নিরাপদ আশ্রয়ে ৫০ হাজার বাসিন্দা

0
25

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র প্রভাবে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকার প্রায় ৫০ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৯ নভেম্বর) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নগর ও জেলার বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকার এসব বাসিন্দাদের নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের ৪৭৯টি আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়াও ২ হাজার ২৬৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১ হাজার ২৫০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

‘সম্ভাব্য দুর্যোগে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অধিদফতরের বরাদ্দকৃত জিআর ক্যাশ, জিআর চাল, ঢেউটিন, শুকনো খাবার এবং তাঁবু প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’

জেলা প্রশাসক বলেন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ডসহ অন্য সব আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে যাতে তারা মাঠে নামতে পারে সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

‘ফায়ার সার্ভিসের নিজস্ব লোক ছাড়াও স্বেচ্ছাসেবক, গাড়ি ও যন্ত্রপাতি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে অংশ নেওয়া লোকজনের থাকা খাওয়ায় যাতে সমস্যা না হয়, সেই ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

যে কোনো জরুরি প্রয়োজনে জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে (ফোন নম্বর: ০৩১-৬১১৫৪৫, ০১৭০০-৭১৬৬৯১) যোগাযোগের অনুরোধ জানান জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন।

এদিকে বুলবুল এর প্রভাবে ভারী বর্ষণে পাহাড়ধসের শঙ্কায় নগরের বিভিন্ন পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাস করা লোকজনকে সারাতে অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন।

নগরের আগ্রাবাদ, কাট্টলী, সদর, বাকলিয়া এবং চান্দগাঁও সার্কেলের কয়েকটি পাহাড়ে পরিচালিত এ অভিযানে সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনারেরা (ভূমি) নেতৃত্ব দেন।

পাহাড়ের পাদদেশ থেকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করা ১৯৮টি পরিবারকে সরিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে লালখান বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৮টি, রৌফাবাদ আদর্শ বিদ্যালয়ে ৭০টি এবং আল হেরা ইসলামীয় মাদ্রাসায় ১০০টি পরিবারকে আশ্রয় দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

চীন সফর শেষে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ঢাকা থেকে সড়ক পথে চট্টগ্রাম পৌঁছান।ভয়াবহ ঘূর্ণীঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবেলা ও মানুষের জানমাল রক্ষায় নগরবাসীর পাশে থাকতে তিনি সন্ধ্যা নাগাদ সরাসরি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কন্ট্রোল রুমে উপস্থিত হন।

কন্ট্রোল রুমে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সচিব, প্রধান প্রকৌশলী, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ও তত্বাবধায়ক প্রকৌশলীসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন। মেয়র এসময় উপকূলীয় অঞ্চলের লোকজনদের নিরাপদ আশ্রয় স্থানে দ্রুত নিয়ে আসার বিষয়ে দিক-নির্দেশনা দেন। এছাড়া আশ্রিত লোকজনদের পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন।

মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন এ বিষয়ে বাংলানিউজকে বলেন, শনিবার (৯ নভেম্বর) বেলা আড়াইটায় চীন থেকে ঢাকায় বিমানবন্দরে পৌঁছাই। চট্টগ্রাম বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা হওয়ায় নগরবাসীর কথা চিন্তা করে দ্রুত সড়ক পথে চট্টগ্রামে রওনা দিই এবং সরাসরি করপোরেশনের কন্ট্রোল রুমে এসে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করি।

শনিবার (৯ নভেম্বর) দুপুরে চায়না ইস্টান এয়ারলাইন্স এর ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে এসে পৌঁছান আ জ ম নাছির উদ্দীন।

গত ৪ নভেম্বর মেয়র নাছির চায়না ওশান পার্কসহ চীনের বিভিন্ন গুরুত্বপর্ণ ও দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনে যান। তার সঙ্গে ছিলেন চসিক প্রধান নিবার্হী মোহাম্মদ সামসুদ্দোহা, স্থানীয় সরকার বিভাগের সহকারী সচিব মো: এমদাদুল হক চৌধুরী, সিটি মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক ও ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা এখলাচুর রহমান।