পেকুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়ম-দূর্নীতি ধামা চাপা দিতে মরিয়া সিন্ডিকেট!

0
20

দূর্নীতি
গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আগত সরকারী অডিট টিমকে মোটা অংকে ম্যানেজ করে হাসপাতালের নানা ধরনের অভ্যন্তরীর অনিয়ম-দূর্নীতি ও সরকারী টাকা লুটপাটের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে খোদ হাসপাতালেরই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বয়ে গড়ে উঠা একটি অসাধু সিন্ডিকেট। এ নিয়ে পুরো পেকুয়াজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সরকারী অডিট টিমের এহেন ভূমিকায় স্থানীয় সচেতন মহলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল এ ব্যাপারে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্থক্ষেপ চেয়েছেন।

মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে সরেজমিনে পেকুয়া সরকারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানীয় কয়েকজন সংবাদকর্মী পরিদর্শনে গেলে সরকারী অডিট টিম ও কর্মচারী সিন্ডিকেটের আঁতাতের বিষয়টি ধরা পড়ে। এসময় সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি দেখে আকস্মিক হতবিহব্বল হয়ে পড়ে সরকারী অডিট টিমের ৩সদস্য ও হাসপাতালের কয়েকজন অসাধু কর্মচারী।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, চলতি মাসের ২১ ডিসেম্বর থেকে পেকুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিগত অর্থ বৎসরের অডিটের কাজ শুরু করে রাজধানী সেগুনবাগিচা এলাকার লোকাল এন্ড রিভিনিউ এর কর্মকর্তারা। অডিটের নেতৃত্বে রয়েছে লোকাল এন্ড রিভিনিউর অডিট এন্ড একাউন্টস অফিসার একেমএম রায়হান উল্লাহ, সুপারিটেনডেন্ট হিসেবে জহিরুল ইসলাম হেদায়ত উল্লাহ। পেকুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস সহকারী নেজাম উদ্দিন জানান, ২১ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালের অডিট চলবে।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগ করেছেন, পেকুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অডিট করতে আসা লোকাল এন্ড রিভিনিউর কর্মকর্তারা হাসপাতালের গুটিকয়েক কর্মকর্তা ও অফিসে কর্মরত কর্মচারীদের কাছ থেকে মোটা অংকে ম্যানেজ হয়ে দায়সারাভাবে অডিট কাজ করছেন। বিগত বছর গুলোতে হাসপাতালের জন্য সরকারী বরাদ্দ যথাযথ ব্যয় না করে অনিয়ম-দূর্নীতির আশ্রয় নিয়ে সরকারী বরাদ্দ লুটপাঠ হয়েছে। কিন্তু এসব অনিয়ম দূর্নীতি খতিয়ে দেখার পরিবর্তে লোকাল এন্ড রিভিনিউর কর্মকর্তারা হাসপাতালে বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে। সরকারী অডিট টিমের এ অবস্থা দেখে স্থানীয়রা হতাশ হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, বিগত বছর গুলোতে পেকুয়া সরকারী হাসপাতালে হাম-রুবেলা কর্মসূচীর নামে প্রায় ৭লাখ টাকা ভাগ-বাটোয়ারা, ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন কর্মসূচী বাস্তবায়নে বরাদ্দের অর্থ হরিলুট, হাসপাতালের রোগীদের জন্য বরাদ্দের খাবার নিয়ে দূর্নীতি, কতিপয় চিকিৎসকদের নিয়মিত কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও বেতন ভাতা উত্তোলন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঘোষিত ও অর্থায়নে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক দিবস ও কর্মশালার নামে লাখ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও তার বেশিরভাগ বরাদ্দ সংশ্লিষ্টরা লোপাট করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। কিন্তু সরকারী বরাদ্দের এসব কর্মসূচী সরকারী নিয়মে বাস্তবায়ন না করে হাসপাতালের অফিস সহকারী নেজাম উদ্দিন প্রায় দুই শতাধিক ভূঁয়া ছবি বিভিন্ন সরকারী অনুষ্টান ও কর্মশালার ব্যানার সংবলিত ছবি কম্পিউটার থেকে প্রিন্ট করে অডিট টিমের কাছে উপস্থাপন করেছে বলে হাসপাতালের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগ উঠেছে, অডিট টিমের সদস্যরা হাসপাতালের অফিস সহকারী নেজাম উদ্দিনের উপস্থাপন করা ভূঁয়া অনুষ্টান পালনের ভূঁয়া ছবির বিষয়ে কোন ধরনের সত্যতা যাচাই-বাচাই না করেই যেনতেনভাবে দায়সারাভাবে অডিটের কাজ করছেন।

মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে পেকুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরেজমিনে পরিদর্শন কালে দেখা গেছে, হাসপাতালের অফিস সহকারী নেজাম উদ্দিনের কক্ষে লোকাল এন্ড রিভিনিউর তিন কর্মকর্তা গোপনে খোশ গল্পে মত্ত রয়েছে। এসময় তারা চা-বিস্কুট খেয়ে নিজেরা হাসি টাট্টায় ব্যস্থ ছিল। এসময় সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সরকারী অডিট টিমের সাথে কথা বলতে চাইলে লোকাল এন্ড রিভিনিউর এডিট এন্ড একাউন্টস অফিসার একেএম রায়হান উল্লাহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কথা বলতে পারবেনা বলে সাফ জানিয়ে দেন। এসময় এ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের দম্ভোক্তি করে এও বলেন, ‘আপনাদের (সাংবাদিকদের) সাথে আমরা কথা বলতে বাধ্য নই।’ এখানে আমাদের ইচ্ছেমতো অডিট করব, দেখার কে।
এদিকে সরকারী অডিট টিম অফিস সহকারী নেজাম উদ্দিনের কক্ষে খোশ গল্পে মেতে থাকলেও এসময় খোদ হাসপাতালের প্রধান কর্তা ভারপ্রাপ্ত টিএইচও ডা: মুজিবুর রহমান ছিলেন কর্মস্থলে অনুপস্থিত। এসময় তিনি পেকুয়া বাজারের পূর্বে পার্শ্বে তার মালিকানাধীন আল নুর ডায়গনাস্টিক সেন্টারে রোগী দেখার কাজে ব্যস্থ ছিল বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য টিএইচও ডা: মুজিবুর রহমানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।