পূর্বশত্রুতার জেরে খুন হন সঞ্জয় ধর

0
51

ব্যবসায়িক লেনদেন ও সুদের টাকা নিয়ে পূর্বশত্রুতার জেরে ইপিজেড থানার বন্দরটিলা এলাকায় স্বর্ণের দোকানদার সঞ্জয় ধর (৪৫) খুন হন। ভিন্ন ভিন্ন পক্ষ এক হয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী সঞ্জয় ধরকে খুন করেছে বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।
শনিবার (২০ জুলাই) ইপিজেড থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (বন্দর) হামিদুল আলম।

হামিদুল আলম বলেন, একসময় বিকাশ কান্তি মল্লিক প্রকাশ তপন মল্লিকের জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন সঞ্জয় ধর। পরে তপনের প্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়ে নিজে ব্যবসা শুরু করেন সঞ্জয়। এ নিয়ে তাদের দুজনের মধ্যে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে স্থানীয় টমটম চালক মো. শফিউল উমাম প্রকাশ বাদশা সুদে টাকা নিয়েছিলেন সঞ্জয়ের কাছ থেকে। কিন্তু সুদ দিতে দিতে ধারের কয়েকগুণ টাকা দিয়েও ঋণের বোঝা মুক্ত হতে পারছিলেন না শফিউল উমাম প্রকাশ বাদশা। এ নিয়ে শফিউল উমাম প্রকাশ বাদশার ক্ষোভ ছিল সঞ্জয়ের প্রতি। ক্ষোভ থেকে সঞ্জয়কে হত্যার পরিকল্পনা করেন তারা দুইজন।

তিনি বলেন, ২১ জুন রাত ১১টার দিকে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মনিশ্রী জুয়েলার্সে বসে হিসাব করছিলেন সঞ্জয় ধর (৪৫)। সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে দোকানের সার্টার অর্ধেক নামিয়ে হিসাব করছিলেন তিনি। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ডা. বিশ্বজিৎ ও শফিউল উমাম বাদশাকে নিয়ে দোকানে প্রবেশ করে তপন মল্লিক। দোকানে ঢুকেই প্রথমে বাদশা সঞ্জয়ের মুখ চেপে ধরেন ও তপন মল্লিক সঞ্জয়ের হাত-পা চেপে ধরে। ডা. বিশ্বজিৎ সঞ্জয়ের শরীরে চেতনানাশক ইনজেকশন পুশ করে তাকে অজ্ঞান করে বাইরে চলে যান। সঞ্জয় অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার পর বাদশা তার কাছে থাকা ছুরি দিয়ে সঞ্জয়কে জবাই করেন। মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য সঞ্জয়ের পেটের দুই পাশে ছুরিকাঘাত করেন বাদশা।

পুলিশ কর্মকর্তা হামিদুল আলম বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর তারা সঞ্জয়ের দোকানে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ফেলেন। সিসিটিভি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক নিয়ে যান। সঞ্জয়ের মোবাইল দুইটি বন্ধ করে দেন তারা।

ইপিজেড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ওসমান গণি বলেন, এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

গত ২৩ জুন সকালে ইপিজেড থানার বন্দরটিলা এলাকার আয়েশার মা গলির মনিশ্রী জুয়েলার্স থেকে প্রতিষ্ঠানটির মালিক সঞ্জয় ধরের গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ২৪ জুন হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী বিকাশ কান্তি মল্লিক প্রকাশ তপন মল্লিককে গ্রেফতার করা হয়। গত ১৭ জুলাই ও ১৮ জুলাই নগরের ডবলমুরিং, জেলার বাঁশখালী ও সীতাকুণ্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (বন্দর) আরেফিন জুয়েল, সহকারী কমিশনার (বন্দর) মো. কামরুল হাসান, ইপিজেড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর মো. নুরুল হুদা উপস্থিত ছিলেন।