প্রেমের ফাঁদে জড়িয়ে পরিকল্পিত ভাবে খুন

0
1

কলেজছাত্র নটরাজ চৌধুরীকে (১৯) প্রেমের ফাঁদে জড়িয়ে পরিকল্পিত ভাবে খুন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মা লুনা চৌধুরী। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত জামালখানের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ইসফাত আরাকে গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানান।

বুধবার (০২ মে) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক। এ সময় নটরাজের বাবা দেবাশীষ চৌধুরী, স্বজন মিতু চৌধুরী, রিতা সাহা ও জুয়েল চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার জন্য এত দিন হত্যা মামলা করতে পারেননি উল্লেখ করে নটরাজের বাবা-মা জানান, আগামী সপ্তাহে আদালতে মামলা করবেন।

গত ২০ এপ্রিল বাকলিয়া থানার রাহাত্তার পুল এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড হয়।

লুনা চৌধুরী বলেন, পুলিশ বলেছিল ঘরের দরজা ভেঙে ঝুলন্ত অবস্থায় আমার ছেলের মরদেহ উদ্ধার করেছে। কিন্তু আমরা ওই ঘরের দরজা ভাঙার কোনো চিহ্ন দেখিনি। যদি আত্মহত্যাই করত তবে তার হাতে, পায়ে ও হাঁটুতে আঘাতের চিহ্ন, কানে রক্ত এবং অণ্ডকোষ ফোলা ছিল কেন? আমাদের বিশ্বাস তাকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

লুনা বলেন, আমার দুই ছেলের মধ্যে নটরাজ বড়। সে কূলগাঁও সিটি করপোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল। এবার এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। ছোট ছেলের বয়স ১৪ বছর।

চান্দগাঁও চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকার ইসফাতের সঙ্গে নটরাজের সম্পর্কের কথা জানতে পেরে দুই পরিবার একটি অঙ্গীকারনামা করি যাতে দুইজনের মধ্যে আর মেলামেশা না হয়। একপর্যায়ে নটরাজ ও ইসফাত ঢাকায় চলে যায়। দুই-তিন মাস পর বাড়ি আসে। তখন স্থানীয় লোকজন তাদের ঘরে ঢুকতে না দিয়ে তাদের তাড়িয়ে দেন। এরপর তারা নাকি স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে রাহাত্তার পুল এলাকার মাজার গেটে ভাড়া বাসায় বাস করতে থাকে। প্রায় সাত বছর ধরে তাদের

সম্পর্ক ছিল।
লুনা অভিযোগ করেন, ইসফাত নটরাজের মাধ্যমে ১৬-১৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

তিনি বলেন, ১৯ এপ্রিল সকালে বন্ধুর বাসায় যাবে বলে সারা দিন ঘরে ফেরেনি। রাত ১০টায় ফোন দিলে ফোন ধরেনি। পরদিন সকাল ১০টায় মেয়েটি ফোন করে বলে, ‘আপনার রাজ তো নেই। ’ কী হয়েছে জানতে চাইলে বলেন, ‘আপনার ছেলে আত্মহত্যা করেছে।’ এরপর তার কাছ থেকে ঠিকানা নিয়ে ওই বাসায় ছুটে যাই।