বধূ বেশে বরের ঘরে পপি

0
3

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির পাশে ছোট্ট একটি কুঁড়ে ঘরে বেড়ে ওঠা পপি আকতার বধূ বেশে বরের ঘরে গেলো। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়িতে তার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। এ সময় নগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) বিজয় বসাক, উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি-উত্তর) মো. মিজানুর রহমান, সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার (পাঁচলাইশ জোন) দেবদূত মজুমদার, চকবাজার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাইয়েদ গোলাম হায়দার মিন্টুসহ বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।
পপির মা মানসিক ভারসাম্যহীন। বাবা দিনমজুর। নুন আনতে পান্তা ফুরায় পরিবারটির স্থায়ী কোনো আবাস নেই। প্রথম দিকে চমেক হাসপাতালের বারান্দা ছিল তাদের আবাস। পরে পুলিশ ফাঁড়ির পাশে ছোট জায়গায় এক চালা একটি ঘর তুলে সেখানেই বসবাস শুরু করে পরিবারটি। পরিবারটির এমন নিদারুণ কষ্ট দেখে এগিয়ে আসেন পুলিশ কর্মকর্তা জহিরুল হক ভূঁইয়া। তিনি চমেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ। সাধ্যমতো ভরণপোষণসহ বিভিন্ন সহযোগিতা করেন পপির। দেখতে দেখতে পপি এখন ১৯ বছরের তরুণী। এরপর পপিকে বিয়ে দেয়ার চেষ্টা শুরু করেন তিনি। এর মধ্যে বোয়ালখালী উপজেলার পশ্চিম গোমদণ্ডী ইউনিয়নের মৃত সাবের আহমদের ছেলে মো. জসিমের সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয় পপি আকতারের। অবশেষে গতকাল দুপুরে হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়িতে এই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। পুলিশ কর্মকর্তা জহিরুল হক ভূঁইয়া বলেন, অসহায় মেয়েটি বউ সেজে বরের বাড়ি যাবে, এমন দৃশ্যটি দেখার অপেক্ষায় ছিলাম। অবশেষে এমন দৃশ্য দেখে শান্তি পেলাম। মেয়েটির বিয়ে দিতে পেরে আমি অনেক খুশি। বিয়েতে প্রায় দেড়শ মানুষকে আপ্যায়ন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।