বসন্ত কাল এ সময় ত্বক ও চুলের যত্ন

0
47

শীত ও গ্রীষ্মের মধ্য সময় হলো বসন্ত কাল। এ সময়টাতে একই সময়ে আমরা ঠাণ্ডা ও গরম অনুভব করি। ঠাণ্ডা গরমে তারতম্যের জন্য এ সময় স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে ত্বক ও চুলের প্রতি।

কীভাবে ঘরে বসে ত্বক ও চুলের পরিচর্যা কর যায় আসুন জেনে নেই-
ত্বকের মরা কোষ দূর করুন: অনেক সময়েই ত্বকের ওপর মরা কোষ সরিয়ে পরিষ্কার করে ফেলতে না পারলে ত্বক উজ্জ্বলতা ও মসৃণতা হারায়। ত্বকের ওপরের মরা কোষ সরাতে নিম্নলিখিত পদ্ধতি ব্যবহার করুন।

১। কমলালেবুর খোসা শুকিয়ে গুঁড়ো করে একটি বোতলে ভরে নিন। গোসলের সময় কাঁচা দুধে কমলালেবুর খোসা গুঁড়ো মিশিয়ে মুখ, কাঁধ, গলা ও সারা শরীরে মাখুন। হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে ম্যাসেজ করে ধুয়ে নিন; সঙ্গে সঙ্গে ত্বক হয়ে উঠবে মসৃণ।

২। যাদের ত্বক খুব শুষ্ক তারা কমলালেবুর খোসা গুঁড়োর সঙ্গে আটার ভূসি গুঁড়ো মিশিয়ে ভিজে ত্বকের ওপর ব্যবহার করুন।

৩। যাদের ত্বক তৈলাক্ত তারা টমেটোর শাঁস ও আটার ভূসি একসঙ্গে মিশিয়ে ভিজে ত্বকের ব্যবহার করুন।

ত্বক পরিষ্কার করুণ নিয়মিত

নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার করলেই ত্বকের সমস্যার আশি ভাগ মিটে যায়। এখানে জানানো হলো বেশ কিছু ফলের কথা; যা আপনি ব্যবহার করতে পারেন ক্লিনজার হিসেবে।

১। কয়েক ফোঁটা লেবুর রস এক টেবিল চামচ পরিমাণ কাঁচা দুধে মিশিয়ে এই মিশ্রণটিকে ক্লিনজার হিসেবে ব্যবহার করুন। এই মিশ্রণে তুলো ভিজিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন। এটি তৈলাক্ত ত্বকের জন্য উপযুক্ত।

২। অর্ধেক পাতিলেবুর রস এক কাপ গরম জলে মিশিয়ে নিন। একটি পরিষ্কার নরম কপড়ের টুকরো ওই জলে ভিজিয়ে জল চিপড়ে বার করে নিন। ভেজা কাপড়টি দিয়ে আলতো করে মুখ মেখে নিন। এটিও তৈলাক্ত ত্বকের জন্য উপযুক্ত।

৩। পাকা পেঁপের শাঁস সারা মুখে মাখিয়ে নিন, আলতো করে ম্যাসেজ করে নিন। জলের ঝাপটায় মুখটা ধুয়ে নিন। আনারসের রস ব্যবহার করতে পারবেন ত্বক পরিষ্কার করতে। এটি শুষ্ক ত্বকের জন্য।

অতিরিক্ত শুষ্ক ত্বকের জন্য

অতিরিক্ত শুষ্ক ত্বক সহজেই অমসৃণ দেখায়। নিম্নলিখিত উপায়ে শুষ্ক ত্বকে উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনা যায় সহজেই।

১। তরমুজের রস, দুধ, মধু ও বাদাম একসাথে মিক্সার দিয়ে মিশিয়ে মুখে লাগান। আধাঘণ্টা রেখে ধুয়ে ফেলুন।

২। অতিরিক্ত শুষ্কতার কারণে অনেক সময়েই ত্বক ফেকাসে হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে টাটকা কমলালেবুর রস ও মধু সমপরিমাণে মিশিয়ে মুখে লাগাতে হবে।

৩। পাকা কলার খোসা সারা মুখে ঘষে নিন। পাঁচ মিনিট রেখে জলের ঝাপটায় ধয়ে ফেলুন। আলতো করে নরম কাপড়ে মুখ মুছুন। জোরে ঘষবেন না। এতে ত্বকের ওপরে পড়া আদ্র আস্তর উঠে যাবে।

৪। ত্বকের আদ্রতা দূর করতে দুইটি স্ট্রবেরির রস, দুই টেবিল চামচ ম্যানোলিন, দুই টেবিল চামচ সূর্যমুখীর তেলের সঙ্গে মিশিয়ে ফ্রিজে রেখে দিন। রাতে শোয়ার আগে এই ক্রিমটি মুখে মাখুন।

অত্যন্ত তৈলাক্ত ত্বকের জন্য

যাদের ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত তারা সেবাশাস গ্রন্থির তেলক্ষরণ কম করতে নিম্নলিখিত পদ্ধতি ব্যবহার করুন।

১। দুটি স্ট্রবেরির শাঁস, দুই চামচ মুলতানি মাটি ও একটি আস্ত লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে এই মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে অল্প ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন।

২। শসার রস, লেবুর রস সম পরিমাণে মিশিয়ে এটি দিয়ে সকালে ও রাতে নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার করুন।

