমের নির্দেশকগুলো। যেগুলোর প্রতিটির গায়ে লেখা থাকবে, এটি কিসের সংযোগ। তারপর সেগুলো নির্দিষ্ট সংযোগের তারের উপর লাগিয়ে দেবেন।
এখন আর মোবাইল চার্জ দিতে গিয়ে, প্রিন্টারের তার খুলে নিয়ে আসবেন না। আর আপনি যদি জটপাকানো ক্যাবলগুলো আড়াল করতে চান, তাহলে একটা ক্লিপ ব্যবহার করে ক্যাবলগুলো একত্র করে ফেলুন। জটপাকানো অংশগুলো টেবিলের আড়ালে রেখে, প্রয়োজনীয় অংশ টেবিলের উপর রাখুন। এটি যেমন প্রয়োজনের সময় সঠিক সংযোগটি খুঁজে পেতে সহায়তা করবে, তেমনি আবার দেখতেও সুন্দর লাগবে।
৭. প্রকোষ্ঠযুক্ত টেবিল

যদি আপনার কাজের টেবিলটি ছোট হয়, আর জিনিসপত্র বেশি হয়। তাহলে কী করবেন? এমনটি হতে পারে যে, আপনার কম্পিউটার রাখার কারণে টেবিলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। আর বাকি অল্প জায়গায় ফাইল-পত্র কিছুই গুছিয়ে রাখতে পারছেন না।
এই সমস্যার সমাধানে প্রকোষ্ঠযুক্ত টেবিল ব্যবহার করতে পারেন। যেগুলোর উপরে-নিচে অনেকগুলো প্রকোষ্ঠ তৈরি করা থাকে। আর টেবিলগুলোর উপরের অংশে ভারী জিনিস রাখতে পারবেন। আর নিচের অংশগুলোতে ফাইল ও কাগজপত্র সাজিয়ে রাখা যাবে।
৮. আলোর ব্যবহার

আলো কেবল আমাদের কাজের জন্যই প্রয়োজন, এই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসুন। বরং আলোকে যথাযথভাবে ব্যবহারে করে, আপনার অফিস কক্ষের সৌন্দর্য বাড়াতে পারেন। কক্ষের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও জিনিসের উপরে আলো ফেলার ব্যবস্থা করতে পারেন। তা ছাড়া টেবিলের পাশে, দেয়ালে কিংবা সিলিংয়ে মৃদু আলোর ব্যবহার, আপনার কক্ষে ভিন্ন মাত্রা যুক্ত করবে। আবার মনে রাখুন, কড়া আলোর ব্যবহার আপনারই মনোযোগে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
৯. ম্যাগনেটিক স্ট্রিপ

শুধুমাত্র রান্নাঘরেই নয়, এটির ব্যবহার হতে পারে আপনার অফিস কক্ষেও। গুছিয়ে রাখার মতো আপনার যদি সুন্দর মন থাকে, তবে দেয়ালে কিংবা টেবিলের পাশে হালকা জিনিসগুলো ঝুলিয়ে রাখতে পারেন।
এগুলোতে সাধারণত জিনিস পত্র পড়ে যায় না। কারণ টেপের মতো প্যাঁচানো এবং চুম্বকীয় ক্ষমতা থাকার কারণে, হালকা জিনিসগুলো ধরে রাখতে পারে সহজেই। এই জিনিসটি তখনই ব্যবহার করবেন, যখন নিশ্চিত হবেন, আপনি সুন্দর করেই গুছিয়ে রাখতে পারবেন। আর যদি ঝুলানোর কারণে দেখতে আরো বিশ্রি মনে হয়, তবে না ব্যবহার করাই ভালো।
১০. ঝুলানো টেবিল

এগুলো আকারে ছোট এবং টেবিলের একটি অংশে ঝুলিয়ে রাখা যায়। কয়েকটি অংশে ভাগ করা থাকে বলে, সহজেই বাড়তি জিনিস রাখা যায়। আপনার টেবিলের জায়গায় সঙ্কুলান না হলে, ঝুলন্ত টেবিল ব্যবহার করতে পারেন। আপনার চিন্তা আসতে পারে, এ রকম বাড়তি জিনিম টেবিলের সঙ্গে সংযুক্ত করলে হয়তো দেখতে অদ্ভুত লাগবে।
কিন্তু বাস্তবে মোটেও তা নয়। বরং ছোট আকারের জিনিসটি টেবিলের সৌন্দর্যে বাড়তি মাত্রা যোগ করবে। আর আপনার জায়গার পরিমাণও বেড়ে যাবে।
এই কৌশল ও বিষয়গুলো অনুসরণ করে, খুব সহজেই আপনার অফিস কক্ষকে পরিপাটি করে রাখতে পারেন। এতে আপনার মন, মেজাজ ও স্বাস্থ্য সবকিছুই ভালো থাকবে। আর আপনি কাজ করে আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন।