পেকুয়া জিএমসির প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী পরিষদ গঠনকল্পে মতবিনিময় সভা

0
39
পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার একমাত্র সরকারি বিদ্যাপিঠ জিএমসি ইনস্টিটিউশনের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী পরিষদ গঠনকল্পে প্রাথমিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার সন্ধ্যায় জিএমসির হল রুমে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় উপস্থিত প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বলেন, কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলা সদরে ১৯২৯ সালে প্রাণের বিদ্যাপিঠ জিএমসি প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ জমিদার মরহুম গুরা মিয়া চৌধুরীর নামে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা না করলে আমরা আজ এ অবস্থানে আস্তে পারতাম না। এ স্কুল থেকে অনেক জ্ঞানী ব্যক্তি বের হয়েছে। অনেক জায়গায় তারা প্রতিষ্টিত অবস্থায় আছে। কিন্তু ছিটিয়ে ছড়িয়ে। অনেক মহান ছাত্র প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী পরিষদ গঠন করার চেষ্টা করলেও বিভিন্ন কারণে পারেনি। আজকে সাংবাদিক মোঃ ফারুক, সাংবাদিক এফএম সুমন, সাংবাদিক দিদার, কামরান জাদিদ মুকুটসহ যারাই এ উদ্যোগ গ্রহণ করে সকল শিক্ষার্থীদের এক করার মত একটি মহৎ কাজের দিকে ধাবিত হচ্ছে। আজকে তারা যে কাজ শুরু করে দিয়েছে তা পূর্ণাতা পাবে ইনশাল্লাহ। আর আমরা যারা আছি সকলের সহযোগিতায় পরিষদ পূর্ণাঙ্গতা পাবে বলে আশাবাদি।
এসময় এফএম সুমন, কামরান জাদিদ বলেন, আমরা সেচ্ছাসেবক হিসাবে শুরু করে দিয়েছি।  আমরা অনেক ছোট। এর গুরুদায়িত্ব পালন করবে প্রবীণ শিক্ষার্থীরা। কমিটির দায়িত্বও পালন করবেন সিনিয়র ভাইয়েরা। আমরা সসহযোগি হিসাবে থাকবো।কারো সন্দেহ করার কোন কারণ নাই আমরা নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য এসব করছি। সেই ধারণ ক্ষমতা আমাদের এখনো হয়নি।
সাংবাদিক ফারুক বলেন, বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজসহ প্রাথমিক বিদ্যালয়েও প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী পরিষদ আছে। স্কুল সংশ্লিষ্ঠ বিভিন্ন অনুষ্ঠান প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা পালন করে থাকে। কিন্তু আমাদের প্রাণের বিদ্যাপিঠ জিএমসিতে প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী পরিষদ ছিল না। তা আমাকে বারবার কষ্ট দিত। গত দুইতিন বছর আগ থেকে আমার সহকর্মী সুমনকে ডিস্টাব করছিলাম প্রাক্তন পরিষদ করার জন্য। সর্বশেষ গত ১৫দিন আগে কম্পিউটার থেকে ফরমের ছায়াকপি বের করে কার্যক্রম শুরু করে দিলাম। বাংলাদেশের ভিতর থাকা শিক্ষার্থী ছাড়াও প্রবাসী শিক্ষার্থীরা ফোন করে উৎসাহ প্রদান করেন কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য। কাজ শুরুর প্রথম পর্যায়ে প্রবীণ ছাত্র এডভোকেট কামাল হোসেন, ছাত্র সাবেক প্রধান শিক্ষক এমএম শাহাজাহান চৌধুরী, ছাত্র সাবেক শিক্ষক রুহুল আমিন, ছাত্র কৃষি ডিপার্টমেন্টের চট্টগ্রমাস্থ সহকারী পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনসহ আরো বেশ কয়েকজনের সাথে আলাপ করলে সিনিয়র ভাইয়েরা অনেক খুশি মনে কাজ শুরু উৎসাহ দেন। এছাড়াও পেকুয়ায় যারা বসবাস করেন তারা সার্বক্ষনিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। পর্যায়ক্রমে দেশ বিদেশে সিনিয়র ও ছোট ভাইয়েরা যেই অবস্থানে আছে তাদের সাথে যোগাযোগের আপ্রাণ চেষ্টা থাকবে। আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি আমরা শুরু করে দিয়েছে যেই কেউ এর হাল ধরবে ইনশাল্লাহ। এক্ষেত্রে আমাদের ভুল হতে পারে। আদেশ, পরামর্শ ও নির্দেশ দিয়ে কাজকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য উৎসাহ প্রদান করবেন। আমি কোন কমিটি বুঝিনা আমি বুঝি আমরা সবাই জিএমসিয়ান। তবে কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রাথমিক একটা কমিটি দরকার আছে বলে আমি মনে করি। তা সবার মতামতের ভিত্তিতে ও প্রবীণদের অগ্রাধিকার দিয়ে। বিশেষ করে পেকুয়ায় আমরা যারা অবস্থান করি তারা যদি এক হয়ে কাজ করি সফল হবো ইনশাল্লাহ। আমি কৃতজ্ঞ জিএমসির বর্তমান প্রধান শিক্ষক আমার প্রিয় শিক্ষক জহির উদ্দিনের প্রতি। তিনি আমাদেরকে সকল সহযোগিতার পাশাপাশি প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী পরিষদের জন্য একটি কক্ষ বরাদ্ধ দিবেন বলে জানান।
সর্বসম্মতিক্রমে প্রবীণ ও সকল ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সাথে আলাপ করে কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। প্রবীণদের সম্মান দেওয়ার জন্য তাদের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এছাড়াও পরিষদের কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য উপ-কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত হয়। সর্বশেষ কক্সবাজার, চট্টগ্রমা ও ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা এবং প্রবাসী শিক্ষার্থীদের কাছে ফরম পৌঁছানোর জন্য করণীয় নির্ধারণ করা হয় এবং প্রতি ফরমে নামমাত্র ২০টাকা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
আগামী শুক্রবার প্রবীণদের উপস্থিত করে মতবিনিময় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এসময় আরো মতামত প্রদান করেন, প্রবীণ শিক্ষার্থী নুরুল আবছার, এসএম শাহাদত হোসেন, সাংবাদিক দিদারুল করিম, বিশিষ্ট ঠিকাদার সাজ্জাদুল ইসলাম, ব্যবসায়ী মোঃ আজম, সাংবাদিক ইমরান হোছাইন, সাংবাদিক হিজবুল্লাহ, সোহেল আজিম, সাদ্দাম হোসেন, মোকতার আহমদ, আরফান উল্লাহ, ফারুক আজাদ, আবদুল্লাহ আল মোবাশ্বের মানিক, রেজাউল করিম, আমজাদ হোছাইন, আবদু রহিম, সেলিম উদ্দিন।