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে

অনেক সময়ই নিয়মিত যত্নের অভাব পরিবেশ দূষণ ইত্যাদি কারণে ত্বকের মসৃণতা ও উজ্জ্বলতা চলে যায়। সেক্ষেত্রে নিচের টিপসগুলো মেনে চলুন।

১। আপেলের রস, টাটকা দুধের মাঠা ও ডিমের সাদা অংশ একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে রাখুন। আধাঘণ্টা পর প্রথমে দুধ দিয়ে ও পরে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

২। একটি আপেলের রসে দুই টেবিল চামচ দুধ মিশিয়ে সেটি দিয়ে নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার করুন। ত্বকের মসৃণতা বাড়বে।

৩। ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে ঠাণ্ডা কমলালেবুর রস মুখে ম্যাসেজ করুন।

চুল পড়লে কী করবেন

২০২০ সালে সবচেয়ে যে সমস্যা প্রকট আকারে দেখা গেছে তা হলো চুল পড়া। প্রায় সবাই এ সমস্যায় ভুগছেন। টিপস দেয়ার আগে কিছু বিশদ আলোচনা করছি।

অনেক সময়েই শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাব ঘটলে চুল পড়তে থাকে। আবার হরমোনাল সমস্যা থাকলে চুল পড়ে যায়। যেমন- থাইরয়েড; এ সমস্যা থাকলে চুল প্রায় সব পড়ে যায়। এছাড়াও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন মাথার কোনো সংক্রমণ ঘটছে কিনা যেমন-ফাংগাস। অতিরিক্ত শুষ্ক ত্বক তাদের চুলের গোড়ায় ফাংগাস লক্ষ্য করা যায়। তাছাড়া চুল পড়তে থাকলে খাদ্য তালিকার দিকে নজর দিন। কিছু ঘরোয়া টিপস দিচ্ছি নিয়মিত ব্যবহার করুণ উপকার পাবেন।

১। পাঁচ চামচ নারকেলের দুধ, এক চামচ লেবুর রস ও এক চামচ আমলার রস মিশিয়ে মাথায় লাগান। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন ঠাণ্ডা জল দিয়ে।

২। শসার রস ও মেথি গুঁড়ো একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি মাথায় লাগান চুলের গোড়ায়।

৩। চায়ের পাতা ফুটিয়ে নিন ডাবের জলে। এ মিশ্রণটি মাথায় লাগান।

১০ মিনিটে চুল উজ্জ্বল

১। লেবুর রস ও আনারসের রস একসঙ্গে মেশান। চুলে লাগান। ১০ মিনিট রেখে দিন। এরপর চুল ধুয়ে ফেলুন।

২। বেদানার রস ও আঙ্গুরের রস একসঙ্গে মেশান। এবার পুরো চুলে লাগান। নিয়মিত করুন।

৩। জলপাই থেঁতো করে নারকেল বাটার সঙ্গে মেশান। চুলে লাগিয়ে ১০ মিনিট রাখুন। এবার চুল ধুয়ে ফেলুন। এতে চুল উজ্জ্বল হয় এবং চুল পড়া বন্ধ হয়।

অয়েল ম্যাসেজ

অনেকে চুলে তেলই দেন না। তেল ছাড়া কিছু চুল নিষ্প্রাণ দেখায়। তাই সপ্তাহে অবশ্যই ২-৩ দিন তেল ম্যাসেজ করুন চুলে।

১। সমপরিমাণ নারিকেল তেল ও অলিভওয়েল গরম করুন। এরপর রাতে মাথায় ম্যাসেজ করে সারারাত রেখে সকালে শ্যাম্পু করুন।

২। ক্যাস্টর অয়েল সামান্য গরম করুন। তারপর মাথায় ম্যাসেজ করে লাগিয়ে নিন। ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। খাবার তালিকায় অবশ্যই দুধ রাখুন আপনার চুল পড়া কমাতে সাহায্য করবে।

নজর দিন ঠোঁটর যত্নে

ঠোঁট ফাটা থাকলে তা আপনার স্বাভাবিক সৌন্দর্যের পক্ষে বাধা হয়।

১। এক চামচ মধু নারকেল তেল আর ব্রাউন সুগার আধা টেবিল চামচ গরম জলে মিশিয়ে নিন। এ মিশ্রণটা দিয়ে ঠোঁট চক্রাকারে ম্যাসেজ করুন। চার-পাঁচবার ম্যাসেজ করার পর জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন; তারপর ঠোঁটে লাগিয়ে নিন পেট্রোলিয়াম জেলি।

অপ্রয়োজনে মেকআপ নয়

যেদিন মেকআপ না করলেও চলে সেদিন বাদ রাখুন; বিশেষ কোনো অনুষ্ঠান না থাকলে মেকআপ রাখুন। তাতে ত্বক শ্বাস নিতে পারবে।

দরকার পর্যাপ্ত ঘুম

শুধু এক সময় নয়, প্রায় সব সময় ঘুমের অভাব ঘটলে তার ছাপ আপনার ত্বকের উপরেও পড়ে। তাই ৬-৭ ঘণ্টা ঘুমান; নিয়মিত ঘুম মানুষকে সতেজ রাখে।

আঞ্জুমান আরা
রূপ বিশেষজ্ঞ