পাহাড়ি উৎসব শেষ হচ্ছে আজ

0
53

পাহাড়ের প্রতিটি ঘর বৈসাবি উৎসবের আনন্দে মুখরিত। এটা তাদের ঐতিহ্যবাহী ও প্রাণের উৎসব। ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে বহু বছর থেকে ধারাবাহিকভাবে পালিত হয়ে আসছে এই উৎসবটি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতি বাংলা বর্ষ বিদায় ও বরণ উপলক্ষে সামাজিকভাবে ত্রিপুরা সম্প্রদায় বৈসুক, মারমারা সাংগ্রাই আর চাকমারা পালন করে বিজু উৎসব। এর সংক্ষিপ্ত নাম বৈসাবি।

গত শুক্রবার (১২ এপ্রিল) পানিতে ফুল ভাসিয়ে শুরু হয়েছে তিন দিনের এ উৎসব। শনিবার (১৩ এপ্রিল) পালিত হয়েছে উৎসবের মূলদিবস। এ দিনকে চাকমারা বলে মূলবিঝু। ঘরে ঘরে যার যা সামর্থ্য তা দিয়ে অতিথি আপ্যায়ন করা হয়। আজ (১৪ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখ বা নতুন বছরের মঙ্গল প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে তিন দিনের বৈসাবি বা বিজু উৎসব। ফলে মেতে উঠেছেন রাঙ্গামাটিসহ সব জেলা উপজেলার সর্বস্তরের পাহাড়ী মানুষ।

শনিবার উৎসবের মূল দিবসে ঘরে ঘরে চাকমারা ফুলবিঝু, মারমারা সাংগ্রাইং আক্যা এবং ত্রিপুরারা বৈসুকমা পালন করেছেন। ঘরে ঘরে আয়োজন করা হয়েছিল নানাবিধ খাবার। আপ্যায়নে মেতে ছিল শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সের নারী-পুরুষ। উৎসবে যোগ দেন সব জাতিগোষ্ঠীর মানুষ। ফলে পাহাড় জুড়ে খুশির ঢল নামে।

রাঙ্গামাটিতে সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার, সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার, চাকমা সার্কেল চিফ রাজা ব্দেবাশীষ রায়, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা তাদের নিজ নিজ বাসভবনে সার্বজনিন আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে সর্বস্তরের জনগণের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় করেছেন।

এদিকে উৎসবে চাকমাদের গেঙখুলি গীতের (লোকজ পালা গান) আসর, বাঁশ নৃত্য, মারমাদের জলকেলি এবং ত্রিপুরাদের গৈড়াইয়া নৃত্য মাতিয়ে ছিল পাহাড়কে। রোববার বাংলা নববর্ষের প্রথমদিন বা উৎসবের তৃতীয় দিন চাকমাদের গোজ্যেপোজ্যে, মারমাদের সাংগ্রাইং আপ্যাইং এবং ত্রিপুরাদের বিসিকাতাল উদযাপনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে তিন দিনের প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসাবি। মন্দিরে মন্দিরে আয়োজন হবে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের। এছাড়াও আয়োজন করা হয়েছে বৈশাখি উৎসবের। আগামীকাল সোমবার (১৫ এপ্রিল) থেকে শুরু হবে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী জলকেলি উৎসব।