ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে পরিবেশ সচেতনতার ঢেউ

0
86

ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে পরিবেশ সচেতনতার ঢেউ লেগেছে। কুমিরের চামড়া দিয়ে তৈরি হ্যান্ডব্যাগ বা কাশ্মীরি ভেড়ার পশম দিয়ে তৈরি উল- এসবই একটা সময় ব্যবহার্য ছিল। পরিবেশ চিন্তায় আচ্ছন্ন হয়ে এ ধরনের পণ্য উৎপাদন থেকে সরে আসছে বিলাসী ব্র্যান্ডগুলো

পরিবেশ ভাবনায় পুরো পৃথিবী আজ সোচ্চার। এটা শিল্প বিপ্লবের পর্ব নয়- যে সময়টায় মানুষ পাল্লা দিয়েছিল প্রকৃতির সঙ্গে। এখন মানুষ ও প্রতিষ্ঠানগুলো ভাবছে প্রকৃতি-পরিবেশ নিয়ে। সবাই চাইছে প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থান। সেইসঙ্গে চলছে প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানের যত্ন নেওয়ার একটি শুভ পর্ব।

ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে এই পরিবেশ সচেতনতার ঢেউ লেগেছে। কুমিরের চামড়া দিয়ে তৈরি হ্যান্ডব্যাগ বা কাশ্মীরি ভেড়ার পশম দিয়ে তৈরি উল- এসবই একটা সময় ব্যবহার্য ছিল। পরিবেশ চিন্তায় আচ্ছন্ন হয়ে এ ধরনের পণ্য উৎপাদন থেকে সরে আসছে বিলাসী ব্র্যান্ডগুলো।

পরিবেশ সুরক্ষার চিন্তা থেকে গত ৯ জুন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যালেবু সৈকতে এক ভিন্ন ধরনের ফ্যাশন শো আয়োজন করে ফ্যাশন ব্র্যান্ড সেন্ট লরেন্ট। সৈকতের ঢেউয়ের ভেতরেই রানওয়ে ছিল। সেখানে একে একে গ্রীষ্ফ্মকালীন পোশাক পরে হেঁটে যান মডেলরা। সৈকতে স্থাপিত দর্শক সারিতে উপস্থিত ছিলেন ভোক্তা, ফ্যাশন ক্রিটিক, সাংবাদিকরা। আলোকচিত্রী মুহুর্মুহু ছবি তুলে ভিন্ন ধরনের এ আয়োজনকে বন্দি করে রাখেন তাদের ক্যামেরায়।

সেন্ট লরেন্ট ব্র্যান্ডটি তাদের সব পণ্যে পরিবেশ ও প্রকৃতির দিক নিয়ে ভাবছে। বিশ্বব্যাপী কার্বন নির্গমন রোধের পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত আছে তারা। পোশাকের মাধ্যমেও ভোক্তাদের এ বার্তা দিতে চায় সেন্ট লরেন্ট।

শুধু এ ব্র্যান্ডটিই নয়, পশ্চিমের অধিকাংশ পোশাক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন কাজ করছে প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষার চিন্তা নিয়ে। প্রাণীর চামড়ায় তৈরি পণ্যের প্রতি ভোক্তাদের এখনও ঝোঁক রয়েছে। তবে ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলো শুধু পণ্য বিক্রি নয়, একই সঙ্গে সচেতন করে তুলতে চায় তাদের ভোক্তাদের।

লন্ডনভিত্তিক বিলাসী পণ্য গবেষক ও ফ্যাশন বিশ্নেষক মারিও অরটেলি মনে করেন, এ ক্ষেত্রে দুই পক্ষ উৎপাদক ও ভোক্তা উভয়কেই সচেতন হতে হবে। তার মত, ক্রেতাদের মধ্যে পরিবেশ ভাবনা বিস্তারে ব্র্যান্ডগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে। এ জন্য নিয়মিত তদারকির ওপর তিনি জোর দেন।

বিখ্যাত ব্র্যান্ড জর্জিও আরমানি ও ভারসাচি প্রাণিজ উপকরণ থেকে তৈরি পণ্য উৎপাদন থেকে সরে এসেছে। অনেক ব্র্যান্ড তাদের স্টকে থাকা এ ধরনের পণ্য ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফ্যাশন ব্র্যান্ড প্রাদা জানিয়েছে, তারা রিসাইকেল করা সম্ভব এমন পোশাক নিয়ে গবেষণা করছে।

এ বছরই পৃথিবী বিখ্যাত কয়েকটি ব্র্যান্ড বিশ্বব্যাপী কার্বন নির্গমন রোধে তাদের ভূমিকা নিয়ে ঘোষণাপত্র প্রকাশ করতে পারে। এই উদ্যোগে কারোরই ব্যবসা কমছে না, বরং বাড়ছে। এর কারণ, পরিবেশ সংক্রান্ত বিষয়ে ক্রেতাদের সচেতন হয়ে ওঠা। তাই বলা যায়, বিশ্বের ফ্যাশন শিল্প এখন পরিবেশমুখী। বাসযোগ্য পৃথিবী তৈরিতে যার কোনো বিকল্প নেই