অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করেছে প্রধানমন্ত্রী

0
43

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ.জ.ম.নাছির উদ্দীন বলেছেন আজ থেকে দশ বছর পূর্বে শারদীয় দুর্গোৎসব সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আনন্দের মাঝেও ছিল অজনা শংকা। কারণ তারা এই দিনটি আনন্দে, নির্বিঘেœ করতে পারবে কিনা তা নিয়ে তাদের মধ্যে সন্দেহ ছিল। বর্তমানে সেই সন্দেহ, বাধা – প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই সারাদেশে দুর্গোৎসব পালিত হচ্ছে। শান্তি সম্প্রীতি ও যথাযথ উৎসব মুখর পরিবেশেই আজ দুর্গোৎসব পরিসমাপ্তি ঘটেছে। এটি আমাদের জন্য আনন্দের সংবাদ। এটি অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশেরই প্রতিচ্ছবি।শান্তি-সম্প্রীতির এমন চিত্রই সবার প্রত্যাশা । জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই ধরণের একটি অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশ চেয়েছিলেন, সেই পরিবেশই সৃষ্টি করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আজ মঙ্গলবার বিকেলে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে সিটি কর্পোরেশেনের ব্যবস্থাপনায় ও চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এডভোকেট চন্দন তালুকদার। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, চসিক প্যানেল মেয়র কাউন্সিলর চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, অতিরিক্তি পুলিশ কমিশনার আমেনা বেগম, কাউন্সিলর ছালেহ আহমদ চৌধুরী, শৈবাল দাশ সুমন ।এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন লায়ন আশিষ ভট্টচার্য, অধ্যাপক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জি, সুমন দেবনাথ, রতœাকর দাশ টুনু প্রমূখ।অনুষ্টানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক হিল্লোল সেন উজ্জল। উপস্থাপনায় ছিলেন অঞ্জন দত্ত । মেয়র আরো বলেন দূর্গা পূজা কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়। এটা একটি সামাজিক উৎসবও। এই উৎসব সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মাধ্যমে বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যকে তুলে ধরে। তৈরী হয় মেলবন্ধন। আগামীতেও দলমত নির্বিশেষে এই মেলবন্ধন অক্ষুন্ন রাখতে হবে। তিনি বলেন.মানবতাই সকল ধর্মের শ্বাস্বত বাণী। ধর্ম মানুষকে ন্যায় ও কল্যানের পথে আহবান করে। অন্যায় অসত্য থেকে দুরে রাখে। দেখায় আলোর পথ। তাই ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা আমাদের সকলের উচিত। সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাঙালীর চিরকালিন ঐতিহ্য। দেশের সামগ্রিক অগ্রযাত্রায় এই ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। মেয়র আরো বলেন বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে চলেছে। জাতীয় জীবনে আর্থ সামাজিক ক্ষেত্রে অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধির পাশাপাশি মানুষের জীবন যাত্রার মান ও অব্যাহতভাবে বাড়ছে। কমছে দারিদ্রের হার। উন্নয়নের এ অগ্রযাত্রাকে দলমত নির্বিশেষে অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি বলেন নগরীতে দুর্গাপুজা মন্ডপ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। একসময় নগরীর সকল পুজার্থীরা প্রতিমা নিয়ে এই সমুদ্র সৈকতে আসতো । ফলে রাত অবধি প্রতিমা নিরঞ্জন হতো। এতে ছিল পুজার্থী ও ভক্তদের অনেক দুর্ভোগ । এই দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে সিটি মেয়র বলেন পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত ছাড়াও এবছর থেকে চসিকের উদ্যোগে নগরীর ফিরিঙ্গী বাজার, কালুঘাট ও মোহরা এলাকায় প্রতিমা বিসর্জনের সুব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে সনাতন সম্প্রদায়ের প্রতিমাগুলো নগরীর ৪টি এলাকায় বিসর্জনের সুযোগ হয়েছে। এতে পতেঙ্গায় পুজার্থীদের ভিড় অনেকাংশে কমে যায়। তারপরেও এলাকায় আগত পুজার্থীদের নির্বিঘেœ উঠা-নামার সুবিধার্থে পরিকল্পিতভাবে আগামী পুজার আগে আরো ৪টি ঘাট নির্মান করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সনাতনী সম্প্রদায়ের দুর্গোৎসব সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য প্রশাসনের পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, জেলা প্রশাসন, সিটি কর্পোরশনের কাউন্সিলর ও ভিজিল্যান্স টিম পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং সেচ্ছাসেবকদের ধন্যবাদ জানান মেয়র। এদিকে পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ চট্গ্রাম মহানগরীতে পূজা উদযাপনে আন্তরিক সহযোগীতার জন্য মেয়রের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে বেলা বাড়ার সাথে নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে পূজারী ও ভক্তরা তাদের প্রতিমা গাড়িতে করে আনতে শুরু করে। এক সময় হাজার-হাজার ভক্ত-পূজারীর উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয় সমুদ্র সৈকত। প্রতিমা বিসর্জন দেয়া শুরু হয় দুপুর ১২টা থেকে । সন্ধ্যার পরেই প্রতিমা বিসর্জন শেষ হয়। সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে প্রতিমা নিরঞ্জন করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং হাজার হাজার পূজার্থী। প্রতিমা বিসর্জনকে সামনে রেখে সমুদ্র সৈকত ও তার আশ পাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়। কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়া পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকায় নগরীর ১৩০টি প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়। এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরের মতো এবারও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকায় প্রতিমা নিরঞ্জনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই লক্ষে প্রতিমা বিসর্জনের সুবিধার্থে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে প্রতিমা নিয়ে জলে নামা – উঠার জন্য ঘাট নির্মান, আলোকবাতি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সাজসজ্জা, মঞ্চ নির্মাণ, শৌচাগার, মাইকিং, পানিয় জলের ব্যবস্থাসহ সার্বিক ব্যবস্থার উদ্যোগ নেয় চসিক। আয়োজন করা হযেছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও। অনুষ্টান মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন উপ পুলিশ কমিশনার হামিদুর আলম, রাজনীতিক মোহাম্মদ ঈসা, সৈকত মহাজন সাজু, শিতম শীল,উত্তম মহাজন, সুজন শীল, নিখিল ঘোষ, প্রদীপ শীল,দুলন ধর, এড.টিপু শীল জয়দেব,যিশু তালুকদার, সৌরন দত্ত, সুমন দাশ, সঞ্জয়িতা দত্ত পিংকী, এড.রাজেশ বিশ্বাস, জয়ন্ত তালুকদার, বিপ্লব সেন, তন্ময় দেবনাথ, জয়ন্ত তালুকদার,অলিক তালুকদার, অরুন রশ্নি দত্ত, অসিক দত্ত, জয়সেন গুপ্ত, অসীম দাশ,সমির মহাজন লিটন,উত্তম শীল, লিটন চৌধুরী, রাহুল দাশ, শ্যামল চৌধুরী, আপন বল্লাত,রুমকি সেন গুপ্ত, আশোক দত্ত লিটন, তপন দে, রীপন রায়, রাজন দাশ, জয় দত্ত, বিবেক দে সহ অসংখ্য পুজার্থী।