পাপনকে স্বাগত জানালেন সাবের

0
6

saberবাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনে সভাপতি পদে বৃহস্পতিবার প্রার্থিতার ঘোষণা দিয়েছেন বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। সভাপতি পদে তার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাকে স্বাগত জানিয়েছেন একই পদে আগেই প্রার্থিতা ঘোষণা করা বিসিবির সাবেক সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী।

শুক্রবার নিজ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাবের চৌধুরী পাপনের সভাপতি পদে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে বলেন, ‘নির্বাচন মানেই প্রতিযোগিতা। তার (পাপন) সভাপতি পদে প্রার্থী হওয়াকে স্বাগত জানাই।’ যত বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন নির্বাচন ততই প্রতিযোগিতামূলক হবে। প্রার্থীরা প্রত্যেকেই যার যার কর্মসূচি নিয়ে কাউন্সিলদের কাছে যাবেন এবং তারা (কাউন্সিলরা) তুলনা করে যোগ্য প্রার্থীদের ভোট দেয়ার সুযোগ পাবেন।

বিসিবি নির্বাচনে সময়ক্ষেপণের অভিযোগ তুলে বলেন, ‘তড়িঘড়ি করে নির্বাচনের বিষয়ে উচ্চ আদালত থেকে রায় নিয়ে আসা হলো। এক মাস হয়ে গেল এখনও নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা দিতে পারেন নাই। দেরি হওয়ার কারণ হতে পারে হয়তো তিনি (পাপন) এখনও ছক মেলাতে পারেননি, নির্বাচনে ঘর গোছানো শেষ হয়নি অথবা জয় নিশ্চিত করতে পারেননি। এমনও হতে পারে জয়ের ছকের বিষয়ে তিনি আস্থাশীল হতে পারেননি।’ অনেক ক্লাবকে পক্ষে নিতে চাপ প্রয়োগ করছে বোর্ড এবং কোনো কোনো ক্লাবকে আর্থিক প্রলোভন দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন ঢাকার এই সংসদ সদস্য।

নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হলেও বিসিবির গঠনতন্ত্র নিয়ে এখনও আদালতের রায়ের কপিও পাননি বলে জানান তিনি। তাছাড়া আদালতে রিট ও গঠনতন্ত্রে অসংখ্য অসঙ্গতি থাকায় নির্বাচন হলেও তার বৈধতা নিয়ে সন্দিহান সাবের, ‘এমন প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হওয়া উচিত যেটা নিয়ে পরবর্তী সময় কেউ চ্যালেঞ্জ জানাতে না পারে। আদালতের রায়ের কপিতে ব্যাপক অসঙ্গতি রয়েছে। যেমন বলা হয়েছে বোর্ডের পরিচালক হবেন ২৭ জন। আবার তিন ক্যাটাগরিতে মোট পরিচালক হন ২৬ জন। ২৭ পরিচালক বোর্ডে না এলে সেটার আইনগত বৈধতা কতটুকু হবে সেটাও নিয়ে শঙ্কা থেকে যায়।’

কাউন্সিলর মনোনয়নের ক্ষেত্রে জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও ক্লাবগুলোর ক্ষেত্রে দ্বৈত নীতি অনুসরণের জন্য ক্রিকেট বোর্ডকে অভিযুক্ত করেন সাবের। যে গঠনতন্ত্র নিয়ে নির্বাচন হচ্ছে সেটার বিষয়ে এনএসসিকে (জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ) দুইবার ভেবে এগোনো উচিত বলে সতর্ক করেন। একই সঙ্গে প্রধান নির্বাচক আকরাম খানসহ পুরো বোর্ডের নির্বাচনমুখী হওয়ারও সমালোচনা করেন এই ক্রিকেট সংগঠক।

বিসিবি নির্বাচন নিয়ে সরকার নিরপেক্ষ অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করেন সাবের, ‘আমি নিশ্চিত সরকার স্বচ্ছ নির্বাচন চায়। বাংলাদেশ আওয়ামী লিগ গণতান্ত্রিক দল এ বিষয়ে আমার বিশ্বাস রয়েছে। জেলা ও বিভাগীয় কাউন্সিলর মনোনয়নের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে আগে শঙ্কা প্রকাশ করলেও এখন এ বিষয়ে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ হচ্ছে না বলে মনে করেন বিসিবির সাবেক সভাপতি।

বর্তমান কমিটির প্রতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুর্নীতির ইঙ্গিত করে সাবের চৌধুরী বলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ডের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন লাখ টাকার বেশি কাজের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বান করতে হয়। অথচ বিনা টেন্ডারেই ৩০ কোটি টাকার কাজ দেয়া হয়েছে। কাজ দেয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করার কথা বলছেন পাপন। অথচ বিশ্বকাপ এদেশে আয়োজনের বিষয়টি অনেক আগেই ঘোষণা দেয়া হয়েছে। বর্তমান কমিটি ৯ মাস ধরে দায়িত্বে রয়েছে। এক্ষেত্রে দুর্নীতির জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে বিশ্বকাপের কাজ বিলম্বিত করা হয়েছে। যেখানে দুর্নীতির সুস্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে।’ নভেম্বরে-ডিসেম্বরে টেন্ডার দেয়া হলে ভালোভাবেই সবকিছু করা সম্ভব ছিল এবং এ বিষয়ে পরবর্তী সময় কেউ মামলাও করতে পারে বলে জানান সাবের।

দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ ও ক্রিকেটীয় প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলার জন্য পাপনকে সম্মুখ টিভি বিতর্কেও অংশ নেয়ার আহ্বান জানান সাবের।

বিসিবি নির্বাচনে বর্তমান কমিটির প্রতি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের আহ্বান জানিয়ে সাবের বলেন, ‘যেহেতু তিনি (পাপন) এখন প্রার্থী তা থেকেই বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা ও ক্রীড়া সংগঠকদের সঙ্গে মতবিনিময় বোর্ডের বাইরে করা উচিত। আমরা একটি সুষ্ঠু ও অর্থপূর্ণ নির্বাচন চাই। এর জন্য একটি লেভেল ফিল্ড প্রয়োজন। যে প্রক্রিয়া নির্বাচনী তফসিলের আগে থেকেই হওয়া উচিত।’

সম্প্রতি ইংল্যান্ড ও সিঙ্গাপুর সফরে ‘এ’ দল, অনূর্ধ্ব-২৩ ও অনূর্ধ্ব-১৯ প্রভৃতি বয়সভিত্তিক দলের বাজে পারফরম্যান্স উল্লেখ করে এটাকে বর্তমান ক্রিকেটের চিত্র হিসেবে অভিহিত করেন সাবের। খেলার প্রতি বোর্ডের অবহেলাকে দায়ী করেন সাবের হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেটÑ বোর্ডের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে বোর্ডের দৃষ্টি নেই। তাদের দৃষ্টি নির্বাচনের দিকে। কী কারণে প্রতিটি বয়সভিত্তিক দলে ধারাবাহিক বাজে পারফরম্যান্স হলো সেটার পোস্টমর্টেম করা উচিত। এ বিষয়ে বোর্ডের জরুরি সভার প্রয়োজন ছিল। এভাবে চললে খেলা থাকবে না, বোর্ডই থেকে যাবে।’