পাসপোর্ট করতে গিয়ে ধরা পড়লো রোহিঙ্গা নারী

0
32

৬ মাসের কারাদন্ড

কক্সবাজার প্রতিনিধি। কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে পাসপোর্ট করতে যান তছলিমা বেগম (২২)। আবেদন মতে তার বাড়ি উখিয়া উপজেলার রত্না পালং ইউনিয়নে। তছলিমার সাথে ছিলেন তার কথিত পিতা ছুরত আলমও। পিতা অবশ্য বাইরে দাঁড়ানো ছিলেন। পাসপোর্ট প্রত্যাশী তছলিমা ও বিশেষ পেশার কার্ডধারী এক শুভাকাঙ্খী আবেদন ফরমসহ পাসপোর্ট অফিসে এলেন। ১৭ জুন (সোমবার) রিসিভ ডেস্কে বসে নিজেই পাসপোর্ট আবেদন ফরম রিসিভ করছিলেন সহকারী পরিচালক আবু নাঈম মাসুম । কিন্তু পাসপোর্ট আবেদন ফরম ও অন্যান্য কাগজপত্র হাতে কাউন্টারে দাঁড়ানো তছলিমাকে দেখে কেমন যেন সন্দেহ হয় অভিজ্ঞ অফিসারের। এরপর শুরু হল জেরা। দুইজনকে আলাদা করে কৌশলী জেরার মুখে টিকতে না পেরে অবশেষে গোমর ফাঁস করে দিলেন কথিত তছলিমা বেগম। কথিত তছলিমা আসলে আশ্রিত রোহিঙ্গা৷ তার মূল নাম আমাতুল হালিমা, পিতা নরুল ইসলাম। কুতুপালং লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্লক – সি, টু জি, ক্যাম্প- ১ এর বাসিন্দা তারা। জিজ্ঞাসাবাদে আরো বের হয়ে এল ভয়ঙ্কর সব তথ্য। উপরোক্ত ছুরত আলমকে পিতা বানিয়ে তার মেয়ে তছলিমার জাতীয়তা সনদ, আইডি কার্ড, জন্ম নিবন্ধন সনদ ও অন্যান্য কাগজ পত্রের সাথে নিজের ছবি লাগিয়ে পাসপোর্ট করতে এসেছিল রোহিঙ্গা যুবতী আমাতুল হালিমা। অকপটেই সব স্বীকার করল সে। এদিকে অবস্হা বেগতিক দেখে ততক্ষনে দৌঁড়ে পালিয়ে গেছে বিশেষ পেশার পরিচয়দানকারী যুবক। পাতানো পিতা ছুরত আলমও ততক্ষনে চম্পট। ততক্ষনে পাসপোর্ট অফিসে হাজির সদর মডেল থানার পুলিশ ফোর্স। এরপর বাংলাদেশী কথিত তছলিমা ওরফে খাস রোহিঙ্গা যুবতী আমাতুল হালিমাকে সোপর্দ করা হয় ভ্রাম্যমান আদালতে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মাখন চন্দ্র সূত্রধর ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে পাসপোর্ট জালিয়াত রোহিঙ্গা আমাতুল হালিমাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করে জেল হাজতে প্রেরনের নির্দেশ দেন। আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস কক্সবাজারের সহকারী পরিচালক আবু নাঈম মাসুম জানান, সন্দেহ হওয়ায় আবেদনকারী তছলিমাকে জেরা করা হয়। জেরার মুখে সে রোহিঙ্গা ও প্রকৃত নাম আমাতুল হালিমা বলে স্বীকার করে। তিনি আরো জানান, মালয়েশিয়ায় অবস্হানরত তার ভাইয়ের কথায় পাসপোর্ট করতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সক্রিয় দালালচক্রের সাথে যোগাযোগ করে বলে স্বীকার করে আটক যুবতী।