বাঙালির সংস্কৃতির নির্যাস থেকেই বাংলাদেশের উদয়

0
3

নগর ভবন চত্বরে সংস্কৃতি উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে- সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও নগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, বাঙালির সংস্কৃতির নির্যাস থেকে বাঙালি জাতীয়তাবাদের উৎস ধারা রচিত হয়েছে এবং এ থেকেই সৃষ্টি হয়েছে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। বাঙালির এই গর্বিত ঠিকানার নির্মাতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি গতকাল মঙ্গলবার, বিকেলে নগরীর আন্দরকিল্লাস্থ নগর ভবন চত্বরে চট্টগ্রাম সাংস্কৃতিক স্কোয়ার্ড আয়োজিত সংস্কৃতি উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষনে এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, বাঙালির ভাষা ও সংস্কৃতির উপর হামলা এসেছিলো বলেই পাকিস্তান নামক একটি উদ্ভট রাষ্ট্র ভেঙ্গে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়। এই রাষ্ট্রের উপরও আঘাত হয় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করে। এরপর দীর্ঘ ২১ বছর এদেশে পাকিস্তানি ভাবধারায় জাতীয় আগ্রাসন হয়েছে। এর বিরুদ্ধে সংস্কৃতিকর্মীরা লড়াই করেছেন। তাদেরই প্রেরনায় ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনা জাতিকে উদ্ধার করেন এবং ক্ষমতায় এসে জাতিকে ইতিহাসের দায় মোচন করেন। মাঝখানে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে। এসব কিছু মোকাবেলায় সংস্কৃতিকর্মীদের অগ্রনী ভূমিকা পালন করতে হবে। মূখ্য আলোচকের ভাষনে চট্টগ্রাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. প্রকৌশলী রফিকুল আলম বলেন, চট্টগ্রাম সংস্কৃতি উৎসবের প্রস্তুতি সভায় বক্তাগণ বলেছেন- ঐতিহ্যগত বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র। এই ভুখন্ডের রাজনীতি, গণতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধ, শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সকল ধর্মীয় সম্প্রদায় ও নৃ গোষ্ঠী সমানভাবে অবদান রেখেছেন। এই ধারাকে কলঙ্কিত করতে চাই একটি উগ্র ধর্মান্ধ মানবতা বিরোধী অপশক্তি। এদের বিরুদ্ধে সংস্কৃতিকর্মীদের প্রতিরোধের ব্যারিকেড গড়ে তুলতে হবে। তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রামে সংস্কৃতির গৌরবোজ্জল ঐতিহ্য রয়েছে। অস্বীকার করার উপায় নেই তা এখন অতীতত, বর্তমান অনুজ্জল এবং ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে সংস্কৃতিকর্মীদের কর্মকান্ড ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির উপর। মনে রাখতে হবে ৫০, ৬০ ও ৭০ দশকের বাঙালি সংস্কৃতিকে যাঁরা ঋদ্ধ করেছিলেন তারা স্ব স্ব ক্ষেত্রে ঋত্বিকজন ছিলেন। তাঁরা বাঙালির সংস্কৃতিকে ত্যাগ ও শ্রমে ঋদ্ধ করেছেন। তাই বলি তথাকথিত পোষাকী সংস্কৃতি চর্চা ও আনুষ্ঠানিকতা বাঙালি জাতিসত্তার জন্য অশানিত সংকেত। বিশেষ অতিথির ভাষনে চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন বলেন, বাঙালির সংস্কৃতি বিশ্ব সভ্যতার ¯্রােতস্বিনী ধারা। এ থেকে উৎসারিত হয়েছে মানবতার জয়গান। এই ধারা থেকে সৃষ্টি হয়েছে বিশ্ব সাহিত্য-সংস্কৃতির হিরকখন্ড। বাঙালি সংস্কৃতি একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার রূপরেখা। এখানে সবধর্মের লোকায়ত বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটেছে এটাই বাঙালি জাতিসত্বার ভিত্তি। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী সংস্কৃতি উৎসবে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সংস্কৃতিবান্ধব সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য সরকারের ভেতরেই একটি কুচক্রী মহল প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে এবং চট্টগ্রামে উম্মুক্ত প্রাঙ্গনে সংস্কৃতি চর্চায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই চিহ্নিত অপশক্তিকে প্রতিহত করতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে সংস্কৃতি উৎসব উদযাপন পরিষদের আহবায়ক চসিক কাউন্সিলর এইচ এম সোহেল বলেন, চট্টগ্রাম নগরীতে সাংস্কৃতিক উৎসব আরো বড় পরিসরে করার আকাঙ্খা ছিলো। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। তবে এবার যাত্রা শুরু হলো। তাই আগামীতে এই উৎসব বহুমাত্রিক ব্যঞ্জনায় আয়োজিত হবে। এই লক্ষ্যে আজ থেকে প্রতিদিন প্রস্তুতি অব্যাহত থাকবে। চট্টগ্রাম সংস্কৃতি স্কোয়ার্ডের সদস্য সচিব সংস্কৃতি কর্মী খোরশেদ আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংস্কৃতি উৎসবে বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি অনুপ বিশ্বাস, আইইবি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের নব নির্বাচিত সম্মানি সম্পাদক প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক, চসিক নির্বাহী প্রকৌশলী ঝুলন কুমার দাশ। সংস্কৃতি উৎসবে উপস্থিত ছিলেন মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুমন দেবনাথ, সংস্কৃতি কর্মী নজরুল মোস্তাফিজ, দীলিপ সেন গুপ্ত প্রমুখ। সংস্কৃতি উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দলীয় নৃত্য অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন চারুতা নৃত্যকলা একাডেমী। একক সংগীত পরিবেশন করেন বেতার ও টেলিভিশনের প্রবীণ ও নব প্রজন্মের শিল্পীবৃন্দ। সংস্কৃতি উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতেই সংগীত শিল্পী ওস্তাদ মিহির নন্দী, শিল্পী আবদুল জব্বার, শিল্পী বারী সিদ্দিকী, শিল্পী প্রবাল চৌধুরী, চট্টগ্রামের লোকজ্য শিল্পী শেফালী ঘোষ, শ্যাম সুন্দর বৈষ্ণব সহ- খ্যাতিমান ও প্রবীণ প্রয়াত শিল্পীদের স্মরণে তাঁদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এক মিনিট দাড়িয়ে নিরবতা পালন করা হয়।